সর্বেশ সিং নামে মাত্র ৪৬ বছরের ওই সহকারী স্কুল শিক্ষক আত্মহত্যার আগে একটি সকরুণ ভিডিও পোস্ট করেছেন।
.jpeg.webp)
সর্বেশ সিং।
শেষ আপডেট: 1 December 2025 13:46
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নির্বাচন কমিশনের বিশেষ ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজের চাপ সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যা করলেন এক বুথ লেভেল অফিসার (BLO)। ঘটনাটি ঘটেছে উত্তরপ্রদেশের মোরাদাবাদে। সর্বেশ সিং নামে মাত্র ৪৬ বছরের ওই সহকারী স্কুল শিক্ষক আত্মহত্যার আগে একটি সকরুণ ভিডিও পোস্ট করেছেন। যেখানে তীব্র কান্নায় ভেঙে পড়ে কাজের চাপের কথা জানিয়েছেন। একটি আত্মহত্যার চিঠিও লিখে গলায় ফাঁস দিয়ে বাড়িতে আত্মহত্যা করেন।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ভোটার সংশোধন তালিকা নিয়ে বেশ কয়েকজন বিএলও-র আত্মহত্যার ঘটনা সামনে এসেছে। প্রত্যেকেরই অভিযোগ, এত কাজের চাপ যা সময়মতো শেষ করা যাচ্ছে না, পাশাপাশি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অসহনীয় চাপ আসছে। পশ্চিমবঙ্গ, উত্তরপ্রদেশ, কেরল, ছত্তীসগড়, গোয়া, গুজরাত, মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান ও তামিলনাড়ুতে এই তালিকা সংশোধনের কাজ চলছে।
সর্বেশ সিংকে গত ৭ অক্টোবর বিএলও নিযুক্ত করা হয়েছিল। এটাই ছিল তাঁর প্রথম ভোটের ডিউটি। সর্বেশের একটি ভিডিও যা আত্মহত্যার আগে তোলা হয়েছে বলে পুলিশের অনুমান, তাতে তিনি পুরোপুরি ভেঙে পড়েন। চোখের জলে ভাসতে ভাসতে তিনি তাঁর কাজ শেষ করতে না পারার ব্যর্থতার কথাও স্বীকার করে নেন। কঠিন পরিশ্রম করেও তাঁর কাজ শেষ করতে না পারার কারণে তিনি ক্ষমা চেয়ে নিয়েছেন। মা-বোনের কাছে আত্মহত্যার জন্য ক্ষমা চেয়ে তাঁর ছোট মেয়েদের দেখাশোনার অনুরোধ জানান সর্বেশ।
মনকে নাড়া দেওয়া এই ভিডিওয় দেখা গিয়েছে, চোখের জলে ভাসতে থাকা সর্বেশ বলছেন, মা আমার মেয়েদের দেখো। আমায় দয়া করে ক্ষমা করে দিও। আমি কাজ শেষ করতে পারিনি। আমি চরম পদক্ষেপ নিতে চলেছি। তিনি এও বলেছেন, তাঁর মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নন। এ ব্যাপারে তাঁর পরিবারের কাছে যেন কেউ কিছু না জানতে চান, তারও অনুরোধ করেন সর্বেশ।
তিনি বলেছেন, আমি নিদারুণ চাপের মধ্যে রয়েছে। গত ২০ দিন ধরে ঘুমোতে পারিনি। আমার চারটি ছোট মেয়ে রয়েছে। অন্যরা কাজ শেষ করতে পারলেও আমি পারিনি। গোটা ভিডিওতে তাঁকে অঝোরে কাঁদতে দেখা গিয়েছে। বোনের উদ্দেশে বলেছেন, আমি এই পৃথিবী ছেড়ে অনেক দূরে চলে যাচ্ছি। বোন আমায় ক্ষমা করে দিস। আমি না থাকলে আমার মেয়েগুলোকে দেখিস।
পুলিশ ও প্রশাসন জানিয়েছে, রবিবার ভোরে তাঁর স্ত্রী বাবলি দেবী তাঁকে বাড়ির গুদামঘরে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। তারপর খবর দেওয়া হয় পুলিশে। হাতে লেখা দুপাতার একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার করা হয়েছে। সেখানেও তিনি একই ধরনের দুঃখ-কষ্টের কথা লিখে গিয়েছেন। পুলিশেরও ধারণা, তিনি বিএলও-র কাজের চাপ নিতে পারছিলেন না। সে কারণে হতাশায় ভুগছিলেন। পরিবারও কমিশনের বিরুদ্ধে একই অভিযোগ করেছে।