নাবালিকাদের সুরক্ষার প্রশ্নে একচুলও নড়তে নারাজ কেন্দ্র। সুপ্রিম কোর্টে হলফনামা দিয়ে কেন্দ্র জানাল, ১৮ বছরই যৌন সম্মতির জন্য নির্ধারিত বয়স হিসেবে গ্রহণযোগ্য এবং যুক্তিসঙ্গত।

সুপ্রিম কোর্ট
শেষ আপডেট: 8 August 2025 19:15
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নাবালিকাদের সুরক্ষার প্রশ্নে একচুলও নড়তে নারাজ কেন্দ্র (Central Government)। সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court) হলফনামা দিয়ে কেন্দ্র জানাল, ১৮ বছরই যৌন সম্মতির জন্য নির্ধারিত বয়স হিসেবে গ্রহণযোগ্য এবং যুক্তিসঙ্গত। এর নীচে সম্মতির বয়স নামালে শিশুদের সুরক্ষার (Child Security) কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়বে এবং এই আইনকে অপব্যবহারের সুযোগ তৈরি হবে।
বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টে আলোচিত একটি মামলায় পকসো আইনে (Pocso Act) সাজাপ্রাপ্ত এক পুরুষের পক্ষে যুক্তি দিয়ে প্রবীণ আইনজীবী ইন্দিরা জয়সিং বলেন, অনেকক্ষেত্রেই নাবালিকা ও নাবালকের মধ্যে পারস্পরিক সম্মতিতে গড়ে ওঠা সম্পর্ক অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তাই যৌন সম্মতির বয়স ১৮ থেকে কমিয়ে ১৬ করার আর্জি জানান তিনি।
এর বিরোধিতায় কেন্দ্রের পক্ষে অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল ঐশ্বর্য ভাটি সাফ জানান, "১৮ বছর বয়সের সীমা কোনও খামখেয়ালি সিদ্ধান্ত নয়, এটি বহুদিনের আইনি-সাংবিধানিক ভাবনার ফসল। এই বয়সের আগে কোনও সম্পর্কেই সম্মতি ধরা উচিত নয়, কারণ নাবালিকা বা নাবালকের মানসিক পরিপক্বতা, সামাজিক পরিস্থিতি ও ক্ষমতার ভারসাম্যহীনতা এই সম্পর্ককে জটিল করে তোলে।"
‘সম্মতির দোহাইয়ে শোষণ বেড়ে যেতে পারে’
কেন্দ্রের দাবি, যদি আইনটি শিথিল করা হয়, তাহলে ‘সম্মতির’ অজুহাতে বহু নাবালিকা বা নাবালক শিকার হবে সম্পর্কগত ও যৌন শোষণের। এমনকি বাবা, আত্মীয় বা পরিচিতের হাতে শোষণের ঘটনাতেও অভিযুক্তরা নিজেদের নির্দোষ প্রমাণ করতে ‘সম্মতির’ যুক্তি তুলে ধরতে পারে। এতে ন্যায়বিচার যেমন বাধাপ্রাপ্ত হবে, তেমনি শিশু সুরক্ষা আইনগুলির (পকসো এবং ভারতীয় দণ্ডবিধির সংশোধিত সংস্করণ - ভারতীয় ন্যায় সনহিতা) কার্যকারিতা ভূলুণ্ঠিত হবে।
আদালতের হাতে থাক সিদ্ধান্ত, আইনে নয়
হলফনামায় আরও বলা হয়েছে, ব্যক্তিগত ক্ষেত্রে আদালত চাইলে প্রয়োজন অনুসারে ছাড় দিতে পারে, কিন্তু আইনের সাধারণ রূপে কোনও ছাড় রাখা উচিত নয়। কেননা এতে করে ‘ভালবাসার সম্পর্ক’ নামে বহু শিশুর শারীরিক ও মানসিক শোষণ, এমনকি পাচারের ঘটনাও বাড়তে পারে।
১৮ বছর বয়সের সীমা স্ববিরোধী নয়
কেন্দ্র জানিয়েছে, ১৮ বছরের নিচে যৌন সম্পর্ককে অপরাধ বলে ঘোষণা করা হয়েছে নাবালিকাদের ভঙ্গুর অবস্থানকে মাথায় রেখে। এটি সংবিধান ও শিশু সুরক্ষার দৃষ্টিকোণ থেকে একটি নীতিগত অবস্থান। কোনওভাবেই এটিকে স্বেচ্ছাচারী বা অযৌক্তিক বলা যাবে না।
সুপ্রিম কোর্টে শুনানি চলছে
বর্তমানে যে মামলাটি সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন, তাতে মূল প্রশ্ন কিশোর-কিশোরীর পারস্পরিক সম্পর্ককে কীভাবে আইন বিবেচনা করবে। আদালতের তরফে এখনো চূড়ান্ত রায় দেওয়া হয়নি।
তবে কেন্দ্রের স্পষ্ট অবস্থান, ‘‘আইন শিথিল করার অর্থ হবে শিশুদের শারীরিক অখণ্ডতা এবং সাংবিধানিক নিরাপত্তাকে দুর্বল করা। আইনকে যুগোপযোগী করতে গিয়ে যেন ন্যায় ও সুরক্ষা বিঘ্নিত না হয়।’’
এই প্রসঙ্গে দেশের বিভিন্ন হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টের একাধিক রায় তুলে ধরে কেন্দ্র জানায়, ১৮ বছর বয়সের সীমা এতদিন আইনগতভাবে সঠিক বলেই বিবেচিত হয়েছে। এখন সেই কাঠামোকে নড়বড়ে করে দিলে শিশুদের রক্ষা করার যে ‘ডিটারেন্ট ক্যারেক্টার’ বা বাধা দেওয়ার ক্ষমতা, তা হারিয়ে যাবে।