৮০ বছরের বৃদ্ধ বাবাকে গাড়ির প্রথম সিটে হাত-পা বেঁধে তাজমহল দেখতে ঢুকে গেল বাকি পরিবার।

এই নৃশংস ঘটনায় সকলেরই চক্ষু চড়কগাছ হয়ে গিয়েছে।
শেষ আপডেট: 19 July 2025 14:14
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মহারাষ্ট্র থেকে বেড়াতে এসে তাজমহল দেখার শখ কত! ৮০ বছরের বৃদ্ধ বাবাকে গাড়ির প্রথম সিটে হাত-পা বেঁধে তাজমহল দেখতে ঢুকে গেল বাকি পরিবার। তাজমহলের পার্কিং লটের এক কর্মী অশীতিপর বৃদ্ধকে সংজ্ঞাহীন অবস্থায় দেখতে পেয়ে গাড়ির কাচ ভেঙে মুমূর্ষু বাবাকে উদ্ধার করেন। এই নৃশংস ঘটনায় সকলেরই চক্ষু চড়কগাছ হয়ে গিয়েছে।
ইদানীং কয়েকদিন ধরেই আগ্রায় প্রচণ্ড গরম ও আর্দ্রতার আবহাওয়া চলছে। সেই পরিবেশে তাজমহলের বাইরে গাড়ির কাচ বন্ধ করে ৮০ বছরের বাবাকে হাত-পা বেঁধে সামনের আসনে বসিয়ে রেখে পৃথিবীর সপ্তম আশ্চর্যের একটি আশ্চর্য দেখতে চলে যান পরিবারের বাকি সদস্যরা।
পার্কিং লটের ওই কর্মী প্রথম দেখতে পান বৃদ্ধকে। শ্বাসপ্রশ্বাসের জন্য গাড়ির একটি কাচ সামান্য ফাঁক করা থাকলেও তার মধ্যে হাত গলিয়ে দরজা খোলার সুযোগ ছিল না। তাই কাচ ভেঙে অ্যাম্বুল্যান্স ডেকে সঙ্গে সঙ্গে মরণাপন্ন লোকটিকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পুলিশ জানিয়েছে, গাড়িটিতে মহারাষ্ট্র সরকার লেখা একটি প্লেটও মিলেছে।
বৃদ্ধ ভদ্রলোকের ছোট ছেলের দাবি, তিনি শৌচাগারে গিয়েছিলেন। এর মধ্যেই এই ঘটনা ঘটে গিয়েছে। যদিও বাকিরা গিয়েছিলেন তাজমহল দেখতে। পরিবারের তরফে হাসপাতাল ও পুলিশকে বলা হয়েছে, উনি স্মৃতিভ্রংশতায় ভুগছিলেন। নাটকীয়তার এখানেই শেষ নয়, পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে ছোট ছেলে অ্যাম্বুল্যান্স থেকেই ফোন করেন তাঁর দাদাকে।
ফোন পেয়ে দাদা সেই গাড়িতেই অ্যাম্বুল্যান্সের পিছু ধাওয়া করে এসে আগ্রা দুর্গের কাছে বাবাকে নামিয়ে নিয়ে দুই ভাই দ্রুত পাততাড়ি গুটিয়ে পালিয়ে যান। এই পুরো ঘটনাই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে গিয়েছে। ট্যুরিজম থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক জানান, পুলিশ পৌঁছনোর আগেই গোটা পরিবার উধাও হয়ে যায়। ফলে আর কিছু জানা সম্ভব হয়নি। আগ্রা পর্যটক কল্যাণ সংগঠনের সম্পাদক বিশাল শর্মা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করে বলেন, এতো অপরাধীর মতো কাজ। এটা শুধু অমানবিক কাজ নয়, অপরাধীর মতো কাজ। যারা এই কাজ করেছে, তাদের খোঁজ করে বিচারের ব্যবস্থা করা উচিত বলে মনে করেন তিনি।