দাবি করেছিল ২০ হাজার টাকা, নাহলেই ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ফাঁস করে দেওয়ার হুমকি।

আত্মঘাতী ছাত্র
শেষ আপডেট: 27 October 2025 20:17
দ্য ওয়াল ব্যুরো: তিন বোনের অশ্লীল ছবি-ভিডিও এআই দিয়ে তৈরি দেখিয়ে ব্ল্যাকমেল করা হচ্ছিল এক কলেজ পড়ুয়াকে। সেই মানসিক চাপ সহ্য করতে না পেরে শেষমেশ আত্মহত্যা করল ১৯ বছরের ওই তরুণ। ঘটেছে হরিয়ানার ফরিদাবাদে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতের নাম রাহুল ভারতী, সে ফরিদাবাদের বসেলওয়া কলোনির বাসিন্দা। অভিযুক্তরা রাহুলের তিন বোনের এআই–জেনারেটেড নগ্ন ছবি ও ভিডিও বানিয়ে ক্রমাগত হুমকি দিচ্ছিল বলে খবর। দাবি করেছিল ২০ হাজার টাকা, নাহলেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ফাঁস করে দেওয়ার হুমকি।
রাহুল ফরিদাবাদের DAV কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ছিল। পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে দু'জনের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হয়েছে, তাদের মধ্যে একজন রাহুলের বন্ধুও রয়েছে।
রাহুলের বাবা মনোজ ভারতী জানিয়েছেন, প্রায় দু'সপ্তাহ আগে থেকে এই ব্ল্যাকমেল শুরু হয়। ছেলের মোবাইল হ্যাক করে অভিযুক্তরা তার ও তার বোনদের এআই–তৈরি অশ্লীল ছবি পাঠাত হোয়াটসঅ্যাপে।
মনোজ বলেন, “এই ঘটনার পর থেকে ছেলের ব্যবহার একেবারে পালটে গিয়েছিল। সে চুপচাপ হয়ে যায়, ঠিকমতো খেত না, সারাক্ষণ একা ঘরে থাকত।”
শনিবার সন্ধ্যা সাতটা নাগাদ রাহুল নিজের ঘরে সালফাস (এক ধরনের কীটনাশক) খায়। পরিবার দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে গেলেও তাকে বাঁচানো যায়নি।
পরিবারটি বিহারের সিওয়ান জেলার বাসিন্দা হলেও প্রায় ৫০ বছর ধরে ফরিদাবাদেই থাকত। মনোজ পেশায় ড্রাইভার। রাহুল ছিল তাঁর একমাত্র ছেলে, তিন মেয়ের মধ্যে দু'জনের বিয়ে হয়ে গেছে।
রাহুলের ফোন পরীক্ষা করে দেখা যায়, ‘সাহিল’ নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে তার একাধিক হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট ছিল। সেই চ্যাটে সাহিল রাহুলকে ছবি–ভিডিও পাঠিয়ে টাকার দাবি করে এবং হুমকি দেয়, টাকা না পেলে সেগুলো সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেবে।
শেষ কথোপকথনে সাহিল রাহুলকে আত্মহত্যা করতে প্ররোচিতও করে। এমনকি কীভাবে মৃত্যু হতে পারে, তারও নির্দেশ দেয়।
রাহুলের বাবা অভিযোগ করেছেন, তাঁর ছেলের বন্ধু নীরজও এই ঘটনায় জড়িত থাকতে পারে। মৃত্যুর ঠিক আগে রাহুলের শেষ ফোন কল ছিল নীরজের সঙ্গেই।
ফরিদাবাদ পুরনো থানার ইনচার্জ বিষ্ণু কুমার জানিয়েছেন, “সাহিল ও নীরজ, দু’জনকেই চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে। এই ঘটনা এআই প্রযুক্তির ভয়ঙ্কর অপব্যবহারের দিকটা স্পষ্ট করে দিচ্ছে।”