দিল্লি বিস্ফোরণের মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই পশ্চিমবঙ্গে এসেছে ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (NIA)-র তদন্তকারী দল। বুধবার দুপুরে তারা অভিযান চালায় মুর্শিদাবাদের নবগ্রাম থানার নিম গ্রামে।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 12 November 2025 17:41
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গত সোমবার সন্ধেয় নয়াদিল্লিতে (New Delhi) লালকেল্লার (Red Fort) সামনে গাড়ি বিস্ফোরণ হয়। সেই মামলার তদন্তভার নিয়েছে এনআইএ (NIA)। আর বুধবার তাঁদের বিশেষ দল এল পশ্চিমবঙ্গে (West Bengal)। আসলে ঘটনার সঙ্গে নাম জুড়েছে মুর্শিদাবাদের (Mursidabad)!
দিল্লি বিস্ফোরণের মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই পশ্চিমবঙ্গে এসেছে ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (NIA)-র তদন্তকারী দল। বুধবার দুপুরে তারা অভিযান চালায় মুর্শিদাবাদের নবগ্রাম থানার নিম গ্রামে। সূত্রের খবর, দিল্লি বিস্ফোরণ-কাণ্ডে গ্রেফতার হওয়া সন্দেহভাজনদের কাছ থেকে পাওয়া একটি ফোন নম্বরের (Phone Number) সূত্রে বাংলায় আসে এনআইএ। সেই নম্বরটি স্থানীয় বাসিন্দা মইনুল হাসান নামে এক ব্যক্তির বলে জানা যায়।
বুধবার ভোর থেকে মইনুলের বাড়িতে চলে তল্লাশি। দীর্ঘক্ষণ ধরে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন তদন্তকারীরা। জানা গেছে, মইনুল পেশায় পরিযায়ী শ্রমিক (Migrant Worker)। কখনও দিল্লি, কখনও মুম্বই - বিভিন্ন শহরে কাজ করেছেন তিনি। সেই সময়েই তাঁর কিছু সন্দেহভাজন জঙ্গি সংগঠনের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ হয়েছিল বলে অনুমান গোয়েন্দাদের।
দিল্লির বিস্ফোরণের পর মইনুলের নম্বরই তদন্তকারীদের হাতে আসে এবং সেই সূত্র ধরে মুর্শিদাবাদে (Mursidabad) অভিযান চালায় এনআইএ (NIA)। এদিন শুধু নবগ্রাম নয়, জেলার আরও কয়েকটি এলাকাতেও তল্লাশি চালানো হয়। মইনুল ছাড়াও কয়েকজনের নাম উঠে এসেছে তদন্তে, যাদের খোঁজে চলছে জোর তল্লাশি।
বর্তমানে দিল্লির লালকেল্লা বিস্ফোরণ-কাণ্ডে ১৫ জনকে আটক করেছে পুলিশ, পাশাপাশি সন্দেহভাজন চার চিকিৎসকের খোঁজও পাওয়া গেছে। তাদের সঙ্গে এই বিস্ফোরণ এবং মুর্শিদাবাদের যোগাযোগ আছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা।
উল্লেখ্য, এর আগেও মুর্শিদাবাদে একাধিকবার জঙ্গি সংগঠনের যোগ পাওয়া গেছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতেই আনসারুল্লা বাংলা টিম (ABT)-এর কয়েকজন জঙ্গিকে গ্রেফতার করেছিল নিরাপত্তা সংস্থা। পরে অসম-সহ অন্যান্য রাজ্যেও তাদের ডেরার সন্ধান মেলে, উদ্ধার হয় অস্ত্রভাণ্ডার। এবার দিল্লি বিস্ফোরণ কাণ্ডেও নাম জুড়ে গেল মুর্শিদাবাদের।
ইতিমধ্যে জানা গেছে, হরিয়ানার ফরিদাবাদের 'হোয়াইট কলার টেরর মডিউল'-এর যোগসূত্র রয়েছে দিল্লি বিস্ফোরণ কাণ্ডে। আর এর মূল অভিযুক্ত প্রত্যেকেই চিকিৎসক। তবে তদন্তে জানা গেছে, দেশের বড় বড় শহরে হামলার পরিকল্পনা ছিল। সেই জন্য কয়েক মাস ধরেই বিস্ফোরক মজুত করা হচ্ছিল। তবে হয়তো তাড়াহুড়ো বা ভুলবশত আগেই বিস্ফোরণ ঘটে যায়, যার ফলে আরও বড় বিপর্যয় এড়ানো গেছে।