ওই সময়ে পাকিস্তানের রাস্তায় পড়ে থাকা ডোভাল সাধারণের চোখে ছিলেন ভিখারি। পথের ধুলো গায়ে মেখে পয়সা তুলছেন, এদিক-ওদিক ঘুরে বেড়াচ্ছেন। কিন্তু ছদ্মবেশের আড়ালে কাজ করছিল এক তীক্ষ্ণ মস্তিষ্ক।

অজিত ডোভাল
শেষ আপডেট: 26 August 2025 12:18
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সময়টা আটের দশক, জায়গা পাকিস্তানের ইসলামাবাদ (Pakistan Islamabad)। ধুলোমাখা রাস্তায় ছেঁড়া চাদর জড়িয়ে দিনের পর দিন বসে রয়েছেন একজন। তাঁকে কেউ বিশেষ পাত্তা দেননি। আর দেবেনই বা কেন। সে তো রাস্তার ভিখারি। কিন্তু পাকিস্তানের কেউ যদি তাঁকে পাত্তা দিত বা কারও নজরে আনত তাহলে সে দেশের পরমাণু গবেষণা (Nuclear Plans) অনন্তকালের জন্য পিছিয়ে যেত না। কারণ ওই মানুষটি ছিলেন অজিত ডোভাল (Ajit Doval) - ভারতের ভবিষ্যৎ জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা।
ভারতের গুপ্তচর (RAW) হয়ে দীর্ঘ সময়ে পাকিস্তানে থাকার অভিজ্ঞতা রয়েছে অজিত ডোভালের। সেই পর্বেই তিনি পাকিস্তানের পরমাণু গবেষণার কাজে বড়সড় ক্ষতি করে দিয়েছিলেন সামান্য ভিখারি সেজেই। কীভাবে? চুলের সাহায্যে!
পাকিস্তানে থাকাকালীন এই অফিসারের দায়িত্ব ছিল তাঁদের গোপন পরমাণু কর্মসূচির খোঁজ বের করা। কারণ ভারতের ১৯৭৪ সালের নিউক্লিয়ার টেস্টের পর পাকিস্তান যে কোনও মূল্যে পারমাণবিক অস্ত্র (Nuclear Weapon) বানাতে বদ্ধপরিকর হয়ে ওঠে। চিন সহ একাধিক দেশের সহযোগিতায় ইসলামাবাদ চালাচ্ছিল গোপন কর্মসূচি। ভারতের হাতে কোনও নিশ্চিত প্রমাণ ছিল না। আর সেই প্রমাণ সংগ্রহের দায়িত্ব দেওয়া হয় গোয়েন্দা জগতে ‘সুপার কপ’ খ্যাত ডোভালের হাতে।
ওই সময়ে পাকিস্তানের রাস্তায় পড়ে থাকা ডোভাল সাধারণের চোখে ছিলেন ভিখারি। পথের ধুলো গায়ে মেখে পয়সা তুলছেন, এদিক-ওদিক ঘুরে বেড়াচ্ছেন। কিন্তু ছদ্মবেশের আড়ালে কাজ করছিল এক তীক্ষ্ণ মস্তিষ্ক।
কাহুটা - পাকিস্তানের সবচেয়ে সুরক্ষিত শহরগুলির একটি। এখানে অবস্থিত ছিল কুখ্যাত খান রিসার্চ ল্যাবরেটরিজ (কেআরএল)। সেখানকার বিজ্ঞানী, নিরাপত্তারক্ষী, সরকারি কর্মচারীদের প্রতিটি পদক্ষেপ ছিল শৃঙ্খলাবদ্ধ। এমন জায়গাতেই দীর্ঘদিন নিজেকে কার্যত অদৃশ্য করে ফেলেছিলেন অজিত ডোভাল। ধুলো জমা রাস্তা, চায়ের দোকান, স্থানীয় বাজারে মিশে গিয়েছিলেন সহজে। এইভাবে থাকতে থাকতেই তাঁর জন্য অভিযানের মোড় ঘোরে এক সাধারণ সেলুনের জন্য।
কেআরএল-এর বিজ্ঞানীরা সেখানে নিয়মিত চুল কাটাতে আসতেন। স্বাভাবিক নিয়মেই ঝরে পড়া চুলকে ফেলে দিত সেলুন। তবে ডোভাল সযত্নে সেগুলি সংগ্রহ করতেন। সেই নমুনাই পরে গোপনে পাঠানো হত ভারতে। আর সেই চুলের পরীক্ষায় মেলে ইউরেনিয়ামের অস্তিত্ব, ধরা পড়ে বিকিরণের চিহ্ন! এৎ ফলেই ভারত নিশ্চিত হয় - পাকিস্তান সত্যিই গোপনে পরমাণু অস্ত্র বানাচ্ছে। সেই তথ্যই বদলে দিল ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা নীতি।
এ মিশন কোনও স্বল্পমেয়াদি অভিযান ছিল না। টানা ছয় বছর ওইভাবে জীবন কাটিয়েছেন ডোভাল। ধরা পড়লে শুধু নিজের প্রাণ নয়, দেশের নিরাপত্তাও বিপন্ন হতে পারত। বিশেষজ্ঞদের দাবি, ডোভালের সেই অভিযানের ফলেই পাকিস্তানের পরমাণু পরীক্ষার ক্ষমতা অন্তত পনেরো বছর পিছিয়ে যায়।