নীতীশের বক্তব্য, মহিলাদের পারিবারিক সুরক্ষা দিতেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কারণ মদ খেয়ে নেশাগ্রস্ত স্বামীরা পরিবারের স্ত্রী কন্যাদের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালায় এটাই বিহারের গ্রামের বাস্তবতা।

তেজস্বী যাদব (ফাইল ছবি)
শেষ আপডেট: 29 October 2025 07:12
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অন্য রাজ্যগুলির মত বিহারেও (Bihar Election) বিভিন্ন দল ও জোটের তরফে সুবিধা বিলির প্রতিযোগিতা চলছে বেশ কিছুদিন যাবৎ। তাতে অবশ্য চমকপ্রদক ঘোষণায় আলোচনায় অনেকটা এগিয়ে গেলেন বিরোধী জোটের মুখ্যমন্ত্রী প্রার্থী তেজস্বী যাদব (Tejashwi Yadav)। বিহারের বহু বিতর্কিত মদনীতিতে আগামী দিনে বড় ধরনের পরিবর্তন আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তেজস্বী। নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ করে আরজেডি (RJD) সুপ্রিমো বলেছেন, সরকার গড়তে পারলে বিহারের নিজস্ব দেশীয় মদ তৈরি ও বিক্রির অনুমতি দেবেন তিনি।
বিহারে ২০১৬ সাল থেকে মদ নিষিদ্ধ করে রেখেছেন মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার (Nitish Kumar)। এই কারণে প্রতিবছর রাজ্য সরকারের ২৮ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব ক্ষতি হয়। বিজেপি সহ সরকারের শরিক দলগুলি এই ব্যাপারে বারে বারে আপত্তি জানিয়েও মুখ্যমন্ত্রীকে রাজি করাতে পারেননি। নীতীশের বক্তব্য, মহিলাদের পারিবারিক সুরক্ষা দিতেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কারণ মদ খেয়ে নেশাগ্রস্ত স্বামীরা পরিবারের স্ত্রী কন্যাদের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালায় এটাই বিহারের গ্রামের বাস্তবতা। বস্তুত এই কারণে মহিলা ভোটারদের একটা বড় অংশ নীতীশ কুমারের সমর্থকও বটে।
কিন্তু বিরোধীরা এবং বিজেপি সহ এনডিএ এর শরিক দলগুলি দলগুলি অন্য এক বাস্তবতার কথা বলে আসছিল। সে রাজ্যে নিম্নবর্গের বহু মানুষ দেশি মদ তৈরি ও বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করে আসেন প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে। তারা মূলত তাল গাছের রস থেকে এই আঞ্চলিক মদ তৈরি করে থাকেন যা বিহারে খুবই জনপ্রিয়। বিভিন্ন সময় আলোচনায় এই প্রসঙ্গ এসেছে যে গোটা রাজ্যকে ড্রাই ঘোষণা করার ফলে নিম্নবর্গের মানুষ নতুন বিপদে সম্মুখীন হয়েছেন। তাদের জীবিকা হারিয়ে গিয়েছে। পশ্চাৎপদ অংশের মধ্যে পাসি সম্প্রদায় এই কাজের সঙ্গে সবচেয়ে বেশি যুক্ত।
অতি দলিত সম্প্রদায় ভুক্ত পাসিরা বিহারের জনসংখ্যার মাত্র এক শতাংশ হলেও অন্যান্য জাতের পিছিয়ে পড়া মানুষও এই মত তৈরির কাজে যুক্ত। পাসিরা জনসংখ্যায় মাত্র এক শতাংশ হলেও ভোটের বাক্সে তাদের গুরুত্ব অপরিসীম। ফলে তেজস্বী উপার্জন ফেরানোর নাম করে নির্বাচনে জাতের অংক কেউ সমান গুরুত্ব দিয়েছেন বলে ওয়াকিবহালমহল মনে করছে।
মঙ্গলবার নির্বাচনী ইস্তার ঘোষণা করে তেজস্বী যাদব বলেছেন, "আমরা কাউকে ভাতে মারতে চাই না।" তার বক্তব্য, "আমি উপমুখ্যমন্ত্রী থাকার সময় মুখ্যমন্ত্রীর নীতীশ কুমারকে বারে বারে অনুরোধ করেছিলাম, গরিব মানুষের উপার্জনে ধাক্কা লাগে এমন কিছু করা ঠিক হবে না। আমি তাকে বলেছিলাম বিহারের স্থানীয় মদ তৈরি ও বিক্রির অনুমতি দেওয়া উচিত। কারণ বহু মানুষ এগুলি স্বাস্থ্য পানীয় হিসেবেও খেয়ে থাকেন। চিকিৎসকেরাও এই ব্যাপারে সহমত। মুখ্যমন্ত্রী শোনেননি।"
শুধু তেজস্বী নন, নীতীশের সের মন্ত্রিসভার শরিক হিন্দুস্থানী আওয়াম মোর্চার নেতা তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও রাজ্যের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী জিতেন রাম মাঝিও মনে করেন মদের ওপর ১০০ শতাংশ নিষেধাজ্ঞা মোটেই বাস্তবসম্মত নয়। জন সুরাজ পার্টির প্রধান প্রশান্ত কিশোরও একমত। প্রশান্তের দলও প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তারা সরকার গড়তে পারলে মদের ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেবেন। প্রশান্তের বক্তব্য এর ফলে রাজ্য সরকারের আটাশ হাজার কোটি টাকা ক্ষতি হচ্ছে। কিন্তু রাজ্যে বিষ মদে মৃত্যু আটকানো যায়নি। তেমন একটা কমেনি গার্হস্থ হিংসাও। প্রশান্ত তাই বলেছেন মিছি মিছি মানুষের উপার্জন কেড়ে লাভ কী।
তবে দেশি মদ ফেরানোর প্রতিশ্রুতিতে মহিলা ভোট পেতে যাতে সমস্যা না হয় সেদিকে নজর রেখেছে বিরোধী জোট। তেজস্বী নামে প্রচারিত ইস্তাহারে বলা হয়েছে প্রত্যেক দুস্থ মহিলাকে মহাগঠবন্ধনের সরকার মাসে আড়াই হাজার টাকা আর্থিক অনুদান দেবে। এছাড়া সস্তায় গ্যাস সিলিন্ডার এবং ২০০ ইউনিট পর্যন্ত ফ্রি বিদ্যুৎ দেয়া হবে। বিরোধী জোট মনে করছে এর ফলে নীতীশের মহিলা ভোটব্যাঙ্কে এবার বড় ধরনের ফাটল ধরানো সম্ভব হবে।