উধমপুরের জঙ্গলে এই অভিযান এখনও শেষ হয়নি। নিরাপত্তা বাহিনী পুরো এলাকা সুরক্ষিত ঘোষণা না করা পর্যন্ত অভিযান জারি থাকবে।

জম্মু-কাশ্মীরে নিহত ২ জইশ সদস্য
শেষ আপডেট: 4 February 2026 13:49
দ্য ওয়াল ব্যুরো: জম্মু-কাশ্মীরের উধমপুর জেলায় নিরাপত্তাবাহিনীর বড় সাফল্য। রামনগর এলাকার জাফর জঙ্গলে একটি গুহায় লুকিয়ে থাকা জইশ-ই-মহম্মদ (Jaish-e-Mohammad)-এর দুই জঙ্গিকে খতম করেছে সেনা, পুলিশ এবং সিআরপিএফের যৌথ দল (Two Jaish terrorists killed in Udhampur)। বুধবার সকালেই এই তথ্য নিশ্চিত করেছে নিরাপত্তা বাহিনী।
মঙ্গলবার দুপুরে প্রথম সংঘর্ষ শুরু হয়। জঙ্গলের ভেতরে জঙ্গিদের লুকিয়ে থাকার খবর পেয়ে এলাকায় তল্লাশি চালায় নিরাপত্তা বাহিনীর দল। সেই সময়ই জইশের জঙ্গিদের সঙ্গে গুলির লড়াই শুরু হয়। জানা গেছে, প্রথম দফার সংঘর্ষে এক জঙ্গি আহত হয়। পরে দুই জঙ্গি মিলে জাফর জঙ্গলেরই একটি গুহায় গিয়ে আশ্রয় নেয়।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় অন্ধকারের সুযোগে পালানোর চেষ্টা করে ওই দু'জন। তখনই ফের গুলি চলে এবং বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। ঘটনা আরও জটিল হওয়ায় সেনার অতিরিক্ত বাহিনী, প্যারাট্রুপার (paratroopers) ও ডগ স্কোয়াড (dog squads) ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে নিরাপত্তা বাহিনী, যাতে জঙ্গিরা পালাতে না পারে।
রাতভর তল্লাশি অভিযান চলার পর বুধবার সকালে নিশ্চিত করা হয় যে গুহার ভেতর লুকিয়ে থাকা দুই জঙ্গিই নিহত হয়েছে। এখনও গুহাটি পুরোপুরি সাফ করা হয়নি। ভিতরে কোনও বিস্ফোরক বা অতিরিক্ত অস্ত্র মজুত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে বোম্ব স্কোয়াড এবং অন্য বিশেষজ্ঞ দল।
অভিযানকে নিরাপদ রাখতে ড্রোনের মাধ্যমে পুরো অঞ্চলের ওপর নজরদারি চালানো হচ্ছে। জঙ্গলের ঘন এলাকায় আরও জঙ্গি লুকিয়ে আছে কি না, সে বিষয়েও সতর্ক আছে বাহিনী।
সূত্রের দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে উধমপুর এবং আশপাশের এলাকায় জইশ-ই-মহম্মদ-সহ একাধিক জঙ্গি সংগঠনের তৎপরতা বাড়ছিল। তাই আগেই গোয়েন্দা বিভাগ সতর্ক করেছিল। সেই ভিত্তিতেই তল্লাশি ও অপারেশন আরও জোরদার করা হয় এবং এই অভিযান তারই অংশ।
এই অপারেশনকে বড় সাফল্য বলে মনে করছে নিরাপত্তা মহল। কারণ গুহায় লুকিয়ে থাকা জঙ্গিদের খুঁজে বের করা এবং রাতভর নজরদারি চালিয়ে তাদের খতম করা অত্যন্ত জটিল কাজ। সন্ত্রাসবিরোধী লড়াইয়ে সেনা ও নিরাপত্তা বাহিনীর দ্রুত প্রতিক্রিয়াই এই সাফল্য এনে দিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
উধমপুরের জঙ্গলে এই অভিযান এখনও শেষ হয়নি। নিরাপত্তা বাহিনী পুরো এলাকা সুরক্ষিত ঘোষণা না করা পর্যন্ত অভিযান জারি থাকবে।