AAIB, যা অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রকের অধীনস্থ, জানিয়েছে, দুর্ঘটনা নিয়ে তদন্ত শেষ হয়েছে বা চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো গেছে - এমন দাবি সঠিক নয়।

শেষ আপডেট: 13 February 2026 10:10
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এয়ার ইন্ডিয়ার AI-171 দুর্ঘটনার তদন্ত (Air India AI-171 crash investigation) নিয়ে নতুন জল্পনায় জল ঢালল এয়ারক্র্যাফট অ্যাকসিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো (Aircraft Accident Investigation Bureau - AAIB)। বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় এই তদন্তকারী সংস্থা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, তদন্ত এখনও চলছে, চূড়ান্ত রিপোর্ট তৈরি হয়নি। পাইলটের “ইচ্ছাকৃত কাজ”-এর জল্পনাকে তারা “ভুল ও কল্পনাপ্রসূত” বলে খারিজ করেছে (AAIB rejects intentional act claim)।
AAIB, যা অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রকের অধীনস্থ, জানিয়েছে, দুর্ঘটনা (Ahmedabad Crash) নিয়ে তদন্ত শেষ হয়েছে বা চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো গেছে - এমন দাবি সঠিক নয়।
এই প্রতিক্রিয়া আসে একদিন পর, যখন ইতালির দৈনিক Corriere della Sera একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সেই রিপোর্টে বিমানটির ফুয়েল সুইচে কোনও প্রযুক্তিগত ত্রুটি ছিল না বলে দাবি করা হয় এবং ইঙ্গিত দেওয়া হয়, AI-171-এর ফুয়েল সুইচ বন্ধ করা হয়েছিল “ইচ্ছাকৃতভাবে”।
ইতালীয় সংবাদপত্রটি পশ্চিমী বিমান চলাচল সংস্থার সূত্র উদ্ধৃত করে জানায়, তদন্ত প্রায় শেষের পথে এবং বিমানটি ভেঙে পড়ার কারণ, দুই ফুয়েল সুইচের একযোগে বন্ধ হয়ে যাওয়া, যা নাকি এক পাইলট করেছিলেন।
AAIB-এর অবস্থান
এই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে AAIB স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছে, “তদন্ত এখনও প্রক্রিয়াধীন। কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো হয়নি।”
তদন্তকারী সংস্থা তাদের প্রাথমিক রিপোর্টের প্রসঙ্গ টেনে বলেছে, আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনেই তদন্ত সম্পূর্ণ হলে তবেই চূড়ান্ত রিপোর্ট প্রকাশ করা হবে। সেই রিপোর্টে থাকবে সিদ্ধান্ত এবং ভবিষ্যতের জন্য নিরাপত্তা সংক্রান্ত সুপারিশ।
ভয়াবহ দুর্ঘটনার দিন
২০২৫ সালের ১২ জুন, আমদাবাদ বিমানবন্দরের কাছে টেক-অফের কিছুক্ষণের মধ্যেই ভেঙে পড়ে এয়ার ইন্ডিয়ার (Air India)-র ফ্লাইট AI-171। বোয়িংয়ের Boeing ৭৮৭ ড্রিমলাইনার মডেলের বিমানটি উড়ানের মাত্র ৩২ সেকেন্ডের মাথায় দুই ইঞ্জিনের বিকল হয়ে একটি মেডিক্যাল কলেজের হোস্টেলের উপর আছড়ে পড়ে।
এই দুর্ঘটনায় মোট ২৬০ জনের মৃত্যু হয়। বিমানে থাকা ২৪২ জনের মধ্যে ২৪১ জনই প্রাণ হারান।
প্রাথমিক রিপোর্টে কী বলা হয়েছিল?
দুর্ঘটনার একমাস পর প্রকাশিত ১৫ পাতার প্রাথমিক রিপোর্টে AAIB দুর্ঘটনার শেষ কয়েক মুহূর্তের বিবরণ দেয়। তবে দুই ইঞ্জিন একসঙ্গে বিকল হওয়ার সুনির্দিষ্ট কারণ জানানো হয়নি।
রিপোর্ট অনুযায়ী, ফুয়েল কাট-অফ সুইচ দুটি প্রায় একই সময়ে, এক সেকেন্ডের ব্যবধানে, ‘RUN’ থেকে ‘CUTOFF’ অবস্থানে সরানো হয়েছিল। ককপিট ভয়েস রেকর্ডিংয়ে শোনা যায়, এক পাইলট অন্যজনকে জিজ্ঞেস করছেন, “আপনি কেন কাট-অফ করলেন?” উত্তরে অন্য পাইলট বলেন, “আমি করিনি।”
তবে প্রশ্ন থেকেই যায়, কীভাবে বা কেন দুই ইঞ্জিন একই সঙ্গে বিকল হয়ে পড়ল? সমস্যা ঠিক কোথায় ছিল?
ইতালীয় রিপোর্টে কী দাবি?
Corriere della Sera-র রিপোর্টে দাবি করা হয়, ভারতীয় তদন্তকারীরা তাঁদের চূড়ান্ত রিপোর্টে উল্লেখ করতে চলেছেন যে, AI-171 ভেঙে পড়ার কারণ ছিল এক পাইলটের “ইচ্ছাকৃত” পদক্ষেপ— ফুয়েল সুইচ ‘RUN’ থেকে ‘CUTOFF’-এ সরানো।
সংবাদপত্রটির দাবি, পরিষ্কার করা ককপিট ভয়েস রেকর্ডিং বিশ্লেষণ করে নাকি চিহ্নিত করা গেছে, কোন পাইলট সুইচটি সরিয়েছিলেন।
রিপোর্টে বলা হয়, এটি কোনও ভুল ছিল না। অডিও বিশ্লেষণে নাকি স্পষ্ট হয়েছে, কে সেই ‘মারাত্মক পদক্ষেপ’ নিয়েছিলেন। যদিও সরাসরি দায় নির্দিষ্ট করে বলা হয়নি, তবে কেন্দ্রীয় নাম হিসেবে উঠে এসেছে বিমানের পাইলট কমান্ডার Sumeet Sabharwal-এর নাম। তিনিও ওই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান।
রহস্য এখনও অমীমাংসিত
তদন্তের চূড়ান্ত রিপোর্ট প্রকাশের আগে পাইলটের “ইচ্ছাকৃত কাজ” নিয়ে এই জল্পনা ঘিরে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তবে আপাতত সরকারি অবস্থান স্পষ্ট - তদন্ত শেষ হয়নি, এবং কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছনো যায়নি।
এখন নজর, আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনে প্রকাশিত হতে চলা চূড়ান্ত তদন্ত রিপোর্টে, যেখানে মিলতে পারে AI-171 দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ।