বিহারে ভোটের আগে রাজনৈতিক পারদ চড়ছে। রবিবার জন সুরাজ সমর্থক দুলারচন্দ যাদব খুনের ঘটনায় জেডিইউ প্রার্থী তথা প্রভাবশালী নেতা আনন্দ সিং গ্রেফতার হতেই রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড়।

শেষ আপডেট: 2 November 2025 12:08
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিহারে ভোটের আগে রাজনৈতিক পারদ চড়ছে। রবিবার জন সুরাজ সমর্থক দুলারচন্দ যাদব খুনের ঘটনায় জেডিইউ প্রার্থী তথা প্রভাবশালী নেতা আনন্দ সিং গ্রেফতার হতেই রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড়। সেই প্রেক্ষিতেই আরজেডি নেতা (RJD) ও মহাগঠবন্ধনের মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী তেজস্বী যাদব (Tejaswi Yadav) এ দিন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে (Narendra Modi) কটাক্ষ করে বলেন, “বিহারে এখন ‘মহা জঙ্গলরাজ’। প্রধানমন্ত্রী কি চোখে কিছু দেখছেন না?”
তেজস্বীর অভিযোগ, “যে ঘটনাগুলি ঘটছে, তা তো অপ্রত্যাশিত নয়। প্রধানমন্ত্রী আজ পাটনায় রোড শো করতে এসেছেন, অথচ রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় অপরাধ ঘটছে। তিনি কিছুই দেখছেন না? আড়া ও রোহতাসে বাবা-ছেলেকে খুন করা হয়েছে। প্রায় প্রতিদিনই গুলির শব্দ শোনা যায়। রাজ্যে এখন ‘মহা জঙ্গলরাজ’ চলছে।”
আরজেডি নেতার দাবি, ১৪ নভেম্বর মহাগঠবন্ধন সরকার গঠন করবে এবং ১৮ নভেম্বর শপথ গ্রহণের পর আগামী ২৬ জানুয়ারির মধ্যে রাজ্যের সব অপরাধী জেলের ভিতরে থাকবে।
প্রধানমন্ত্রীকে আরও আক্রমণ করে তেজস্বী বলেন, “মোদীজি গুজরাতে কারখানা বানান, কিন্তু ভোট চান বিহারে। গত ১১ বছরে তিনি একটি চাকরিও দেননি। এখন বলছেন এক কোটি চাকরি দেবেন— এ সব শুধু দেখানোর জন্য। বাস্তবে কিছুই হবে না।”
এর আগের দিন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বিহারে ভার্চুয়াল সভায় আরজেডি-র শাসনকালকে ‘জঙ্গলরাজ’-এর প্রতীক বলে কটাক্ষ করেছিলেন। শাহ বলেন, “এই নির্বাচন বিহারের ভবিষ্যৎ ঠিক করার লড়াই। একদিকে যারা জঙ্গলরাজ ফিরিয়ে আনতে চায়, অন্যদিকে আছেন মোদীজী ও নীতীশ কুমার— যারা উন্নয়ন এনেছেন।”
এরও আগে মুজফ্ফরপুরে এক জনসভায় প্রধানমন্ত্রী মোদী কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী ও তেজস্বী যাদবকে ‘দুর্নীতির যুবরাজ’ বলে কটাক্ষ করেছিলেন। তাঁর মন্তব্য—“দু’জন যুবরাজ নিজেদের রাজ্যকে দুর্নীতিতে ডুবিয়েছেন। একজন দেশের সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত পরিবারের যুবরাজ, অন্যজন বিহারের। দু’জনেই হাজার হাজার কোটি টাকার কেলেঙ্কারিতে জামিনে মুক্ত।”
বিহারের ২৪৩টি বিধানসভা আসনে ভোট হবে তিন দফায়— প্রথম দফা ৬ নভেম্বর, দ্বিতীয় দফা ১১ নভেম্বর এবং ফল প্রকাশ ১৪ নভেম্বর।