মুম্বইয়ের অসংখ্য জায়গায় পায়রাদের খাবার দেয় সাধারণ মানুষ।

পায়রার বিষ্ঠা মানবশরীরের পক্ষে অত্যন্ত বিপজ্জনক।
শেষ আপডেট: 5 July 2025 13:43
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মহারাষ্ট্রের বিধানসভায় ঢুকে পড়ল পায়রা। শেষমেশ মহারাষ্ট্র সরকার বৃহন্মুম্বই পুরসভাকে অবিলম্বে শহরের সমস্ত ‘কবুতরখানা’কে বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছে। মুম্বইয়ের অসংখ্য জায়গায় পায়রাদের খাবার দেয় সাধারণ মানুষ। তাতে আনন্দের সঙ্গে যোগ দেয় শিশুরাও। বলিউডের বিভিন্ন ছবিতে এই দৃশ্য দিয়েই মুম্বইয়ের প্রতীকী দৃশ্য তুলে ধরা হয়। কিন্তু, পায়রার বিষ্ঠা মানবশরীরের পক্ষে অত্যন্ত বিপজ্জনক। সরকারের ঘরে বহুকাল ধরে এ ধরনের বিপজ্জনক কাজের বিষয়ে নালিশ আসছিল। পায়রার বিষ্ঠার সংস্পর্শে এলে শ্বাসকষ্টজনিত অসুখ বা হাঁপানি ধরতে পারে।
উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার মহারাষ্ট্র বিধান পরিষদে বিষয়টি উত্থাপন করেন শিবসেনা নেত্রী ও মনোনীত বিধায়ক মণীষা কায়ান্ডে। তিনি বলেন, কবুতরখানা জনস্বাস্থ্যের দিনদিন অবনতি ঘটাচ্ছে। এর কাছাকাছি থাকা মানুষের জীবনকে বিপজ্জনক করে তুলছে। কারণ, পায়রার বিষ্ঠা ও খসে পড়া পালক শ্বাসপ্রশ্বাসের অসুখের অন্যতম কারণ।
বিধান পরিষদের আরেক মনোনীত বিধায়ক, বিজেপি নেত্রী চিত্রা ওয়াঘ এর সঙ্গে বলেন, পায়রা ঘটিত অসুখে তাঁরই পরিবারের একজনের মৃত্যু পর্যন্ত হয়েছে। পায়রার বিষ্ঠার কারণে আমার এক আত্মীয়া শ্বাসকষ্টে মারা গিয়েছেন বলে তাঁর দাবি। তাঁদের দাবি মতো, উপমুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডে, নগরোন্নয়ন মন্ত্রী উদয় সামন্ত সভায় জানান, মুম্বইয়ে এরকম ৫১টি কবুতরখানা রয়েছে।
সামন্ত সকলকে আশ্বস্ত করে জানান, পুরসভাকে মাসখানেকের মধ্যে পুরসভাকে সচেতনতা প্রচার শুরু করতে বলা হবে। পুরসভাকে এও বলা হচ্ছে যে, এই মুহূর্তে কবুতরখানা বন্ধের প্রক্রিয়া চালু করতে। একইসঙ্গে সামন্ত বলেন, সরকারি প্রচেষ্টা ছাড়াও জনসাধারণের মধ্যেও সচেতনতা গড়ে ওঠা জরুরি। পায়রাকে খাওয়ালে যে সমূহ বিপদ অপেক্ষা করছে, সে বিষয়ে মানুষকেও জানতে হবে, শেখাতে হবে।
তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, শহরের গিরগাঁও চৌপট্টির মতো জায়গায় ফাস্টফুডের দোকানগুলির উচ্ছিষ্ট খায় শয়ে হাজারে পায়রার দল। দাদর-এর কবুতরখানা বেশ বিখ্যাত পায়রার ঝাঁককে খাওয়ানোর। কিছুদিনের জন্য সেটা বন্ধ করে দেওয়া হলেও বাসিন্দারা পায়রাদের খেতে দেওয়ায় তা ফের চালু হয়ে গিয়েছে।
জবাবে উপমুখ্যমন্ত্রী শিন্ডে বলেন, অস্বীকৃত কবুতরখানা যেমন, সান্তাক্রুজ পূর্ব, দৌলত নগর ও সান্তাক্রুজ পশ্চিমের কবুতরখানা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পুরসভা ওইসব জায়গায় ট্রাফিক আইল্যান্ড ও মায়াওয়াকি ধাঁচের বাগান তৈরি করে দিয়েছে। আশা করা যায়, পুরসভা এভাবে বাকিগুলিও বন্ধ করে দেবে। সরকার পদক্ষেপ করতে চাইলেও বিভিন্ন তরফ থেকে এনিয়ে বাধা আসে প্রতিবারই। যেমন- গতবছর ধনতেরাসের সময় দক্ষিণ মুম্বইয়ের গোয়ালিয়া ট্যাঙ্কের কবুতরখানা বন্ধ করে দেওয়ার সময় পশুপাখিপ্রেমীরা রাস্তায় নেমেছিল।