মধ্যপ্রদেশের (Madhya Pradesh) মোট সরকারি কর্মীর প্রায় ৯ শতাংশ অর্থাৎ ৫০ হাজার কর্মী 'ভূতুড়ে'। সরকারি নথিতে তাদের নাম, কর্মী কোড নথিভুক্ত করা রয়েছে। অথচ গত বছরের ডিসেম্বর থেকে তাঁদের কারও বেতন হয়নি।
.jpg.webp)
মধ্যপ্রদেশে বেতন দুর্নীতি
শেষ আপডেট: 6 June 2025 16:23
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ছ'মাসের বেতনের হদিশ নেই। কেউ অবসরে যাননি, কাউকে সাসপেন্ডও করা হয়নি, তবুও প্রায় ৫০ হাজার সরকারি কর্মীর বেতন নেই। প্রশ্ন উঠতে শুরু করে, আদৌ কি সেই কর্মীদের অস্তিত্ব আছে? নাকি কেবল খাতায় কলমেই 'ভূতুড়ে' নিয়োগ? এবার মধ্যপ্রদেশে প্রকাশ্যে এল ২৩০ কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ (Madhya Pradesh Salary Scam)।
মধ্যপ্রদেশের (Madhya Pradesh) মোট সরকারি কর্মীর প্রায় ৯ শতাংশ অর্থাৎ ৫০ হাজার কর্মী 'ভূতুড়ে'। সরকারি নথিতে তাদের নাম, কর্মী কোড নথিভুক্ত করা রয়েছে। অথচ গত বছরের ডিসেম্বর থেকে তাঁদের কারও বেতন হয়নি। এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম দাবি করেছে, তাদের কাছে এবিষয়ে একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্য রয়েছে ( (230 Crore Salary Scam in Madhya Pradesh)।
রাজ্যের ট্রেজারি অ্যান্ড অ্যাকাউন্টসের কমিশনার ভাস্কর লক্ষরের তরফে ড্রয়িং অ্যান্ড ডিসবার্সিং অফিসারদের পাঠানো একটি চিঠিতে বলা হয়েছে, '২০২৪ সালের ডিসেম্বর থেকে যে সমস্ত কর্মীদের বেতন হয়নি তাঁদের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। তবে আইএফএমআইএস-এর (IFMIS) যাচাই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হয়নি।' এই চিঠির পরই রাজ্যের ৬ হাজারের বেশি ডিডিও-র কাছে জবাব চেয়ে পাঠানো হয়েছে। ১৫ দিনের মধ্যে জমা দিতে হবে রিপোর্ট। উল্লেখ্য, শুক্রবারই সেই সময়সীমা শেষ হয়েছে।
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে ভাস্কর লক্ষর জানিয়েছেন, 'আমরা নিয়মিত তথ্য বিশ্লেষণ করি। সেখানেই এই অস্বাভাবিকতা ধরা পড়েছে। অ্যাকাউন্টগুলি থেকে বেতনের টাকা তোলা যাচ্ছে না। সম্ভাব্য দুর্নীতির ঝুঁকি ঠেকাতেই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছি।' 'ভূতুড়ে' কর্মী খুঁজতে রাজ্যজুড়ে অভিযান শুরু করেছে রাজ্য ট্রেজারি দফতর।
এক শীর্ষ আধিকারিক বলেন, ' বদলি, সাসপেনশন- এই সব ক্ষেত্রে অনেক সময় বেতন বন্ধ থাকে। কিন্তু টানা ছয় মাস ধরে বেতন নেই, এদিকে সেই কর্মীরা চাকরিতে বহাল রয়েছেন। এর থেকে দুর্নীতির গন্ধ আসছে।' এনিয়ে নিজের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন মধ্যপ্রদেশের অর্থমন্ত্রী জগদীশ দেবদার। তিনি বলেন, 'নিয়ম মেনে ঘটনার তদন্ত শুরু হবে।'
৫০ হাজার কর্মীর মধ্যে ৪০ হাজার নিয়মিত কর্মী এবং বাকি ১০ হাজার অস্থায়ী কর্মী রয়েছেন। তাঁদের ছয় মাসের বেতনের হিসেব করলে দাঁড়ায় ২৩০ কোটি টাকা (230 Crore Salary Scam)। স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠছে, এই বিশাল অঙ্কের টাকা কোথায় গেল? সরকারি কর্মীদের বেতনের ২৩০ কোটি টাকার দুর্নীতি? প্রশ্ন উঠছে সরকারের অন্দরেই। পাশাপাশি, ৫০ হাজার পদ যদি খালি থাকে, তাহলে ৯ শতাংশ কর্মী ছাড়া কীভাবে সরকারি দফতরগুলি চলছে?, একের পর এক প্রশ্নের জালে জড়িয়ে অস্বস্তিতে রাজ্য-প্রশাসন।
ওয়াকিহাল মহলের মতে, এই ‘ভুতুড়ে’ বেতন কেলেঙ্কারির মধ্যে মধ্যপ্রদেশের ইতিহাসে অন্যতম বড় এক সরকারি দুর্নীতির সম্ভাবনা উঁকি দিচ্ছে।