৩ দিন যুদ্ধের বিভীষিকা, মিসাইল আর বিস্ফোরণের শব্দের মধ্যে কাটানো সময়। অবশেষে আবু ধাবি থেকে দিল্লিতে ফিরলেন ৩১০ জন ভারতীয়।

ফাইল চিত্র
শেষ আপডেট: 3 March 2026 12:35
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অবশেষে স্বস্তির নিশ্বাস। যুদ্ধের আবহে আবু ধাবিতে (Abu Dhabi) আটকে পড়া ৩১০ জন ভারতীয় সোমবার রাতে নিরাপদে দেশে ফিরলেন (Delhi Airport)। প্রাণভয়ে দিন কাটানোর পর সংযুক্ত আরব আমিরশাহি থেকে দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পা রাখতেই আবেগে ভেসে যায় পরিবেশ। দুপুর থেকেই বিমানবন্দরে অপেক্ষা করছিলেন তাঁদের আত্মীয়-স্বজনেরা। দেখা হতেই কেউ জড়িয়ে ধরলেন, কারও চোখে জল, মুখে স্বস্তির হাসি।
এ দিন দুপুর ৩টা ৪২ মিনিটে আবু ধাবি থেকে উড়ান ছাড়ে এতিহাদ এয়ারওয়েজের ফ্লাইট ইওয়াই ২১৬। রাত ৮টা ৩১ মিনিটে সেটি অবতরণ করে দিল্লিতে। ফ্লাইটের সিঁড়ি দিয়ে একে একে যাত্রীরা নামতেই বিমানবন্দরে হাততালির ঢেউ ওঠে।
এই উড়ানেই ছিলেন রাহুল কুমার। তাঁর ২৮ ফেব্রুয়ারি দিল্লি ফেরার কথা ছিল। সে দিন ভোরেই আবু ধাবি বিমানবন্দরে পৌঁছে বোর্ডিং পাসও পেয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু ঠিক তার পরেই যুদ্ধ শুরু হওয়ায় বন্ধ হয়ে যায় বিমান চলাচল। রাহুলের কথায়, “তাড়াহুড়ো করে হোটেলে ফিরে যাই। তার পর তিন দিন রুমেই ছিলাম। শুধু মিসাইল আর বিস্ফোরণের বিকট শব্দ শুনেছি। আমাদের হোটেল পর্যন্ত কেঁপে উঠছিল।”
কানাডা থেকে ফিরছিলেন হরপিন্দর সিধু। আবু ধাবিতে তাঁর যাত্রাবিরতি ছিল। সেখানেই আটকে পড়েন তিনি। তবে আরব আমিরশাহির প্রশাসনের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন হরপিন্দর। তাঁর বক্তব্য, “প্রশাসন সব কিছু সামলে দিয়েছে। তাই আতঙ্ক ছড়ায়নি।” ছেলে ও পুত্রবধূকে সঙ্গে নিয়ে বিমানবন্দর ছাড়ছিলেন শশী পারমা। আবেগঘন কণ্ঠে তিনি বলেন, “প্রথম বার দিল্লিতে এসে নিজেকে এতটা নিরাপদ লাগছে।”
উল্লেখ্য, শনিবার সকালে ইরানের তিনটি শহরে ইজ়রায়েলের বিমান হামলার পর পরিস্থিতি দ্রুত জটিল হয়ে ওঠে। সংঘাতের আবহে ইরান পাল্টা বাহারিন, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি ও সৌদি আরবে হামলা শুরু করে। সঙ্গে সঙ্গে বন্ধ হয়ে যায় বিমান পরিষেবা। হাজার হাজার যাত্রী বিভিন্ন বিমানবন্দরে আটকে পড়েন। তবে ধীরে ধীরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হচ্ছে।
দুবাইয়ের মিডিয়া অফিস জানিয়েছে, ২ মার্চ সন্ধ্যা থেকে সীমিত সংখ্যক উড়ান নিয়ে পরিষেবা শুরু করেছে ফ্লাই দুবাই। এমিরেটসও শীঘ্রই পরিষেবা চালুর আশ্বাস দিয়েছে এবং খুব তাড়াতাড়ি সময়সূচি ঘোষণা করবে বলে জানিয়েছে। আবু ধাবি বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষও আংশিক পরিষেবা চালুর কথা ঘোষণা করেছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আটকে পড়া যাত্রীদের দেশে ফেরার প্রক্রিয়া আরও দ্রুত হবে বলেই আশা।