নোটিসে বলা হয়েছে, পঞ্চায়েত প্রধানকে আগামী ২৭ অগস্টের মধ্যে নলবাড়ি গিয়ে সমস্ত নথি-সহ হাজিরা দিতে হবে

নিজস্ব চিত্র।
শেষ আপডেট: 5 August 2025 20:21
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অসম ফরেনার্স ট্রাইব্যুনালের নোটিস (Assam Tribunal's Notice) পৌঁছেছে কোচবিহারের মাথাভাঙার নির্বাচিত পঞ্চায়েত প্রধানের দফতরে (Cooch Behar Panchayat Pradhan)। নাগরিকত্ব সংক্রান্ত একটি মামলায় পঞ্চায়েতের জারি করা শংসাপত্রের ভেরিফিকেশনের জন্য (Citizenship Proof Documents) হাজিরা চাওয়া হয়েছে অসমের নলবাড়ি জেলার তরফে। বিষয়টি সামনে আসতেই শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক চাপানউতর।
হাজরাহাট-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান বিমানা বর্মনের দাবি, এখনও পর্যন্ত সরকারি ভাবে তাঁর হাতে কোনও নোটিস আসেনি। কিন্তু মিনতি রায় নামের এক মহিলার ছেলে রামপদ রায় তাঁকে সেই নোটিসের একটি কপি দেখিয়েছেন। বিমানবাবুর বক্তব্য, "নোটিস হাতে পেলে বিডিও-সহ অন্যান্য আধিকারিকদের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেব।"
ঘটনার সূত্রপাত ২০১৫ সালে। কোচবিহারের মেয়ে মিনতি রায়ের বিয়ে হয় অসমের নলহাটিতে। সেখানেই নাগরিকত্ব নিয়ে সন্দেহ করা হয় তাঁর উপর। অভিযোগ, তাঁকে বাংলাদেশি সন্দেহে নোটিস পাঠানো হয়। এনআরসির সময় তিনি কোচবিহারে বাবার বাড়ি থেকে বিভিন্ন নথি সংগ্রহ করেন। পঞ্চায়েতের তরফে একটি নাগরিক শংসাপত্রও দেওয়া হয়। পরবর্তীতে এনআরসির তালিকায় তাঁর নাম উঠলেও, বানান ভুল থাকায় মামলা দায়ের করেন মিনতি। সেই মামলার শুনানির প্রেক্ষিতেই এবার ট্রাইব্যুনালের তরফে শংসাপত্র যাচাইয়ের নির্দেশ।
নোটিসে বলা হয়েছে, পঞ্চায়েত প্রধানকে আগামী ২৭ অগস্টের মধ্যে নলবাড়ি গিয়ে সমস্ত নথি-সহ হাজিরা দিতে হবে।
এ ঘটনায় পঞ্চায়েত উপপ্রধান আসিফ আলি প্রশ্ন তুলেছেন, “যে নথি আমরা অনেক বছর আগে দিয়েছি, তা নিয়েই আবার যাচাইয়ের নামে প্রধানকে অসমে হাজিরা দিতে বলা হচ্ছে কেন? এটা স্পষ্ট ভাবে অসম সরকারের ষড়যন্ত্র। একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিকে হয়রানি করা হচ্ছে।”
এই ঘটনার জেরে রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের কড়া প্রশ্ন, “বাংলা কি অসমের অধীনে? একজন পঞ্চায়েত প্রধানকে এইভাবে অসমে ডেকে পাঠানো সংবিধানবিরোধী কাজ।”
তৃণমূল নেতাদের দাবি, "অসমে বসে বাংলার নির্বাচিত প্রতিনিধিকে চাপ সৃষ্টি করে হাজিরা দিতে বলা হচ্ছে, এটা গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে। এই ঘটনা বাঙালিদের চিহ্নিত করে তাঁদের উপর নিপীড়নের স্পষ্ট চক্রান্ত। বাংলার সম্মান ও অধিকার রক্ষা করতে হবে।" এ ব্যাপারে স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বর অবশ্য কোনও প্রতিক্রিয়া জানা যায়নি।
ঘটনা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যেও উদ্বেগ ছড়িয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, এভাবে যদি রাজ্যের বাইরে বসে কোনও সরকার স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের নোটিস পাঠায়, তাহলে প্রশাসনিক কাঠামো কোথায় দাঁড়ায়? নজর এখন রাজ্য প্রশাসনের পদক্ষেপের দিকে।