প্রথমে মায়ের সঙ্গে প্রেম তারপর মেয়ে। ব্যক্তির জন্য বিয়ে করেই স্বামীকে কুপিয়ে, গলা কেটে খুন করলেন তরুণী।

তরুণী ও তাঁর স্বামী (ছবি সংগৃহীত)
শেষ আপডেট: 25 June 2025 18:22
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মাত্র এক মাস আগেই বিয়ে করেছিলেন। স্ত্রীর উপর পূর্ণ আস্থা ছিল তাঁর। কিন্তু সেই বিশ্বাস যে এমন নিষ্ঠুরভাবে ভেঙে যাবে ও বিপদ ডেকে আনবে, তা কল্পনাও করেননি তেলঙ্গানার গাদওয়ালের বাসিন্দা তেজেশ্বর।
ইন্দোরের রাজা রঘুবংশী খুনের রেশ কাটতে না কাটতেই আরও এক চাঞ্চল্যকর খুনের ঘটনার জাল খুলল অন্ধ্রপ্রদেশের কুর্নুলে। তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পেরেছে, তেজেশ্বরকে খুন করেছেন তাঁর স্ত্রী ঐশ্বর্যা এবং তাঁর প্রেমিক, পেশায় একজন ব্যাঙ্ক ম্যানেজার। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত আটজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ২৩ বছর বয়সি ঐশ্বর্যা কুর্নুল জেলার বাসিন্দা। গত ১৮ মে তাঁর সঙ্গে বিয়ে হয় তেলঙ্গানার গাদওয়ালের ২৬ বছর বয়সি ভূমি সমীক্ষক ও নৃত্যশিল্পী তেজেশ্বরের সঙ্গে। কিন্তু মাস ঘোরার আগেই তেজেশ্বর নিখোঁজ হয়ে যান। পরিবারের সন্দেহ, ঐশ্বর্যাই এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত। তদন্তে নেমে পুলিশের হাতেও আসে একের পর এক চমকে দেওয়া তথ্য।
ঐশ্বর্যার সম্পর্ক ছিল তিরুমল রাও নামে এক বিবাহিত ব্যাঙ্ক ম্যানেজারের সঙ্গে। এই রাও-ই নাকি তিনজন খুনিকে দুই লক্ষ টাকা অগ্রিম দিয়ে ভাড়া করেছিলেন তেজেশ্বরকে খুন করতে। জানা গিয়েছে, এই খুনিরা আগে ঋণের জন্য তাঁর কাছে গিয়েছিল। সেই সূত্রেই ‘চুক্তি’ হয়। রাও-এর বাবা একজন প্রাক্তন পুলিশ কনস্টেবল। তিনিও ছেলে রাও-কে বাঁচাতে পুলিশকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেন। তাঁকেও গ্রেফতার করা হয়েছে।
তেজেশ্বরকে খুনের পর তাঁর দেহ ফেলে দেওয়া হয় একটি খালে। মনে করা হয়েছিল, দেহ উদ্ধারই হবে না। কিন্তু পুলিশ বিভিন্ন প্রযুক্তি ব্যবহার করে তেজেশ্বরের মোবাইল লোকেশন ট্র্যাক করে তাঁর দেহ উদ্ধার করে। পচে যাওয়ায় তা চেনা যাচ্ছিল না প্রাথমিকভাবে। কিন্তু একটি হাতে ‘আম্মা’ লেখা ট্যাটু দেখে তাঁকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়।
তদন্তে উঠে আসে, ঐশ্বর্যার মা সুজাতা কুর্নুলের একটি NBFC-তে কাজ করতেন, সেখানেই রাও-এর সঙ্গে পরিচয়। পরে ঐশ্বর্যা মায়ের বদলি হিসেবে সেখানে কাজ করতে গিয়ে রাও-এর প্রেমে পড়েন, সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এমনকি শোনা যাচ্ছে, ঐশ্বর্যার মায়ের সঙ্গেও রাও-এর সম্পর্ক ছিল একসময়।
সুজাতা প্রথমে মেয়েকে বাধা দেন। তেজেশ্বরের সঙ্গে বিয়ে দেন। যদিও ফেব্রুয়ারি মাসে প্রথমে বিয়ে হওয়ার কথা ছিল, তখন ঐশ্বর্যা হঠাৎ উধাও হয়ে যান। পরে ফিরে এসে বলেন, মায়ের পক্ষে পণ দিতে না পারায় পালিয়েছিলেন। তেজেশ্বরের পরিবারের এদিকে রাজি ছিল না। কিন্তু পরিবারের বিরুদ্ধে গিয়েই তিনি বিয়েতে রাজি হন।
তদন্তে নেমে পুলিশ দেখেছে, মে থেকে জুন পর্যন্ত ঐশ্বর্যা ও রাও প্রায় ২০০০ বার ফোনে কথা বলেছেন। এমনকি বিয়ের দিনও ঐশ্বর্যা মোবাইল কারও কাছে রাখেননি। শ্বশুরবাড়ির লোকজন প্রশ্ন করলে বলেন, মায়ের সঙ্গে কথা বলছেন।
তেজেশ্বরকে হত্যার দিন, তাঁকে বলা হয়েছিল, জমি সমীক্ষার কাজে নিয়ে যাওয়া হবে। সেই মিথ্যা বলেই গাড়িতে তুলে প্রথমে গলা কাটা হয়, পরে পেটে ছুরি মেরে খুন করা হয়। মৃতদেহটি রাওকে ভিডিও কল করে দেখানো হয়। এরপর ফেলে দেওয়া হয় খালে।
খুনের চার দিন পরও ঐশ্বর্যা শ্বশুরবাড়িতেই ছিলেন। পরিকল্পনা ছিল পরে কুর্নুল ফিরে এসে রাওয়ের সঙ্গে লাদাখ পালিয়ে যাওয়ার। পালানোর জন্য রাও ২০ লক্ষ টাকা ঋণও নিয়েছিলেন, কাটা ছিল টিকিট। কিন্তু সবটা ভেস্তে যায় দেহ উদ্ধার হওয়ায়।
পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত চলছে। এই ঘটনায় ঐশ্বর্যা, রাও, সুজাতা-সহ ৮ জনকে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।