বিহার বিধানসভা ভোটকে কেন্দ্র করে শাসক-বিরোধী তরজা বেশ জমে উঠেছে।
.jpeg.webp)
যুবরাজ কি শাদি মে জরুর আয়েঙ্গে।
শেষ আপডেট: 4 November 2025 15:38
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজনীতি এক অবাধ রঙ্গশালা। রাজনীতির মঞ্চে যেমন কাদা ছোড়াছুড়ি লেগেই থাকে, তেমনই রঙ্গ-রসিকতার ছোঁয়ায় তা হয়ে ওঠে মনোগ্রাহী। যেমন বিহার বিধানসভা ভোটকে কেন্দ্র করে শাসক-বিরোধী তরজা বেশ জমে উঠেছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে লক্ষ্য করে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গের মন্তব্যের পরেপরেই বিজেপি শিবির থেকেই সমান উৎসাহে রসিক জবাব মিলল। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা গিরিরাজ সিং মঙ্গলবার খাড়্গের রসিক মন্তব্যের জবাব দিলেন কৌতুক মাখিয়েই।
কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গে প্রধানমন্ত্রীর বিহার প্রীতি নিয়ে মন্তব্যটি করেন। খাড়্গে বলেন, বিহারে ভোট এলেই মোদী চলে আসেন। এবারেও বিহারে ভোট আছে জেনে মোদীজি বিহার ঘুরে বেড়াচ্ছেন। নানান প্রকল্প ঘোষণা করে চলেছেন। তিনি এমনভাবে বিহারে ঘুরছেন, দেখে মনে হচ্ছে যেন, তাঁর ছেলের বিয়ে আছে। পঞ্চায়েত ভোট থেকে সংসদীয় নির্বাচন, প্রতিবার মোদী ঘুরে বেড়ান কখন, যখন সামনে ভোট চলে আসে। সব সময় কেবলমাত্র তাঁর মুখই দেখতে পান মানুষ। কিন্তু, আর কতবার মানুষ কেবল মোদীর মুখ দেখেই ভোট দিয়ে যাবেন, সোমবার এক জনসভায় বলেছিলেন খাড়্গে।
খাড়্গের এই মোগীর ‘বেটে কি শাদি’ তির্যক বাণের জবাবে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীও ছেড়ে কথা বলেননি। গিরিরাজ কারও নাম উল্লেখ না করেই কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীকে রসের পাত্রে চুবিয়ে জবাব দিয়েছেন। সিং বলেন, খাড়্গেজি যদি কংগ্রেসের যুবরাজের বিয়ে কখনও কোনওদিন হয়, তাহলে আমরা নিশ্চই আসব। কংগ্রেসের যুবরাজ বলতে গিরিরাজ স্পষ্টতই রাহুলকে ইঙ্গিত করেছেন। হিন্দিতে এক্সবার্তায় গিরিরাজের কথা ছিল, যুবরাজ কি শাদি মে জরুর আয়েঙ্গে।
প্রসঙ্গত, আজ, মঙ্গলবারই বিহার বিধানসভা ভোটের প্রচারের শেষদিন। এদিন বিকেল ৫টা থেকে শুরু হবে ‘নীরবতার প্রহর’। আগামী ৬ নভেম্বর রাজ্যে হতে চলেছে শাসককেন্দ্রিক অথবা সরকার-বিরোধী শাসনভার জনমত গ্রহণ। এদিন বিকেল হতেই সব মাইক্রোফোনের শব্দ থেমে যাবে। ভোটকেন্দ্রের কাছাকাছি থেকে খুলে ফেলতে হবে পোস্টার, ব্যানার, পতাকা। সোশ্যাল মিডিয়াতেও কানাঘুষো প্রচার স্তব্ধ হবে। শুধু ভোটারের মন কথা বলবে পরশু সকাল থেকে।
৬ নভেম্বর বিহারের ১৮টি জেলার ১২১টি কেন্দ্রে প্রথম দফায় ভোটগ্রহণ হবে। মোট ১,৩১৪ প্রার্থীর ভাগ্য নির্ণয় হবে এই দফায়। তার মধ্যে ১,১৯২ জন পুরুষ ও ১২২ জন মহিলা প্রার্থী রয়েছেন। প্রথম দফায় ১০২টি সাধারণ এবং তফসিলি জাতি সংরক্ষিত ১৯টি আসনে ভোট হবে। নির্বাচন কমিশনের তথ্য বলছে, প্রথম দফায় মোট ৩,৭৫,১৩,৩০২ জন ভোটার জনমত প্রদান করবেন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার সংখ্যা ১.৯৮,৩৫,৩২৫ এবং মহিলা ভোটার ১,৭৬,৭৭,২১৯ জন। তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৭৫৮ জন।
৪৫ হাজার ৩৪১টি ভোটগ্রহণ কেন্দ্র তৈরি করা হয়েছে। শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু ভোট করাতে কমিশন ত্রিস্তরীয় সুরক্ষা ব্যবস্থা নিয়েছে। দ্বিতীয় দফার ভোট হবে আগামী ১১ নভেম্বর এবং গণনা ও ফল ঘোষণা হবে ১৪ নভেম্বর।