ভারতের কাছে ২৫০ মিলিয়ন ব্যারেলেরও বেশি অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোলিয়াম পণ্য মজুত রয়েছে। এই মজুত দিয়ে প্রায় সাত থেকে আট সপ্তাহের চাহিদা মেটানো সম্ভব।

রুশ তেল নিয়ে অবস্থান স্পষ্ট করল ভারত
শেষ আপডেট: 7 March 2026 18:16
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আরবদুনিয়ার সংঘাতের (Middle East tension) জেরে ইরান হরমুজ প্রণালী (Hormuz Strait) বন্ধ করে দিয়েই জ্বালানি তেল সরবরাহে ঘাটতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে আমেরিকা ৩০ দিনের জন্য রাশিয়ার তেল (Russian Oil) কেনা নিয়ে ভারতকে ছাড় দিয়েছে। তবে দিল্লি আগেই জানিয়েছে, ভারতের কাছে পর্যাপ্ত তেল মজুত আছে। একইসঙ্গে আমেরিকার 'নির্দেশ' প্রসঙ্গে তাদের স্পষ্ট বার্তা, 'অনুমতির প্রয়োজন নেই।'
শনিবার কেন্দ্রীয় সরকার জানায়, উত্তেজনা বাড়লেও ভারতের জ্বালানি সরবরাহ এখনও স্থিতিশীল রয়েছে। গত কয়েক বছরে ভারত তেলের উৎসের সংখ্যা ২৭টি দেশ থেকে বাড়িয়ে ৪০টি দেশে নিয়ে গেছে। ফলে কোনও একটি রুটে সমস্যা হলেও বিকল্প পথ থেকে তেল আনা সম্ভব। দেশের স্বার্থে ভারত সব সময় সেই দেশ থেকেই অপরিশোধিত তেল কিনবে যেখানে সবচেয়ে প্রতিযোগিতামূলক এবং সস্তা দামে তেল পাওয়া যায়।
একই সঙ্গে ভারত জানিয়েছে, আমেরিকার দেওয়া অস্থায়ী ছাড়ের পরে রাশিয়া থেকেও তেল আমদানি চালিয়ে যাচ্ছে ভারত (India)। সরকারের দাবি, রাশিয়ার তেল কেনার জন্য ভারতের কোনও দেশের অনুমতির প্রয়োজন হয় না।
কেন্দ্রের বক্তব্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতেও ভারত রাশিয়ার তেল (India imports Russian Oil) আমদানি করছে এবং এখনও রাশিয়াই ভারতের সবচেয়ে বড় অপরিশোধিত তেল সরবরাহকারী। রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধ (Ukraine-Russia War) শুরু হওয়ার পরেও গত তিন বছর ধরে ভারত রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কিনে আসছে। বিশেষ করে ২০২২ সালের পর কম দামের কারণে এই আমদানি অনেকটাই বেড়েছে।
বর্তমানে ভারতের কাছে ২৫০ মিলিয়ন ব্যারেলেরও বেশি অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোলিয়াম পণ্য মজুত রয়েছে। এই মজুত দিয়ে প্রায় সাত থেকে আট সপ্তাহের চাহিদা মেটানো সম্ভব। এছাড়া দেশের মোট তেল পরিশোধন ক্ষমতা বছরে ২৫৮ মিলিয়ন মেট্রিক টন, যা দেশের বর্তমান চাহিদার থেকেও বেশি।
এদিকে আমেরিকা ও ইজরায়েলের ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ (Iran Israel US War) এবং তার পাল্টা হামলার ফলে উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি সরবরাহ ও জাহাজ চলাচলে প্রভাব পড়েছে। এর জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দ্রুত বাড়ছে। শুক্রবারই বিশ্ববাজারে তেলের দাম ৮.৫ শতাংশ বেড়েছে, আর গত এক সপ্তাহে দাম প্রায় ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার আমেরিকা সাময়িকভাবে রাশিয়ার (Russia) ওপর কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করে, যাতে সমুদ্রে থাকা রাশিয়ার তেলবাহী জাহাজের তেল ভারতের কাছে বিক্রি করা যায়।
দিল্লির বক্তব্য, ভারত শুধু তেল আমদানি করে না, বরং পরিশোধিত জ্বালানি পণ্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রফতানিও করে। তাই এই বাণিজ্য ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তাকে দুর্বল না করে বরং আরও শক্তিশালী করে।
প্রসঙ্গত, ফেব্রুয়ারিতে আমেরিকা ভারতের কিছু পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক তুলে নেয়। তখন ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল, ভারত রাশিয়ার তেল কেনা বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। যদিও সেই ধরনের কোনও প্রতিশ্রুতির যৌথ বিবৃতিতে নেই এবং ভারত সরকারও এ বিষয়ে স্পষ্ট কিছু বলেনি।