রাজ্য সরকারের তরফে পাল্টা যুক্তি, “ডিএ কোনও মৌলিক বা আইনগত অধিকার নয়। আর্থিক সামর্থ্য বিচার করেই রাজ্য ডিএ দেয়।”

ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 6 August 2025 12:42
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ডিএ ( DA Case) কোনও অনুগ্রহ নয়, এটা সরকারি কর্মীদের ন্যায্য অধিকার—বুধবার ডিএ সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে এমনই সুর শোনা গেল সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court Bench)। প্রশ্ন উঠল, দিল্লি কিংবা চেন্নাইয়ে কর্মরত পশ্চিমবঙ্গ (West Bengal) সরকারের কর্মীরা কেন্দ্রীয় হারে ডিএ পেলে, রাজ্যের কর্মীরা কেন বঞ্চিত?
বেঞ্চে মামলাকারী কর্মীদের আইনজীবী গোপাল চট্টোপাধ্যায় স্পষ্ট বলেন, “২০০৯ সালের রিভাইজড পে অ্যান্ড অ্যালোয়েন্স রুলস অনুযায়ী ২০০৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ডিএ প্রযোজ্য হওয়ার কথা। অথচ সরকার ২০০৮ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত সময়ের বকেয়া দিতে চাইছে না।”
তাঁর যুক্তি, “ডিএ কোনও দয়া নয়, এটি বেতন কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময় অন্তর দেওয়া বাধ্যতামূলক। এটিকে ইচ্ছাধীন বলে দেখা ঠিক নয়।”
আদালত এদিন সরাসরি রাজ্যের কাছে জানতে চায়, “ঠিক সময়ে ডিএ দেওয়া হয়নি কেন?” একই সঙ্গে বেঞ্চ প্রশ্ন তোলে, “পশ্চিমবঙ্গের সরকারি কর্মীদের দিল্লি, চেন্নাইয়ে কী হারে ডিএ দেওয়া হয়?”
জবাবে গোপালবাবুর দাবি, “নয়াদিল্লির বঙ্গভবন ও চেন্নাইয়ের ইউথ হোস্টেলে যাঁরা কর্মরত, তাঁদের ডিএ কেন্দ্রীয় নিয়মে দেওয়া হচ্ছে—এআইসিপিআই সূচক অনুযায়ী। অথচ, পশ্চিমবঙ্গে যাঁরা কর্মরত, তাঁদের সেই সুবিধা নেই।” তাঁর বক্তব্য, “একই নিয়মে নিযুক্ত কর্মচারীদের একাংশকে বেশি ডিএ ও অন্য অংশকে কম দেওয়া সমতার অধিকারে (সংবিধানের ১৪ নম্বর অনুচ্ছেদ) লঙ্ঘন।”
তবে রাজ্য সরকারের তরফে পাল্টা যুক্তি, “ডিএ কোনও মৌলিক বা আইনগত অধিকার নয়। আর্থিক সামর্থ্য বিচার করেই রাজ্য ডিএ দেয়।” শুনে বিচারপতি মিশ্র প্রশ্ন তোলেন, “ভোক্তা মূল্য সূচক মানা না হলে, ডিএ নির্ধারণের ভিত্তিই বা কী?”
প্রসঙ্গত, কেন্দ্রীয় শ্রম মন্ত্রকের অধীনস্থ শ্রম ব্যুরো প্রতি মাসে এআইসিপিআই অনুযায়ী মূল্যবৃদ্ধির সূচক প্রকাশ করে, যার ভিত্তিতেই কেন্দ্রীয় ডিএ নির্ধারিত হয়। মামলাকারীদের বক্তব্য, রাজ্যেরও সেই নিয়ম মেনে চলা উচিত।
প্রসঙ্গত, এর আগে সুপ্রিম কোর্ট রাজ্যকে বকেয়া ডিএ-র ২৫ শতাংশ মেটানোর নির্দেশ দিয়েছিল। ছয় সপ্তাহ সময়ও দিয়েছিল আদালত। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অর্থ জোগাড় সম্ভব হয়নি বলে জানিয়ে রাজ্য ফের ছয় মাস সময় চেয়েছে। সুপ্রিমকোর্টে চলছে ডিএ মামলার শুনানি। শীর্ষ আদালতে রাজ্য কী বলে, সেদিকে নজর রাখছেন সরকারি কর্মীরা।