টানা সাইবার নজরদারির ফলে এই দুই নাবালকের গতিবিধি ধরা পড়ে। প্রয়োজনীয় টেকনিক্যাল প্রমাণের ভিত্তিতে তাদের আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছেন আধিকারিকরা।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 19 November 2025 12:03
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ছত্তীসগড়ের রায়পুরে আইসিস (ISIS)-যোগ সন্দেহে দু’জন নাবালককে আটক করল অ্যান্টি-টেররিজম স্কোয়াড (ATS)। রাজ্যের উপমুখ্যমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্র দফতরের প্রধান বিজয় শর্মা (Vijay Sharma) মঙ্গলবার জানান, পাকিস্তান-ভিত্তিক আইসিস মডিউলের (ISIS module) নির্দেশে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভুয়ো অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে সক্রিয় ছিল এই দুই কিশোর।
শর্মার দাবি, নাবালকরা নিজেরাই চরমপন্থী কনটেন্টে প্রভাবিত হয়েছিল এবং ইনস্টাগ্রামে (Instagram)-এ অন্যদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করে। তিনি বলেন, “এরা ইন্টারনেট ও সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে আইসিসের নামে (ISIS) প্রচুর তথ্য ও কনটেন্ট ব্যবহার করছিল।”
প্রথমবার ছত্তীসগড়ে UAPA–র মামলা
দু’জনের বিরুদ্ধে সন্দেহজনক কাজকর্মের জন্য (Unlawful Activities (Prevention) Act), 1967–এর বিভিন্ন ধারায় মামলা করা হয়েছে। শর্মার ভাষ্য, এটি ছত্তীসগড়ে প্রথম এমন ধরনের মামলা। তিনি জানান, আরও কেউ যুক্ত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বলেন, “রায়পুরসহ রাজ্যের বড় শহরগুলোতে ATS–এর টিম আরও বাড়ানো হবে। সন্দেহজনক কোনও সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেল দেখলে সঙ্গে সঙ্গে পুলিশে জানাতে অনুরোধ করছি।”
পাকিস্তান-চালিত ISIS হ্যান্ডলারদের নিশানায় ভারতীয় কিশোররা
পুলিশ সূত্রে খবর, রায়পুরে আটক হওয়া দুই নাবালক অনলাইনে পাকিস্তান-ভিত্তিক ISIS মডিউলের (Pakistan-based ISIS module) নির্দেশে কাজ করছিল। তদন্তে জানা গিয়েছে, ওই মডিউল ভুয়ো পরিচয়ে একাধিক সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট চালাচ্ছিল এবং উদ্দেশ্য ছিল ভারতের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নষ্ট করা।
পুলিশের এক সিনিয়র অফিসার জানান, পাকিস্তানি হ্যান্ডলাররা (Pakistani handlers) Instagram (Instagram)–এর বিভিন্ন অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে ভারতীয় কিশোরদের টার্গেট করছে বেশ কিছুদিন ধরে। সে খবর ছিল, উদ্দেশ্য ছিল তাদের মনে চরমপন্থী ভাবাদর্শ ঢোকানো, ভারতবিরোধী মনোভাব উসকে দেওয়া এবং জঙ্গি মতাদর্শ ছড়ানো।
তাঁর দাবি, কিশোরদের ইনস্টাগ্রাম গ্রুপ চ্যাটে অ্যাড করে সুপরিকল্পিতভাবে ‘র্যাডিকালাইজ’ করা হচ্ছিল। এরপর তাদের দিয়ে ISIS–এর প্রচারমূলক পোস্ট ও হিংসাত্মক কনটেন্ট ছড়ানো হতো।
ছত্তীসগড়ে ISIS মডিউল গঠনের প্রেরণা পাচ্ছিল কিশোররা
ATS–এর সাইবার নজরদারিতে উঠে এসেছে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য, পাকিস্তানি হ্যান্ডলাররা রায়পুরের ওই দুই কিশোরকে ছত্তীসগড়ে একটি ISIS মডিউল (ISIS module) তৈরি করতে উৎসাহিত করে। সেকাজ এগিয়েছে কি না তা জানা যায়নি।
টানা সাইবার নজরদারির ফলে এই দুই নাবালকের গতিবিধি ধরা পড়ে। প্রয়োজনীয় টেকনিক্যাল প্রমাণের ভিত্তিতে তাদের আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছেন আধিকারিকরা।
ছত্তীসগড় পুলিশ জানিয়েছে, পুরো নেটওয়ার্কটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং রাজ্যের অন্য কোথাও অনুরূপ প্রভাব থাকা কিশোর বা অন্য কোনও ব্যক্তির সন্ধান পেলে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।