দিল্লি লাল কেল্লায় বিস্ফোরণের পর থেকে নিখোঁজ কাশ্মীরের চিকিৎসক ডাঃ নিসার-উল-হাসান। ফরিদাবাদের আল-ফালাহ ইউনিভার্সিটি থেকে তার হদিশ মিলছে না।
.jpeg.webp)
নিখোঁজ চিকিৎসক
শেষ আপডেট: 12 November 2025 18:32
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিল্লির লাল কেল্লা সংলগ্ন এলাকায় ১০/১১-র গাড়ি বিস্ফোরণ কাণ্ডে আরও এক কাশ্মীরি চিকিৎসকের নাম উঠে এল তদন্তে। জম্মু ও কাশ্মীর সরকার ‘দেশবিরোধী কার্যকলাপে’ জড়িত থাকার অভিযোগে চিকিৎসক নিসার-উল-হাসানকে বরখাস্ত করেছিল। ঘটনার পর থেকে কাকতালীয়ভাবে তিনি নিখোঁজ। ওই বিস্ফোরণে মৃত্যু হয়েছে এপর্যন্ত ১৩ জনের এবং বেশ কয়েকজন আহত।
ডাঃ হাসান শ্রীনগরের এসএমএইচএস (SMHS) হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। সম্প্রতি কাজ করছিলেন হরিয়ানার ফরিদাবাদের আল-ফালাহ ইউনিভার্সিটিতে। বিস্ফোরণের পর থেকেই তাঁর খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। তদন্তকারীরা ধারণা করছেন, তিনি হয়তো চিকিৎসকদের এক বৃহত্তর নেটওয়ার্কের অংশ, যা দিল্লি বিস্ফোরণের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত থাকতে পারে।
অন্যদিকে, আল-ফালাহ ইউনিভার্সিটি একটি সরকারি বিবৃতি প্রকাশ করে জানিয়েছে, তারা তদন্তকারী সংস্থাগুলির সঙ্গে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণ দিল্লি ও ওখলা অফিসের কর্তারা জানিয়েছেন, এখনও পর্যন্ত কোনও তদন্তকারী দল ওই দফতরে যায়নি। কর্মচারী সূত্রে জানা গিয়েছে, চলমান পরিস্থিতি নিয়ে বৃহস্পতিবার একটি সাংবাদিক বৈঠক করার পরিকল্পনা করছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের।
এদিকে, বিস্ফোরণে ব্যবহৃত সন্দেহভাজন গাড়ির পাশাপাশি একটি লাল রঙের ফোর্ড ইকোস্পোর্ট (Ford EcoSport) গাড়িকেও খুঁজছে পুলিশ। গাড়িটির রেজিস্ট্রেশন নম্বর DL10CK0458। এটি নিবন্ধিত হয়েছে উমর উন নবির নামে, যিনি ডাঃ উমর মহম্মদ নামেও পরিচিত এবং গাড়িটির দ্বিতীয় মালিক হিসেবে নথিভুক্ত।
তদন্ত সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১৭ সালের ২২ নভেম্বর রাজৌরি গার্ডেন আরটিও অফিসে ভুয়ো ঠিকানা ব্যবহার করে ওই গাড়ি রেজিস্টার করা হয়। পুলিশ সেই ঠিকানায় অভিযান চালালেও গাড়িটির কোনও খোঁজ মেলেনি। গোয়েন্দা সংস্থাগুলির অনুমান, গাড়িটিতে এখনও গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ বা বিস্ফোরক থাকতে পারে।
তদন্তকারীরা মনে করছেন, সাদা রঙের হুন্ডাই আই২০ বিস্ফোরণের পর অভিযুক্তরা এই লাল ইকোস্পোর্ট গাড়িটিকে দ্বিতীয় যানবাহন হিসেবে ব্যবহার করেছিল। দিল্লি, হরিয়ানা ও উত্তরপ্রদেশজুড়ে সেই গাড়ির খোঁজে চলছে অভিযান।
ডাঃ উমর মহম্মদ ছিলেন একটি সন্ত্রাসবাদী লজিস্টিক নেটওয়ার্কের সদস্য, যেখানে ৯ থেকে ১০ জন যুক্ত ছিল, এর মধ্যে বেশ কয়েকজন চিকিৎসক। ডাঃ মুজাম্মিল এবং ডাঃ শাহিনকে সোমবার ফরিদাবাদ থেকে ২,৯০০ কেজি বিস্ফোরকসহ গ্রেফতার করা হয়। তাঁদের গ্রেফতারের পর একাই বিস্ফোরণ ঘটান ডাঃ উমর বলে তদন্তকারীদের ধারণা।
ডাঃ উমর আগে অনন্তনাগের একটি হাসপাতালে কর্মরত ছিলেন। এক রোগীর মৃত্যুর পর তাঁকে বরখাস্ত করা হয়েছিল। পরে তিনি ২০২৩ সালে আল-ফালাহ মেডিক্যাল সায়েন্স স্কুলে যোগ দেন।
তদন্তকারীরা এখন লাল কেল্লা সংলগ্ন এলাকার মোবাইল টাওয়ার ডেটা বিশ্লেষণ করছেন, দুপুর ৩টা থেকে সন্ধে সাড়ে ৬টা পর্যন্ত উমর কারও সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি তাঁর পরিবারের ডিএনএ নমুনা বিস্ফোরণস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া জীববৈজ্ঞানিক নমুনার সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হচ্ছে, যাতে নিশ্চিত হওয়া যায় তিনি ওই গাড়ির চালক ছিলেন কি না।