গত ৯ ফেব্রুয়ারি থেকে নিখোঁজ ছিলেন সাকেত, বনিত পুলিশে এবং তাঁর পরিবারকে খবর দেয়। অবশেষে শনিবার রাতে তাঁর দেহ উদ্ধার হয়। আনজা ও বার্কলে হিলস এলাকা থেকে মেলে সাকেতের পাসপোর্ট এবং ল্যাপটপ।

ক্যালিফোর্নিয়ায় নিখোঁজ ভারতীয় ছাত্রের রহস্যমৃত্যু
শেষ আপডেট: 16 February 2026 12:29
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ক্যালিফোর্নিয়ায় নিখোঁজ ভারতীয় ছাত্রের রহস্যমৃত্যুকে (Indian Student's death in California) কেন্দ্র করে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসছে। মৃত্যুর আগে তাঁর আচরণে বদল এসেছিল, একথা আগেই জানিয়েছেন সাকেত শ্রীনিবাসাইয়ার (Saketh Sreenivasaiah) রুমমেট বনিত সিং (Baneet Singh)। তাঁর কথায়, শেষের কয়েকদিন খাওয়াদাওয়া কমে গিয়েছিল, বাথরোব পরেই ঘরে ঘুরত, অনলাইন ক্লাস করত- সব মিলিয়ে সাকেত মানসিক চাপে ভুগছিলেন বলেই আশঙ্কা করেছেন তাঁর বন্ধু।
কর্নাটকের বাসিন্দা সাকেত শ্রীনিবাসাইয়া (Saketh Sreenivasaiah) ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্স করছিলেন। কেমিক্যাল অ্যান্ড বায়োমোলেক্যুলার ইঞ্জিনিয়ারিং-এর ছাত্র ছিলেন।
গত ৯ ফেব্রুয়ারি থেকে নিখোঁজ ছিলেন সাকেত, বনিত পুলিশে এবং তাঁর পরিবারকে খবর দেয়। অবশেষে শনিবার রাতে তাঁর দেহ উদ্ধার হয়। আনজা ও বার্কলে হিলস এলাকা থেকে মেলে সাকেতের পাসপোর্ট এবং ল্যাপটপ।
লিংকডইনে একটি পোস্টে সাকেতের রুমমেট জানান, তাঁর বন্ধু বেশ কয়েকদিন ধরেই অদ্ভুত আচরণ করছিল। কিছুই প্রায় খেতেন না, মাঝেমধ্যে চিপস বা কুকিস খেয়ে দিন কাটিয়ে দিত। কথা কম বলছিলেন, ঘুমাতেন না।
বনিত আরও লেখেন, "একদিন সাকেত লাল বাথরোব (red bathrobe) পরেই ক্লাস করেন। জিজ্ঞেস করা হলে বলেছিল, ঠান্ডা লাগছে তাই পরেছি, কে কী ভাবল আমার আর এসে যায় না কিছুতেই।" তখন বিষয়টা মজা ভেবে উড়িয়ে দিয়েছিলেন কিন্তু গোটা ঘটনার পর বুঝতে পেরেছেন তাঁর বন্ধু কিছু নিয়ে মানসিকভাবে অশান্তির মধ্যে ছিল।
৯ ফেব্রুয়ারি সাকেত নিখোঁজ হওয়ার পর কর্নাটক সরকার (Karnataka Govt) বিদেশ মন্ত্রককে হস্তক্ষেপ করার অনুরোধ জানায়। ১৪ ফেব্রুয়ারি লেক আঞ্জার কাছে তাঁর দেহ উদ্ধার হয়েছিল। সান ফ্রান্সিসকোর ভারতীয় কনস্যুলেট জানিয়েছেন, "মৃত পড়ুয়ার পরিবারকে সবরকমভাবে সাহায্য করা হবে। মৃতদেহ ভারতে পাঠানোর প্রক্রিয়াও শুরু হয়ে গিয়েছে ইতিমধ্যেই।"
সাকেত শ্রীনিবাসাইয়া আইআইটি মাদ্রাজের প্রাক্তনী ছিলেন। সহপাঠী ও সহকর্মীদের কাছে তিনি বুদ্ধিমান, বিনয়ী ও খুবই প্রাণবন্ত মানুষ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। এমন একজন মেধাবী পড়ুয়ার কীভাবে এমন পরিণতি হল তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে পরিবার ও বন্ধু মহলে।