অভিযোগ পাওয়ার পর বিডিও অরবিন্দ কুমার পদক্ষেপের আশ্বাস দেন। তিনি বুথ লেভেল অফিসার (বিএলও)-কে নির্দেশ দেন ফর্ম-৬ পূরণ করে দ্রুত তাঁদের নাম পুনর্বহাল করতে।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 11 October 2025 16:12
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভোটের প্রথম দফা (Elections) শুরু হতে আর মাত্র কয়েক সপ্তাহ বাকি। এর মধ্যেই বিহারে (Bihar) চাঞ্চল্য। পাঁচ ভোটার বেঁচে থাকলেও তাদের ভোটার তালিকায় মৃত (Voters' List) বলে দেখানো হয়েছে বলে অভিযোগ।
রাজ্যের পাঁচজন বাসিন্দা দেখেছেন ভোটার তালিকায় তাঁদের নামের পাশে লেখা ‘মৃত’ (Dead)! ঘটনাটি ঘটেছে ধোরাইয়া ব্লকের বাটসর গ্রামে।
যারা এমন অভিযোগ তুলেছেন তারা গ্রামের বুথ নম্বর ২১৬-র অন্তর্গত। এই পাঁচজন হলেন - মোহন সাহ (ক্রমিক ২), সঞ্জয় যাদব (১৭৫), রামরূপ যাদব (২১১), নরেন্দ্র কুমার দাস (৩৬৪) এবং বিষ্ণুবর প্রসাদ (৩৮০)। শুক্রবার বিডিও (BDO) অরবিন্দ কুমারের কাছে হাজির হন তারা। তাঁদের হাতে ছিল এক আবেদনপত্র, যাতে বড় অক্ষরে লেখা, “স্যার, আমরা বেঁচে আছি!” সামাজিক কর্মী ইন্দ্রদেব মণ্ডলের নেতৃত্বে তাঁরা এই অভিযোগ জানিয়েছেন যে, এই ভুলের কারণে ভোটের দিনে তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগে বাধা পড়তে পারে।
অভিযোগ পাওয়ার পর বিডিও অরবিন্দ কুমার পদক্ষেপের আশ্বাস দেন। তিনি বুথ লেভেল অফিসার (BLO)-কে নির্দেশ দেন ফর্ম-৬ পূরণ করে দ্রুত তাঁদের নাম পুনর্বহাল করতে। তাঁর কথায়, “যোগ্য কোনও ভোটারকে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করা হবে না।”
এর আগেও এমন ঘটনা ঘটেছে। পশ্চিম চম্পারণ জেলার বাগাহী পঞ্চায়েতের দুমরি গ্রামে অন্তত ১৫ জন জীবিত ব্যক্তিকে ‘মৃত’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছিল। আবার উল্টোদিকে, যাঁরা বহু আগে মারা গেছেন - যেমন সোনিয়া শরণ (মৃত্যু ২০১৮ সালে) ও তাঁর পুত্র মনীত মণি (মৃত্যু ফেব্রুয়ারি ২০২৫) তাঁদের নাম এখনও ভোটার তালিকায় ‘জীবিত ভোটার’ হিসেবে রয়েছে। এমনকী ২০১৬ সালে যাঁরা প্রয়াত হয়েছেন, তাঁদেরও নাম এখনও তালিকায় থাকার অভিযোগ উঠেছে।
উল্লেখ্য, ২৪৩টি আসনে আসন্ন বিহার বিধানসভা নির্বাচন দুই দফায় অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম দফা ৬ নভেম্বর, দ্বিতীয় দফা ১১ নভেম্বর। ভোটগণনা ১৪ নভেম্বর। অর্থাৎ প্রত্যাশা মতো ছটপুজোর পরেই বিহারে ভোট হবে। বিহারের সঙ্গেই নির্বাচন কমিশন এবার মোট ১৭টি পদক্ষেপ নিচ্ছে, যা পরবর্তীকালে গোটা দেশের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবে।
এই বিহার ভোটের আগেই বিশেষ ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে কিছুদিন আগে পর্যন্ত গোটা দেশ উত্তাল হয়ে উঠেছিল। গত বর্ষাকালীন অধিবেশনে সংসদের অধিকাংশ দিনই ভন্ডুল হয়ে গিয়েছিল বিরোধীদের একযোগে বিক্ষোভে। বিষয়টি গড়ায় সুপ্রিম কোর্টেও।