সম্প্রতি এয়ার ইন্ডিয়ার ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনার তদন্ত নিয়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে যে ধরনের জল্পনা তৈরি হয়েছে, তা "অসময়ে এবং অনুমানভিত্তিক" বলে জানিয়েছেন মার্কিন ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড (NTSB)-এর প্রধান জেনিফার হোমেন্ডি।

কী বলছে মার্কিন সংস্থা?
শেষ আপডেট: 19 July 2025 15:13
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সম্প্রতি এয়ার ইন্ডিয়ার ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনার তদন্ত নিয়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে যে ধরনের জল্পনা তৈরি হয়েছে, তা "অসময়ে এবং অনুমানভিত্তিক" বলে জানিয়েছেন মার্কিন ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড (NTSB)-এর প্রধান জেনিফার হোমেন্ডি। শুক্রবার এক্স-এ একটি পোস্টে তিনি লিখেছেন, “এই ধরনের তদন্তে সময় লাগে। এখনই কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছনো ঠিক নয়।”
১২ জুন ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে ২৬০ জন যাত্রীর। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে ভারতের এয়ারক্র্যাফট অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো (AAIB)-র নেতৃত্বে চলছে যৌথ তদন্ত, যেখানে সহায়তা করছে মার্কিন তদন্তকারী সংস্থা NTSB-ও। এয়ার ইন্ডিয়া ও সংস্থার সিইও ক্যাম্পবেল উইলসনও জনসাধারণকে অনুরোধ করেছেন, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনও সিদ্ধান্তে না আসার জন্য।
AAIB-এর প্রাথমিক তদন্ত রিপোর্টে উঠে এসেছে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। সেখানে বলা হয়েছে, বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনার বিমানের দুটি ফুয়েল কন্ট্রোল সুইচ উড়ানের ঠিক পরেই ‘কাট অফ’ অবস্থায় ঘুরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এর ফলে ইঞ্জিনে জ্বালানি পৌঁছনো বন্ধ হয়ে যায়। দশ সেকেন্ড পর সেগুলি আবার স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরানো হলেও, ততক্ষণে দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়নি।
বিমানের ককপিট ভয়েস রেকর্ডিং অনুসারে, ফার্স্ট অফিসার ক্লাইভ কুন্দের ক্যাপ্টেন সুমিত সাবরওয়ালকে প্রশ্ন করেছিলেন, কেন ওই সুইচ ঘোরানো হয়েছিল। উত্তরে ক্যাপ্টেন জানান, তিনি তা করেননি। ঠিক কীভাবে এবং কেন সুইচগুলি বন্ধ হয়ে গিয়েছিল, সেটাই এখন তদন্তকারীদের প্রধান খোঁজার জায়গা। এটি মানবিক ভুল, প্রযুক্তিগত ত্রুটি না কি ইচ্ছাকৃত কিছু—সেসব দিকই খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
AAIB-এর প্রাথমিক রিপোর্ট প্রকাশের পর, ভারতের অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রক দেশের সমস্ত বোয়িং ৭৩৭ ও ৭৮৭ বিমানে ফুয়েল কন্ট্রোল সুইচ পরীক্ষা করার নির্দেশ দিয়েছে। যদিও এখন পর্যন্ত বোয়িং বা GE অ্যারোস্পেস নির্মিত ইঞ্জিনে কোনও যান্ত্রিক ত্রুটি ধরা পড়েনি। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের তদন্তে পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট প্রকাশে এক বছর বা তারও বেশি সময় লেগে যেতে পারে। সেই রিপোর্টেই বিস্তারিতভাবে জানানো হবে দুর্ঘটনার সম্ভাব্য কারণ এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা এড়াতে করণীয় পদক্ষেপ।