বিয়ের প্রতিশ্রুতি ভেঙে প্রতারণার অভিযোগ তুলে ভিডিও বার্তা রেখে আত্মঘাতী আগরার এক তরুণী। অভিযোগের জেরে তাজগঞ্জ থানার কনস্টেবল জে ভি গৌতমকে সাসপেন্ড করেছে পুলিশ।

তরুণীর ভিডিও বার্তা
শেষ আপডেট: 13 March 2026 14:55
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বছরের পর বছর একসঙ্গে থাকার পর প্রতারণার অভিযোগ। সেই অভিযোগ ভিডিও বার্তায় তুলে আত্মঘাতী হলেন এক তরুণী। ঘটনাটি উত্তরপ্রদেশের (Uttar Pradesh) আগরার (Agra)। অভিযোগের তির স্থানীয় থানার এক পুলিশ কনস্টেবলের (Police Constable) দিকে। ইতিমধ্যেই অভিযুক্ত কনস্টেবলকে সাসপেন্ড (Suspend) করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
অভিযুক্ত জে ভি গৌতম (JV Gautam) নামে ওই কনস্টেবল তাজগঞ্জ থানায় (Tajganj Police Station) কর্মরত ছিলেন। মৃত তরুণীর দাবি, গত চার বছর ধরে তাঁদের মধ্যে লিভ-ইন সম্পর্ক (Live-in Relationship) ছিল। বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েই কনস্টেবল তাঁর সঙ্গে সংসার করতেন। কিন্তু পরে বিয়ে করতে অস্বীকার করেন।
তরুণীর অভিযোগ, এই সময়ের মধ্যে তাঁকে শারীরিক (Physical) এবং মানসিকভাবে (Mental) অত্যাচার করা হয়েছে। তিনি থানায় গিয়ে অভিযোগ জানানোর চেষ্টা করলেও কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি। তাঁর কথায়, থানায় তাঁকে বলা হয়েছিল এই বিষয়ে কিছু করা সম্ভব নয় এবং ওই কনস্টেবলের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হবে না।
মৃত্যুর আগে করা একাধিক ভিডিও বার্তায় (Video Message) তরুণী জানান, কনস্টেবলের পরিবার এই বিয়েতে রাজি নয়। জে ভি গৌতম ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা তাঁকে মানসিকভাবে ভেঙে দিয়েছেন এবং প্রতারণা করেছেন। চার বছর একসঙ্গে থাকার পর এখন ওই কনস্টেবল অন্য এক মহিলাকে বিয়ে করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, যা তিনি মেনে নিতে পারেননি।
ভিডিওতে তরুণী বলেন, “জে ভি গৌতম এবং তাঁর পুরো পরিবারই আমার মৃত্যুর জন্য দায়ী। তারা আমাকে এতটাই মানসিকভাবে ভেঙে দিয়েছে যে আমি আর বাঁচতে পারছি না।” একই সঙ্গে তিনি উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ (Yogi Adityanath) এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির (Narendra Modi) কাছেও ন্যায়বিচারের আবেদন জানান। তাঁর বক্তব্য, জীবিত অবস্থায় তিনি বিচার পাননি, মৃত্যুর পর অন্তত বিচার হোক।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, তরুণীর বাড়ি উত্তরপ্রদেশের কাসগঞ্জ জেলায় (Kasganj District)। তাঁর আগের বিয়ে (Divorced)বেশিদিন থাকেনি এবং আগরায় একটি বেসরকারি চাকরি (Private Job) করতেন। সেই সময়ই তাঁর সঙ্গে পরিচয় হয় ওই কনস্টেবলের।
তরুণীর ভিডিও ভাইরাল (Viral Video) হওয়ার পর বিষয়টি উচ্চপদস্থ কর্তাদের নজরে আসে সেটি। এরপর অভিযুক্ত কনস্টেবল জে ভি গৌতমকে সাসপেন্ড করা হয়। মৃত তরুণীর বাবার দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে থানায় মামলা (Case) রুজু হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, পুরো ঘটনার তদন্ত (Investigation) শুরু হয়েছে।