তেজস্বীর ঘোষণা অনুযায়ী, ‘মাই বহিন মান যোজনা’-র আওতায় অর্থাৎ মকর সংক্রান্তির দিন (১৪ জানুয়ারি) থেকে মহিলাদের অ্যাকাউন্টে বছরে মোট ৩০ হাজার টাকা জমা হবে — প্রতি মাসে ২,৫০০ টাকা করে।

তেজস্বী যাদব
শেষ আপডেট: 4 November 2025 11:03
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিহার ভোটের (Bihar Election) প্রথম দফার প্রচার শেষ হওয়ার মুখে মঙ্গলবার ভোটারদের মন জিততে বড় ঘোষণা করলেন আরজেডি (RJD) নেতা তথা মহাগঠবন্ধনের মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী তেজস্বী যাদব (Tejaswi Yadav)। প্রতিশ্রুতি দিলেন, যদি তাঁর জোট ক্ষমতায় আসে, তবে মহিলাদের দেওয়া হবে এককালীন ৩০ হাজার টাকা অনুদান এবং কৃষকদের জন্য থাকবে বিনামূল্যে সেচের বিদ্যুৎ।
তেজস্বীর ঘোষণা অনুযায়ী, ‘মাই বহিন মান যোজনা’-র আওতায় অর্থাৎ মকর সংক্রান্তির দিন (১৪ জানুয়ারি) থেকে মহিলাদের অ্যাকাউন্টে বছরে মোট ৩০ হাজার টাকা জমা হবে — প্রতি মাসে ২,৫০০ টাকা করে। এই প্রকল্প মূলত আরজেডি ও কংগ্রেসের যৌথ নির্বাচনী ইস্তেহারে থাকা একটি প্রতিশ্রুতি, যার লক্ষ্য আর্থিকভাবে দুর্বল এবং পিছিয়ে পড়া সম্প্রদায়ের মহিলাদের সাহায্য করা।
এই ঘোষণার ২৪ ঘণ্টা আগেই মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার সরকারের তরফে ২৫ লক্ষ মহিলার অ্যাকাউন্টে ১০ হাজার টাকা করে পাঠানো হয়েছিল উদ্যোক্তা ও স্বনির্ভরতা প্রকল্পের আওতায়। বিশ্লেষকদের মতে, মহিলাদের লক্ষ্য করেই আরজেডির প্রচারকে পাল্টা দেওয়ার কৌশল ছিল এটি।
তেজস্বী এ দিন দাবি করেছেন, “জনতা এবার পরিবর্তনের মেজাজে। এনডিএ সরকারকে মানুষ বিদায় দেবে।”
কৃষকদের জন্যও একাধিক সুবিধা ঘোষণা করেন তিনি। বলেন, “আমাদের সরকার ক্ষমতায় এলে কৃষকদের সেচের জন্য বিনামূল্যে বিদ্যুৎ দেওয়া হবে। পাশাপাশি ধানের ক্ষেত্রে এমএসপি-র উপরে প্রতি কুইন্টালে ৩০০ টাকা বোনাস এবং গমের ক্ষেত্রে ৪০০ টাকা বোনাস দেওয়া হবে।”
তিনি আরও বলেন, “সরকারি কর্মীদের জন্য পুরনো পেনশন স্কিম ফিরিয়ে আনা হবে। আর স্বাস্থ্যকর্মীদের পোস্টিং হবে তাঁদের নিজ জেলা থেকে ৭০ কিলোমিটারের মধ্যে।”
তেজস্বী জানান, ‘প্রাইমারি এগ্রিকালচারাল ক্রেডিট সোসাইটি (PACS)’-এর প্রতিনিধিদের দেওয়া হবে জনপ্রতিনিধির মর্যাদা, পাশাপাশি পিএসিসি ম্যানেজারদের জন্য সম্মানী চালুর বিষয়েও সরকার ভাববে।
উল্লেখ্য, আগামী ৬ নভেম্বর বিহার বিধানসভা ভোটের প্রথম দফার ভোটগ্রহণ। মঙ্গলবার ছিল প্রচারের শেষ দিন। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিকাঠামো উন্নয়ন— যে কোনও রাজ্যে ভোটের আগে এই কথাগুলো উঠেই থাকে। তবে বিহারে নির্বাচনের আগে আরেকটি বিষয় ঘুরে ফিরে আসছে রাজনৈতিক নেতাদের মুখে। সেটা হলো, মদ। প্রায় এক দশক আগে নীতীশ কুমারের সরকার বিহারকে ড্রাই স্টেট বলে ঘোষণা করেছিল।