Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
'বন্ধু' মোদীকে ফোন ট্রাম্পের! ৪০ মিনিট ধরে হরমুজ প্রণালী নিয়ে কী আলোচনা হল?লোকাল ট্রেনের টিকিটে বিরাট ছাড়! ৫ টাকার টিকিট এখন কত পড়বে? জেনে নিন বিস্তারিতTB Vaccine: যক্ষ্মা প্রতিরোধে কতটা সফল নতুন টিকা? ট্রায়ালের রিপোর্টে আশার আলোর পাশাপাশি উদ্বেগের সুর বিজ্ঞানীদের'বাঙালি ব্রিটিশদের সামনে মাথা নত করেনি, আর এই বহিরাগতরা আমাদের কী করবে?' বিজেপিকে তোপ অভিষেকেরসাইলেন্ট লাং ডিজিজ: কাশি মানেই কি ক্যানসার? দূষণে ফুঁসছে ফুসফুস, কখন দরকার ট্রান্সপ্লান্ট?'ইগো সরিয়ে রাখুন', নিজেদের মধ্যে মতভেদ সরিয়ে এক হয়ে লড়ার নির্দেশ অভিষেকেরভাইরাল ভিডিও হাতিয়ার করে শাহের তোপ! হুমায়ুনকে ‘দিদির এজেন্ট’ বলে কটাক্ষ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরগরমে মেজাজ হারালেন কর্মীরা! চুঁচুড়ায় নিজের দলের লোকেদেরই বিক্ষোভের মুখে দেবাংশুবার্নল-বোরোলিন বিতর্ক, ‘লুম্পেনদের’ হুঁশিয়ারি দিয়ে বিপাকে ডিইও, কমিশনকে কড়া চিঠি ডেরেক ও’ব্রায়েনেরভাঁড়ে মা ভবানী! ঘটা করে বৈঠক ডেকে সেরেনা হোটেলের বিলই মেটাতে পারল না 'শান্তি দূত' পাকিস্তান

ধরা পড়া যাবে না! প্রমাণ লোপাট করতে মরিয়া হয়ে উঠেছিলেন উমর, তাড়াহুড়োর ফলেই বিস্ফোরণ দিল্লিতে

পুলিশ জানিয়েছে, দিল্লি-এনসিআর ও পুলওয়ামায় নিরাপত্তা সংস্থার অভিযান এবং বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক উদ্ধার হওয়ার ঘটনায় চাপে পড়ে উমর তাড়াহুড়ো করে ফেলেন।

ধরা পড়া যাবে না! প্রমাণ লোপাট করতে মরিয়া হয়ে উঠেছিলেন উমর, তাড়াহুড়োর ফলেই বিস্ফোরণ দিল্লিতে

পৃথা ঘোষ

শেষ আপডেট: 12 November 2025 17:41

দ্য ওয়াল ব্যুরো: যখন ফরিদাবাদ (Faridabad raid) ও জম্মু-কাশ্মীরে (Jammu and Kashmir raid) তাঁর সহযোগীদের একে একে গ্রেফতার করা হচ্ছিল, এদিকে তখন চিকিৎসক উমর উন নবির (Pulwama doctor Umar Un Nabi) ওপর চাপ বাড়তে শুরু করেছিল। পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, দিল্লি-এনসিআর ও পুলওয়ামায় নিরাপত্তা সংস্থার অভিযান এবং বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক উদ্ধার হওয়ার ঘটনায় চাপে পড়ে উমর তাড়াহুড়ো করে ফেলেন।

তদন্তকারীদের মতে, ফরিদাবাদের তথাকথিত ‘হোয়াইট কলার’ জঙ্গি মডিউলের (white-collar terror network) ওপর সন্দেহ এসে পড়ায় নিরাপত্তা বাহিনীর লাগাতার অভিযান শুরু হয়ে যায়। ভয়, আতঙ্কে ভুগছিলেন দিল্লি বিস্ফোরণে অভিযুক্ত চিকিৎসক উমর, যিনি আদতে পুলওয়ামার বাসিন্দা।

উমর ফরিদাবাদের আল-ফালাহ মেডিক্যাল কলেজে কর্মরত ছিলেন।

‘আতঙ্কে হঠকারিতা’ই মৃত্যু ডেকে আনে?

তদন্তকারীদের মতে, ধারাবাহিক অভিযানের পর নিরাপত্তা বাহিনীর চাপে পড়ে উমর নবি পালিয়ে যান। একাধিক সূত্র জানাচ্ছে, আতঙ্কে তিনি 'হঠকারিতা ও ভয় থেকে' গাড়ি নিয়ে তড়িঘড়ি দিল্লিতে আসেন। সেই সময়ই গাড়িতে বিস্ফোরণ ঘটে।

তদন্তকারীরা আশঙ্কা করছেন, ধরা পড়ার ভয়েই হয়তো তিনি নিজেই বোমা বিস্ফোরণ ঘটান, ইচ্ছাকৃতভাবে বা দুর্ঘটনাবশত।
এক শীর্ষ পুলিশ আধিকারিকের কথায়, “এটা নিশ্চিত, একই চক্রের অংশ ছিল এই ঘটনা। ফরিদাবাদ অভিযানই রুখে দিয়েছে বড়সড় জঙ্গি হামলার ছক।”

সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গিয়েছে, বিস্ফোরণের কিছুক্ষণ আগেও উমর নবি গাড়িটি চালাচ্ছেন। ফরেনসিক রিপোর্টেও নিশ্চিত, লালকেল্লা বিস্ফোরণে ব্যবহৃত বিস্ফোরক ফরিদাবাদ থেকে উদ্ধার সামগ্রীরই অংশ।

বর্তমানে NIA (ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি) হাতে রয়েছে বিস্ফোরণ মামলার তদন্তভার।

অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট নিয়ে দিল্লি পাড়ি

তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, অক্টোবরের শেষ সপ্তাহ থেকেই আতঙ্কিত ছিলেন উমর। তিনি পাঁচটি মোবাইল নম্বর ব্যবহার করতেন, যা ৩০ অক্টোবরের পর সবই বন্ধ হয়ে যায়। নভেম্বর ৯ তারিখের ফরিদাবাদ অভিযানের পর থেকে তিনি নিখোঁজ।

অভিযানে প্রায় ২,৯০০ কেজি অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট, ডেটোনেটর, টাইমার ও রাইফেল উদ্ধার হয়। এক সিনিয়র অফিসার বলেন, “ও জানত যে জাল ক্রমশ টানটান হয়ে আসছে। উদ্ধার অভিযানের খবর ছড়িয়ে পড়তেই উমর দিল্লি পালায়, সঙ্গে নিয়ে যায় অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট ফুয়েল অয়েল ও ডেটোনেটর।”

‘অসম্পূর্ণ বোমা’, আতঙ্কেই বিস্ফোরণ

দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, সিকিউরিটি সংস্থার অভিযান ও গ্রেফতারের চাপেই উমর চরম আতঙ্ক ও বিভ্রান্তির মধ্যে কাজ করছিলেন। ওই তাড়াহুরোতেই বোমাটি 'প্রিম্যাচিউর' অবস্থায় বিস্ফোরিত হয়। তা না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়ঙ্কর হতে পারত।

ফারিদাবাদের সাম্প্রতিক তল্লাশিতে উদ্ধার হওয়া প্রায় ৩ হাজার কেজি অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট-এর সঙ্গেও তাঁর যোগ পাওয়া যাচ্ছে। নিরাপত্তা সংস্থার নেতৃত্বে হওয়া সেই অভিযানে ধরা পড়েছিল সাতজন, যাদের মধ্যে দু’জন চিকিৎসকও ছিলেন। তদন্তে উঠে এসেছে, এঁরা সকলে মিলে চালাচ্ছিলেন এক 'হোয়াইট-কলার টেরর নেটওয়ার্ক'।

উমরের সরাসরি যোগাযোগ ছিল ফরিদাবাদে ধরা পড়া দুই চিকিৎসক - আদিল আহমেদ রাথার এবং মুজাম্মিল শেখিল গণাই-এর সঙ্গে। আদিল ছিলেন জম্মু ও কাশ্মীরের অনন্তনাগের গভর্নমেন্ট মেডিক্যাল কলেজের সিনিয়র রেসিডেন্ট, যেখানে উমরও কিছুদিন কাজ করেছিলেন।

পরে জানা যায়, আদিলের সম্পর্ক ছিল জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদ (JeM) এবং আনসার গাজওয়াত-উল-হিন্দ (AGuH)-এর সঙ্গে। ফরিদাবাদের সেই জায়গাতেই তারা বিস্ফোরক মজুত করছিল বলে সন্দেহ।

অন্যদিকে, মুজাম্মিল ও উমর দু’জনেই জম্মু-কাশ্মীরের পুলওয়ামা জেলার বাসিন্দা। তারা একসঙ্গে ফারিদাবাদের আল-ফালাহ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল-এ কাজ করতেন।

দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেল সূত্রে জানা গেছে, “অনন্তনাগে উমর সিনিয়র রেসিডেন্ট হিসেবে কাজ করার সময়ই ডাঃ আদিলের সঙ্গে যোগাযোগ হয়। পরে ফারিদাবাদে এসে ডা; মুজাম্মিলের সঙ্গে কাজ শুরু করেন। তিনজন মিলে পুলওয়ামা থেকে এনসিআর পর্যন্ত ছড়িয়ে থাকা এক জঙ্গি লজিস্টিক নেটওয়ার্ক গড়ে তোলেন, যা JeM-এর সঙ্গে যুক্ত ছিল।”


```