দিল্লির লালকেল্লার কাছে বিস্ফোরণে হরিয়ানার যে ফরিদাবাদ গোষ্ঠীর হদিশ মিলেছে, তারই নাটের গুরু মনে করা হচ্ছে এই ইমাম ইরফান আহমেদকে।

ইমাম ইরফান আহমেদ।
শেষ আপডেট: 12 November 2025 11:39
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইমাম ইরফান আহমেদ। জম্মু-কাশ্মীরের শোপিয়ানের বাসিন্দা। তদন্তকারীদের বাজপাখির চোখ এখন সেই ইমামের দিকেই কেন্দ্রীভূত হয়েছে। দিল্লির লালকেল্লার কাছে বিস্ফোরণে হরিয়ানার যে ফরিদাবাদ গোষ্ঠীর হদিশ মিলেছে, তারই নাটের গুরু মনে করা হচ্ছে এই ইমাম ইরফান আহমেদকে। ইরফান আহমেদকে বিস্ফোরণের মূল চক্রী বলে সন্দেহ করছে তদন্তকারী সংস্থাগুলি।
তদন্তকারীদের বিশ্লেষণ বলছে, আহমেদ ফরিদাবাদের মেডিক্যাল ছাত্রদের কট্টর ইসলামি করে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিল। সন্ত্রাসবাদী আদর্শ বা জেহাদি আদর্শের তাদের ঠেলে দিতে মগজ ধোলাই করেছিল। ফরিদাবাদে আল ফালাহ নামে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাক্তারদের সেই নানান মৌলবাদী বক্তৃতা ও ভিডিও দেখিয়েছিল।
ইরফান আহমেদ আগে শ্রীনগরের সরকারি মেডিক্যাল কলেজে প্যারামেডিক্যাল স্টাফ হিসেবে কাজ করত। সেই সময় থেকেই সে নওগাঁওয়ে বিভিন্ন ছাত্র ও মসজিদে নমাজ পড়তে আসা লোকজনের সঙ্গে কথা বলত। এর পরপর সে অল্পবয়সি মেডিক্যাল ছাত্রদের মধ্যে জেহাদি আদর্শ প্রচার করত। তাদেরকে আল্লার ধর্মযুদ্ধে চরমপন্থাকে বেছে নেওয়ায় উদ্বুদ্ধ করত।
বিভিন্ন সূত্র জানাচ্ছে, আহমেদের পিছন থেকে কলকাঠি নাড়ত পাকিস্তানের জঙ্গি সংগঠন জয়েশ-ই-মহম্মদ। মেডিক্যাল ছাত্রদের মধ্যে জেহাদের বিষ ঢুকিয়ে দিতে জয়েশের প্রচারমূলক ভিডিও দেখাত এবং ধীরে ধীরে তাদের এই কাজে টেনে আনত। তদন্তকারীদের অনুমান, ইরফান আহমেদ আফগানিস্তানের চরদের সঙ্গেও ডেটা কানেকশন ব্যবহার করে ভিওআইপি কলে যোগাযোগ রাখত। যাতে তার ঠিকানার পাত্তা না পাওয়া যায়।
ইরফান তার মৌলবাদী প্রচারের মাধ্যমে ডাঃ মুজাম্মেল শাকিল ও ডাঃ মহম্মদ উমরকে বশ করেছিল। দুজনেই এই বিস্ফোরণে সক্রিয় ছিল বলে অনুমান। আহমেদের লক্ষ্য ছিল, সন্ত্রাসবাদী ভাবনা শিক্ষিত যুবকদের মধ্যে ঢুকিয়ে দেওয়া। বিশেষত ডাক্তারি ছাত্রদের জেহাদি করে তোলা। যাতে তারা সমাজের ভিতর থেকে কোনওরকম সন্দেহের আড়ালে জঙ্গি কার্যকলাপ চালিয়ে যেতে পারে।