এই পদক্ষেপের মাধ্যমে আফগানিস্তানের বিদেশমন্ত্রক আন্তর্জাতিক সমালোচনার চাপ কাটানোর চেষ্টা করছে বলে মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল।

আমির খান মুত্তাকি
শেষ আপডেট: 12 October 2025 13:25
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মহিলা সাংবাদিকদের (Woman Journalist) বাদ দিয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করার পর চাপে পড়ে অবশেষে পিছু হটলেন আফগান বিদেশমন্ত্রী (Afghan Foreign Minister) আমির খান মুত্তাকি। নয়া দিল্লিতে রবিবার আবার একটি সাংবাদিক বৈঠকের (Press Conference) ডাক দিয়েছেন তিনি। এবারে সেই বৈঠকে মহিলা সাংবাদিকদেরও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
মুত্তাকি বর্তমানে এক সপ্তাহের সফরে ভারতে আছেন। শুক্রবার সন্ধ্যায় তিনি এক প্রেস ব্রিফিং করেন, যেখানে কোনও মহিলা সাংবাদিককে ডাকা হয়নি। ওই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই সাংবাদিক মহল জুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়।
ইন্ডিয়ান উইমেন’স প্রেস কর্পস (IWPC) এবং এডিটরস গিল্ড অব ইন্ডিয়া (EGI) দু’টি সংগঠনই বিবৃতি দিয়ে জানায়, এই ধরনের বৈষম্যমূলক সিদ্ধান্ত কোনওভাবেই ন্যায়সঙ্গত নয়। তাঁরা বলেন, “ভিয়েনা কনভেনশন বা অন্য কোনও কূটনৈতিক প্রোটোকলের আড়ালে লিঙ্গবৈষম্যকে বৈধতা দেওয়া যায় না।”
বিতর্ক বাড়তেই শনিবার আফগান বিদেশমন্ত্রীর দল নতুন করে সাংবাদিক বৈঠকের আমন্ত্রণ পাঠায়। নতুন আমন্ত্রণে উল্লেখ করা হয়েছে, রবিবারের প্রেস মিট হবে ‘ইনক্লুসিভ’, অর্থাৎ পুরুষ ও মহিলা সব সাংবাদিকদের জন্য উন্মুক্ত।
এই পদক্ষেপের মাধ্যমে আফগানিস্তানের বিদেশমন্ত্রক আন্তর্জাতিক সমালোচনার চাপ কাটানোর চেষ্টা করছে বলে মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল। শুক্রবারের ঘটনায় মুত্তাকির সফর কার্যত কূটনৈতিক অস্বস্তিতে পড়েছিল।
শুক্রবার ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের (S. Jaishankar) সঙ্গে বৈঠকের পর দিল্লিতে সাংবাদিক বৈঠক করেন আফগান মন্ত্রী মুত্তাকি। আলোচনার বিষয় ছিল দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, মানবিক সহায়তা এবং নিরাপত্তা সহযোগিতা। কিন্তু সেই বৈঠকের ছবি ছড়িয়ে পড়তেই দেখা যায়— প্রেস কনফারেন্সে উপস্থিত সবাই পুরুষ সাংবাদিক। একজনও মহিলা সাংবাদিক সেখানে ছিলেন না।
এই দৃশ্য প্রকাশ্যে আসতেই প্রতিবাদে সরব হন বহু সাংবাদিক ও রাজনৈতিক নেতা। অনেকে এটিকে ভারতের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি ‘চরম অপমান’ বলে সমালোচনায় নেমে পড়েন।
তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রও সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাঁর বক্তব্য, “সরকার দেশের প্রতিটি মহিলার সম্মানহানি করেছে। তালিবান মন্ত্রীকে মহিলা সাংবাদিকদের বাদ দিতে অনুমতি দিয়ে একেবারে মেরুদণ্ডহীনতার প্রমাণ দিল কেন্দ্র।”
বিতর্ক বাড়তেই শনিবার বিবৃতি দিয়ে জানায় ভারতের বিদেশ মন্ত্রক (MEA), ওই প্রেস কনফারেন্সের সঙ্গে তাদের কোনও যোগ ছিল না। মন্ত্রকের দাবি, “এই বৈঠক সম্পূর্ণ তালিবান প্রতিনিধিদলের উদ্যোগে হয়েছিল, ভারত সরকারের কোনও ভূমিকা ছিল না।”