চেতন কুমার পুলিশের কাছে দাবি করেছেন, প্রথম স্ত্রী সন্তান ধারণে অক্ষম হওয়ায় তিনি দ্বিতীয় বিয়ে করতে বাধ্য হন। কিন্তু এই বক্তব্যেই প্রশ্ন তুলছেন তদন্তকারীরা। কারণ, সুজাতার কন্যাসন্তানের বয়স মৃত্যুকালে ১৬ - যা তাঁর বক্তব্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 9 February 2026 22:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গাজিয়াবাদের ভারত সিটি আবাসনে তিন নাবালিকা বোনের মর্মান্তিক মৃত্যুর (Gaziabad Triple Death) ঘটনায় তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই সামনে আসছে একের পর এক অস্বস্তিকর তথ্য। প্রথমে যে ঘটনাকে ‘গেম আসক্তি’জনিত আত্মহত্যা (Suicide Case) বলে ধরা হচ্ছিল, পুলিশি অনুসন্ধানে তা ক্রমশ রূপ নিচ্ছে জটিল পারিবারিক সংকট, বহু বিবাহ, আর্থিক বিপর্যয় ও পুরনো রহস্যের এক অন্ধকার ছবিতে।
গত বুধবার ন'তলা আবাসনের ব্যালকনি থেকে ঝাঁপ দিয়ে মৃত্যু হয় ১৬ বছরের নিশিকা, ১৪ বছরের প্রাচী ও ১২ বছরের পাখির (Three Sisters Death)। অভিযোগ, বাবা চেতন কুমার তাঁদের মোবাইল কেড়ে নেওয়ায় তারা চরম মানসিক চাপে পড়ে এই সিদ্ধান্ত নেয়। তবে তদন্তে উঠে এসেছে, এই তিন বোনের পারিবারিক পরিস্থিতি ছিল চরম অস্বাভাবিক।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গাজিয়াবাদের একটি তিন কামরার ফ্ল্যাটে চেতন কুমার তাঁর তিন স্ত্রী - সুজাতা, হিনা ও টিনা পাঁচ সন্তানকে নিয়ে থাকতেন। পাঁচ সন্তান ও তিন স্ত্রী সকলেই রাত কাটাতেন একটি মাত্র ঘরে। প্রথম স্ত্রী সুজাতার সঙ্গে তাঁর একটি কন্যাসন্তান এবং এক বিশেষভাবেসক্ষম পুত্র রয়েছে। দ্বিতীয় স্ত্রী হিনার সঙ্গে তাঁর দুই কন্যা - প্রাচী ও পাখি। তৃতীয় স্ত্রী টিনা, যিনি ইসলাম থেকে হিন্দু ধর্ম গ্রহণ করেছিলেন, তাঁর সঙ্গে রয়েছে তিন বছরের একটি কন্যাসন্তান।
চেতন কুমার পুলিশের কাছে দাবি করেছেন, প্রথম স্ত্রী সন্তান ধারণে অক্ষম হওয়ায় তিনি দ্বিতীয় বিয়ে করতে বাধ্য হন। কিন্তু এই বক্তব্যেই প্রশ্ন তুলছেন তদন্তকারীরা। কারণ, সুজাতার কন্যাসন্তানের বয়স মৃত্যুকালে ১৬ - যা তাঁর বক্তব্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। পুলিশের দাবি, জেরার সময় বারবার বক্তব্য বদলেছেন চেতন কুমার এবং শুরুতে টিনার সঙ্গে তাঁর বিয়ের কথা গোপন করারও চেষ্টা করেন।
শালিমার গার্ডেনের এসিপি অতুল কুমার সিং জানিয়েছেন, তিন নাবালিকার ময়নাতদন্তে মাথায় আঘাতজনিত মৃত্যুর প্রমাণ মিলেছে। কোনও যৌন হেনস্থার চিহ্ন নেই। মেয়েদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন - যার একটি ঘটনার ১৫ দিন আগেই বিক্রি করা হয়েছিল, সেগুলি উদ্ধার করে ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে, যাতে মৃত্যুর আগের সময়ে কী ঘটেছিল, তা স্পষ্ট হয়।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া ৩০ পাতার একটি ডায়েরিতে মেয়েরা কোরিয়ান ড্রামা ও কেপপ সঙ্গীত দেখা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় হতাশার কথা লিখেছিল। তবে তদন্তকারীদের মতে, এটিই পুরো ঘটনার ব্যাখ্যা হতে পারে না।
ঘটনায় নতুন করে রহস্য তৈরি করেছে ২০১৮ সালের একটি মৃত্যু। সুজাতা ও হিনার বোন সেই বছর এই বাড়িতে বেড়াতে এসে বারান্দা থেকে পড়ে যান। ঘটনাটিকে দুর্ঘটনা হিসেবে নথিভুক্ত করা হলেও, পরিবার কোনও অভিযোগ দায়ের করেনি।
চেতন কুমার পেশায় স্টকব্রোকার। পুলিশের দাবি, তাঁর মাথায় রয়েছে প্রায় ২ কোটি টাকার ঋণের বোঝা। বিদ্যুৎ বিল মেটাতে মেয়েদের মোবাইল ফোন বিক্রি করা হয়েছিল। কোভিড পর্বের পরেও মেয়েদের স্কুলে পাঠানো হয়নি - এর কারণ হিসেবেও উঠে এসেছে এই আর্থিক সংকট।
তিন বোনের মৃত্যু নিছক ‘আত্মহত্যা’ না কি দীর্ঘদিনের চেপে রাখা পারিবারিক অন্ধকারের পরিণতি, সেই প্রশ্নই এখন কেন্দ্রে। তদন্তের প্রতিটি ধাপেই নতুন করে ঘনীভূত হচ্ছে রহস্য।