জানা যায় কলেজিয়ামের আগের সিদ্ধান্ত নিয়ে আপত্তি তুলেছিল কেন্দ্রের আইন ও বিচার মন্ত্রক। বিচারপতি শ্রী ধরনকে এলাহাবাদ হাইকোর্টে বদলি করতে সরকারের তরফে সুপ্রিম কোর্টের কলেজিয়ামকে বলা হয়েছিল।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 16 October 2025 09:24
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সুপ্রিম কোর্ট ও হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি নিয়োগ এবং তাঁদের বদলির বিষয়ে শেষ কথা বলার অধিকার শীর্ষ আদালতের কলেজিয়ামের। প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন বিচারপতিদের এই কমিটি সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে। তাতে অনেক সময়ই সরকার হস্তক্ষেপ করে বলে বিভিন্ন সময়ে কলেজিয়াম অভিযোগ করেছে। প্রধান বিচারপতি বিআর গাভাই একটি মামলায় স্বীকার করেছেন কেন্দ্রীয় সরকারের পরামর্শ মত অনেক সময়ে বিচারপতিদের বদলি সিদ্ধান্ত কলেজিয়াম বদলে দেয়।
বিচারপতি অতুল শ্রী ধরনের বদলি নিয়ে বিষয়টি সামনে এসেছে। তিনি বর্তমানে মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টে কর্মরত। এ মাসের গোড়ায় কলেজিয়াম তাঁকে ছত্তিসগড় হাইকোর্টে বদলি করেছিল। পরে ১৪ অক্টোবর কলেজজিয়াম তাঁর বদলির আদেশ পরিবর্তন করে। তাকে এলাহাবাদ হাইকোর্টে বদলি করার নতুন নির্দেশ জারি হয়। তিনি এর আগে এলাহাবাদ হাইকোর্টে ছিলেন। ফের তাঁকে কেন একই হাইকোর্টে বদলি করতে চায় সরকার তা নিয়ে রহস্য দানা বেঁধেছে।
জানা যায় কলেজিয়ামের আগের সিদ্ধান্ত নিয়ে আপত্তি তুলেছিল কেন্দ্রের আইন ও বিচার মন্ত্রক। বিচারপতি শ্রী ধরনকে এলাহাবাদ হাইকোর্টে বদলি করতে সরকারের তরফে সুপ্রিম কোর্টের কলেজিয়ামকে বলা হয়েছিল।
সরকারের কথায় বিচারপতি শ্রীধরনের বদলির আদেশ বদলের বিষয়টি মেনে নিয়েছেন প্রধান বিচারপতি বিআর গাভাই। তিনি কলেজিয়ামের মাথায় আছেন। কেন বিচারপ্রতি শ্রী ধরনকে এলাহাবাদ হাইকোর্টে বদলির সুপারিশ সরকারের তরফে করা হয়েছে তা প্রকাশ করা হয়নি। তবে প্রধান বিচারপতির ঘোষণায় শীর্ষ আদালত সহ বিচার ব্যবস্থায় জল্পনা শুরু হয়েছে। কারণ নিকট অতীতে সুপ্রিম কোর্ট বারে বারে সরকারের বিরুদ্ধে শীর্ষ আদালতের কাজে হস্তক্ষেপের অভিযোগ করা হয়েছে। বিচারপতি বদলিতে সরকারের সুপারিশকে শীর্ষ আদালত বিচারালয়ের উপর হস্তক্ষেপ বলে বর্ণনা করে আসছিলেন প্রধান বিচারপতিরা। সভাপতি বর্তমান প্রধান বিচারপতির বক্তব্যকে অনেকেই 'সত্য ফাঁস' বলে বর্ণনা করছেন।
এর আগে সরকার বিচারপতি নিয়োগ এবং তাদের বদলি সংক্রান্ত বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ভার নিজেদের হাতে নিয়ে নিয়েছিল সংসদে আইন তৈরি করে। ২০১৬ সালে তৈরি সেই আইন সুপ্রিম কোর্টই সাংবিধানিক বলে বাতিল করে দেয়। তারপরও সরকারের তরফে বারে বারে চেষ্টা হয়েছে এই কাজে উচ্চ আদালত যাতে শেষ কথা বলতে না পারে। মোদী সরকারের বক্তব্য এই বিষয়ে আদালত সরকারের মতামতকে উপেক্ষা করতে পারে না। এই ইস্যুতে আবার সুপ্রিম কোর্টের বিরুদ্ধে সবচেয়ে সরব ছিলেন সদ্য পদত্যাগী উপরাষ্ট্রপতি জগদীপ ধনকড়।