সূত্র অনুযায়ী, প্রযুক্তিগত নজরদারিতে ধরা পড়ে যে পাকিস্তানি এজেন্ট, কোড নেম ‘সেলিম আহমেদ’ জাট ছাড়াও অন্তত ১৫ জনকে ফোন করেছিলেন।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 26 August 2025 12:11
দ্য ওয়াল ব্যুরো: তিন মাস আগে রাজধানী দিল্লি (Delhi) থেকে গ্রেফতার হন সিআরপিএফ (CRPF) অ্যাসিস্ট্যান্ট সাব-ইন্সপেক্টর মতিরাম জাট (Mati Ram Jat)। অভিযোগ, তিনি পাকিস্তানের (Pakistani Agent) এক গোয়েন্দা কর্মকর্তাকে সংবেদনশীল তথ্য পাচার করছিলেন। জাতীয় তদন্ত সংস্থা (NIA) তাঁকে ২৭ মে আটক করে। তদন্তে উঠে এসেছে, শুধু জাটের সঙ্গেই নয়, ওই পাক গুপ্তচর আরও অন্তত ১৫টি ভারতীয় সেনা (Indian Army), আধাসামরিক বাহিনী এবং সরকারের সঙ্গে যুক্ত ফোন নম্বরে যোগাযোগ (Phone Number) করেছিলেন।
জানা গিয়েছে, জাটকে আগে পহেলগামের (Pahalgam) একটি সিআরপিএফ ব্যাটালিয়নে পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু ২২ এপ্রিলের ভয়াবহ জঙ্গি হামলার মাত্র পাঁচ দিন আগে তাঁকে বদলি করে আনা হয় দিল্লিতে। ওই হামলায় প্রাণ হারান ২৬ জন সাধারণ মানুষ।
সূত্র অনুযায়ী, প্রযুক্তিগত নজরদারিতে ধরা পড়ে যে পাকিস্তানি এজেন্ট, কোড নেম ‘সেলিম আহমেদ’ জাট ছাড়াও অন্তত ১৫ জনকে ফোন করেছিলেন। কল রেকর্ড খতিয়ে দেখে গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন, সেই নম্বরগুলির মধ্যে চারটি সেনা কর্মীদের, চারটি আধাসামরিক বাহিনীর জওয়ানদের এবং বাকি সাতটি বিভিন্ন কেন্দ্রীয় সরকারি বিভাগের কর্মীদের।
অন্যদিকে, যে সিমকার্ড (Sim Card) দিয়ে জাটের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল, তা কলকাতা (Kolkata) থেকে জোগাড় করা হয়েছিল। ওই ব্যক্তি ২০০৭ সালে এক পাকিস্তানি নাগরিককে বিয়ে করেন এবং ২০১৪ সালে পাকভূমিতে চলে যান। তবে প্রতিবছর দু’বার করে কলকাতায় আসতেন। তিনিই নাকি লাহোরে থাকা পাক অপারেটিভকে সিমের অ্যাক্টিভেশন ওটিপি পাঠিয়েছিলেন।
তদন্তকারীদের দাবি, গত দুই বছরে জাট নিয়মিতই লাহোরে তাঁর হ্যান্ডলারের কাছে গোপন নথি পাঠাতেন। প্রতি দফায় ১২ হাজার টাকা পর্যন্ত তিনি পেতেন, যা জমা পড়ত দিল্লি, মহারাষ্ট্র, হরিয়ানা, রাজস্থান, উত্তরপ্রদেশ, ছত্তিশগড়, আসাম এবং পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন ব্যাংক অ্যাকাউন্টে। এই টাকার উৎস হিসেবে উঠে এসেছে শাহজাদ নামে এক ব্যক্তির নাম, যিনি গত মে মাসে উত্তরপ্রদেশ এটিএসের হাতে ধরা পড়েছেন। মশলা, প্রসাধনী এবং পোশাক পাচারের আড়ালে তিনি আইএসআই-এর কাছে তথ্য পাচার করছিলেন বলে অভিযোগ।
সূত্র আরও জানাচ্ছে, এক চণ্ডীগড়-ভিত্তিক সংবাদ চ্যানেলের মহিলা সাংবাদিক সেজে জাটের সঙ্গে প্রথমে যোগাযোগ করেন পাক এজেন্টরা। ফোন ও ভিডিও কলে ঘনিষ্ঠতার পরে তিনি জাটের কাছ থেকে সংবেদনশীল তথ্য আদায় করেন। পরে সরাসরি এক পাক অফিসার যোগাযোগের দায়িত্ব নেন এবং সাংবাদিক পরিচয় বজায় রেখে গোপন নথি আদান-প্রদান চালিয়ে যান।
অভিযোগ, মতিরাম জাট ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর মোতায়েনের বিবরণ, সরকারি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে ভাগ করা মাল্টি-এজেন্সি সেন্টারের রিপোর্ট, জওয়ানদের গতিবিধি এবং জঙ্গিদের অবস্থান সংক্রান্ত একাধিক তথ্য পাক গুপ্তচরদের হাতে তুলে দিয়েছিলেন।