এই মামলার প্রেক্ষিতে জানা যায়, এএআইবি-র প্রাথমিক রিপোর্টে বলা হয়েছে, বিমানের উড়ানের কিছুক্ষণের মধ্যেই দু’টি ইঞ্জিনের জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছিল।

দুর্ঘটনায় মৃত পাইলট
শেষ আপডেট: 7 November 2025 14:37
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আমদাবাদে (Ahmedabad) এয়ার ইন্ডিয়ার বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনার দুর্ঘটনায় (Air India Plane Crash) পাইলটকে (Pilot) দায়ী করা যায় না - সাফ জানিয়ে দিল সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। দুর্ঘটনায় নিহত পাইলট-ইন-কমান্ড সুমিত সাব্রেওয়ালের বাবা পুষ্করাজ সাব্রেওয়ালের করা মামলায় শীর্ষ আদালত কেন্দ্রীয় সরকার, ডিরেক্টরেট জেনারেল অব সিভিল এভিয়েশন (DGCA) এবং এয়ারক্রাফ্ট অ্যাকসিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো (AAIB)-কে নোটিস পাঠিয়েছে।
শুক্রবার এই ঘটনা সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে বিচারপতি সূর্য কান্ত মৃত পাইলটের বাবার (Father of Dead Pilot) উদ্দেশে বলেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। কিন্তু আপনি নিজের ছেলেকে দোষী ভাববেন না। তার প্রয়োজনও নেই। দেশে কেউই বিশ্বাস করে না যে দুর্ঘটনায় পাইলটের কোনও দোষ ছিল।” তিনি আরও বলেন, “প্রাথমিক রিপোর্টেও পাইলটের বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ বা ইঙ্গিত নেই। ককপিট রেকর্ডে দেখা গিয়েছে, এক পাইলট অন্যজনকে জিজ্ঞাসা করেন জ্বালানি বন্ধ করা হয়েছিল কি না, উত্তরে তিনি ‘না’ বলেন।”
পাইলটের বাবার আইনজীবী আদালতে জানান, ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল–এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে দুর্ঘটনায় পাইলটের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। উত্তরে বিচারপতি বলেন, “আমরা বিদেশি রিপোর্ট নিয়ে মাথা ঘামাই না। ওটা কেবল বিভ্রান্তিকর প্রতিবেদন।”
এই মামলার প্রেক্ষিতে জানা যায়, এএআইবি-র (AAIB) প্রাথমিক রিপোর্টে বলা হয়েছে, বিমানের উড়ানের কিছুক্ষণের মধ্যেই দু’টি ইঞ্জিনের জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছিল। মাত্র ১০ সেকেন্ডের মধ্যে সুইচগুলি আবার চালু করা হলেও ততক্ষণে ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে যায়, যার ফলে বিমানটি ভেঙে পড়ে এবং দুর্ঘটনায় ২৬০ জনের মৃত্যু হয়।
পাইলটের পরিবারের দাবি, এএআইবি-র তদন্ত সঠিক নয়। তাই তারা একটি বিচারবিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠনের আবেদন জানিয়েছেন। তাঁদের আইনজীবী গোপাল শঙ্করনারায়ণ বলেন, “বিশ্বজুড়ে বোয়িং বিমানের নানা প্রযুক্তিগত সমস্যা ধরা পড়েছে। তাই স্বাধীন তদন্ত অপরিহার্য।” সুপ্রিম কোর্ট জানায়, একই বিষয়ে আরেকটি আবেদন এসেছে। দুই মামলাই আগামী ১০ নভেম্বর একসঙ্গে শোনা হবে।
এদিকে, এয়ার ইন্ডিয়ার সিইও ক্যাম্পবেল উইলসন জানিয়েছেন, “এএআইবি-র রিপোর্টে এয়ারলাইন্সের অপারেশন বা প্রোটোকল নিয়ে কোনও ত্রুটি পাওয়া যায়নি। তবুও আমরা নিজেদের কাজের মান আরও উন্নত করতে চাই।” তিনি আরও বলেন, “এই দুর্ঘটনা আমাদের কাছে আত্মসমালোচনার সুযোগ এনে দিয়েছে। তবে শুধু আমাদের নয়, গোটা বিশ্বের কাছেই এটি শিক্ষণীয় ব্যাপার।”
সম্প্রতি ‘ফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান পাইলটস’ (Pilots' Body) দাবি করেছিল, সব বোয়িং ৭৮৭ বিমানকে অবিলম্বে 'গ্রাউন্ড' (Ground) করে দেওয়ার। সংস্থার বক্তব্য, একের পর এক ত্রুটি ইঙ্গিত দিচ্ছে বিমানের পরিষেবা ও রক্ষণাবেক্ষণে গুরুতর ঘাটতির দিকে।
তবে এয়ার ইন্ডিয়া এই অভিযোগ সরাসরি খারিজ করেছে। সংস্থার মুখপাত্র জানিয়েছেন, AI-154 ফ্লাইটের ক্ষেত্রে একটি ‘টেকনিক্যাল ইস্যু’ দেখা দিয়েছিল, তবে তা বিদ্যুতের ত্রুটি নয়। বিমানটি দুবাইয়ে নিরাপদে নামে এবং যাত্রীদের একই বিমানে দিল্লি পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়া হয়।