৯ জনের মৃত্যুর পরেও শনিবার জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ জানিয়েছে, আধিকারিকরা যখন বিস্ফোরকের নমুনা পরীক্ষা করছিলেন, তখনই বিস্ফোরণ ঘটে।
.jpeg.webp)
এই ঘটনায় এসআইএ-র একজন, ফরেনসিক ল্যাবের ৩ কর্মী, ২ জন ক্রাইম সিন ফটোগ্রাফার, ২ জন রেভেনিউ অফিসার এবং একজন টেলর মারা গিয়েছেন।
শেষ আপডেট: 15 November 2025 12:12
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শ্রীনগরের কাছে নওগাঁও থানায় বিস্ফোরণের ঘটনার কোনও আমলই দিল না পুলিশ। ৯ জনের মৃত্যুর পরেও শনিবার জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ জানিয়েছে, আধিকারিকরা যখন বিস্ফোরকের নমুনা পরীক্ষা করছিলেন, তখনই বিস্ফোরণ ঘটে। হরিয়ানার ফরিদাবাদের জঙ্গি গোষ্ঠীর কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া বিস্ফোরক তদন্তকারী থানা নওগাঁওয়ে এনে রাখা ছিল। পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনাবশত ওই বিস্ফোরণ ঘটে। এটা নিয়ে সাধারণ মানুষের জল্পনাকল্পনা, গুজব না রটাতে অনুরোধ করা হয়েছে।
জম্মু-কাশ্মীর পুলিশের ডিজিপি নলীন প্রভাত বলেন, নভেম্বরের ৯ ও ১০ তারিখে ফরিদাবাদ থেকে প্রচুর পরিমাণে বিস্ফোরক, রাসায়নিক উদ্ধার করা হয়। সেগুলি নওগাঁও থানার একটি খোলা জায়গায় রাখা ছিল। নমুনা ফরেনসিক এবং রাসায়নিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হলেও একটি বিস্তারিত ইন্সপেকশনের প্রয়োজন ছিল। শুক্রবার রাত ১১টা ২০ মিনিট নাগাদ এগুলি পরীক্ষা করতে গিয়ে দুর্ঘটনাবশত তা ফেটে যায়। এরপর আর কোনও অনুমান অপ্রয়োজনীয় বলে জানান পুলিশকর্তা।
এই ঘটনায় এসআইএ-র একজন, ফরেনসিক ল্যাবের ৩ কর্মী, ২ জন ক্রাইম সিন ফটোগ্রাফার, ২ জন রেভেনিউ অফিসার এবং একজন টেলর মারা গিয়েছেন। ২৭ জন পুলিশকর্মী ও ২ জন রেভেনিউ অফিসার ও ৩ জন বাসিন্দা জখম হয়ে হাসপাতালে ভর্তি। বিস্ফোরণের কারণ কী, তা উদ্ধারে তদন্ত চলছে।
ঘটনার বিবরণে জানা গিয়েছে, রাত তখন প্রায় সাড়ে এগারটা। শীতের রাত কাঁপিয়ে সিনেমার দৃশ্যের মতো উড়ে যায় শ্রীনগরের নওগাঁও থানা। প্রাথমিক আতঙ্কে মনে করা হয়েছিল, ফের বুঝি জঙ্গি হামলা হয়েছে। কিন্তু, পরক্ষণেই বোঝা গেল, দিল্লি বিস্ফোরণ কাণ্ডে আটক অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে গিয়েই এই ঘটনা ঘটেছে।
বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই ছিল যে, প্রায় ৩০০ মিটার দূরে ছিটকে গিয়ে পড়ে দেহাংশ। বিস্ফোরণের কম্পন প্রায় ১৫ কিমি দূর থেকে বোঝা গিয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শী ও সিসিটিভির ফুটেজে দেখা গিয়েছে, বিস্ফোরণে থানার প্রায় বেশিরভাগ অংশই উড়ে যায়। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, দুটি দিক দিয়ে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। প্রথমত, থানায় মজুত রাখা জঙ্গিদের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া অ্যামোনিয়াম নাইট্রেটের প্যাকেট থেকে বিস্ফোরণ ঘটেছে। ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে সেগুলি যখন সিল করা হচ্ছিল, সেই সময় দুর্ঘটনাবশত ফেটে যেতে পারে। দ্বিতীয়ত, এর পিছনে জঙ্গিদের হাত থাকতে পারে।