স্বপ্নভঙ্গের যন্ত্রণায় ক্ষতবিক্ষত তিনি বলেন, “অনেক আশা-ভরসা করে মেয়েকে ডাক্তার বানাতে এখানে এসেছিলাম। কিন্তু মেয়ের ভবিষ্যৎ তো শেষ হয়ে গেল। আর এখানে ফিরব না।”
.jpeg.webp)
নির্যাতিতার বাবা।
শেষ আপডেট: 15 October 2025 17:14
দ্য ওয়াল ব্যুরো: “সোনার বাংলা সোনারই হয়ে থাকুক। আমরা আর ফিরছি না।”, দুর্গাপুরে (Durgapur incident) নির্যাতিতা মেডিক্যাল পড়ুয়ার বাবার (Victim's Father) গলায় এ যেন চরম বেদনার ঘোষণা। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশে শেষবারের মতো আবেদন জানিয়ে, ওড়িশা ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত জানালেন তিনি।
গত কয়েক দিনে দুর্গাপুরের বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজের এই ছাত্রীকে ঘিরে যে ভয়াবহ ঘটনা সামনে এসেছে, তা শুধু তদন্তের বিষয় নয়, তা মানসিকভাবে বিধ্বস্ত করে দিয়েছে পরিবারের ভবিষ্যৎ স্বপ্ন।
স্বপ্নভঙ্গের যন্ত্রণায় ক্ষতবিক্ষত তিনি বলেন, “অনেক আশা-ভরসা করে মেয়েকে ডাক্তার বানাতে এখানে এসেছিলাম। কিন্তু মেয়ের ভবিষ্যৎ তো শেষ হয়ে গেল। আর এখানে ফিরব না।”
ঘটনার পর পুলিশ মোট ছ’জনকে গ্রেফতার করেছে। যাঁদের মধ্যে রয়েছেন নির্যাতিতার সহপাঠী, যাঁর সঙ্গে ক্যাম্পাস ছাড়িয়ে বেরিয়ে যাওয়ার পরই ঘটেছে নির্যাতনের ঘটনা। মঙ্গলবার গ্রেফতার হওয়া সেই ছাত্রকে বুধবার আদালতে হাজির করে সাত দিনের পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
প্রথম থেকেই সেই সহপাঠীর দিকেই আঙুল তুলে এসেছেন তরুণীর বাবা। বুধবার ফের একবার সিবিআই তদন্তের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, “সিবিআই তদন্ত তো চাই। তবে সবটাই বাংলার সরকারের উপর নির্ভর করছে।”
তবে সমস্ত যন্ত্রণা ও অভিমান সত্ত্বেও, মুখ্যমন্ত্রীর প্রতি নম্র কণ্ঠে শেষ অনুরোধ জানাতে ভোলেননি তিনি, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কোটি কোটি প্রণাম। যদি আমি কিছু ভুল করে থাকি, ছেলে মনে করে ক্ষমা করে দেবেন। আমার মেয়েকে ন্যায় দেওয়ার চেষ্টা করবেন, এইটুকুই চাই।”
এমন আবেগঘন বিদায়বাণী সামনে আসতেই ফের একবার আলোচনার কেন্দ্রে দুর্গাপুর কাণ্ড। প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে নানা মহলে প্রশ্ন উঠলেও, মুখ্যমন্ত্রী এখনো এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কিছু বলেননি। এখন দেখার তদন্তে আগামিদিনে কী তথ্য উঠে আসে।