সুপ্রিম কোর্ট গঠিত তদন্ত কমিটি অবশ্য বলছে, বিচারপতি বর্মা তাঁদের সাফ জানিয়েছেন, এই টাকা তাঁর নয়। বরং তাঁকে ফাঁসানো হচ্ছে!

বিচারপতি যশবন্ত বর্মা
শেষ আপডেট: 28 May 2025 19:48
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিচারপতি যশবন্ত বর্মার (Justice Yashwant Verma) বাড়ি থেকে টাকা উদ্ধারের ঘটনায় সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) তৎকালীন প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব খান্না একটি তিন সদস্যের অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটি গঠন করেন (Fact Finding Committee)। সেই কমিটি সম্প্রতি যা রিপোর্ট দিয়েছে তা অবাক করার মতো। রিপোর্টে বলা হয়েছে, বিচারপতির বাড়িতে প্রায় দেড় ফুট উঁচু করে সাজিয়ে রাখা টাকার থোক উদ্ধার হয়েছে। সেগুলির অবশ্য বেশিরভাগই পোড়া। আর এই টাকার উৎস কী, সে ব্যাপারে কোনও সদুত্তর দিতে পারেননি বিচারপতি বর্মা।
বিপুল টাকা উদ্ধারের ঘটনা তখন সামনে আসে যখন বিচারপতির দিল্লির সরকারি বাসভবনে আগুন লেগেছিল। দমকলকর্মীরাই বাড়ির ভেতর একাধিক ব্যাগে রাখা প্রায় ২.৫ কোটি টাকা মূল্যের নগদ অর্থ উদ্ধার করেন। সেগুলির বেশ কিছুটা পুড়ে গেছিল। এই খবর প্রকাশ্যে আসার পরই শোরগোল শুরু হয়। একজন বিচারপতির বাড়িতে এত নগদ টাকা কোথা থেকে এল, সেই প্রশ্ন ওঠে। তবে এখনও পর্যন্ত অর্থের উৎস নিয়ে মুখ খোলেননি ওই বিচারপতি। এদিকে কেন্দ্রীয় সরকার তাঁকে ইমপিচ (Impeachment) করার পথে এগোচ্ছে।
সুপ্রিম কোর্ট গঠিত তদন্ত কমিটি অবশ্য বলছে, বিচারপতি বর্মা তাঁদের সাফ জানিয়েছেন, এই টাকা তাঁর নয়। বরং তাঁকে ফাঁসানো হচ্ছে! কিন্তু কারা তাঁকে ফাঁসাচ্ছে, তাঁর বাড়িতে এত কোটি টাকা এলই বা কী করে, সে ব্যাপারে কিছুই বলতে পারছেন না তিনি। রিপোর্টে এও উল্লেখ করা হয়েছে, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার দিন বিচারপতির পরিবারের সদস্য নিয়ে মোট ১৭ জন ওই বাড়িতে ছিলেন। আর যে ঘর থেকে নগদ উদ্ধার হয়েছে সেটি ছিল স্টোররুম আর সেই ঘর বিচারপতির 'নিয়ন্ত্রণেই' থাকত।
চক্রান্তর যে অভিযোগ বিচারপতি বর্মা করেছেন তা কার্যত মানতে রাজি নয় এই তদন্ত কমিটি। কারণ তাঁরা জানাচ্ছে, ওই ঘর যেভাবে বন্ধ করা ছিল তাতে বাইরের কোনও লোকের সে ঘরে প্রবেশ করা প্রায় অসম্ভব। এক্ষেত্রে মনে করা হচ্ছে, বিচারপতির ব্যক্তিগত সচিব এই ঘটনা সম্পর্কে অনেক কিছু জানেন। কারণ তিনিই প্রথম আগুন লাগার খবর দিয়েছিলেন। আর ঘটনার রাতে বেশ কয়েকজনকে ফোনও করেছিলেন তিনি।
এত বড় ঘটনার পরও বিচারপতির বর্মার বিরুদ্ধে কোনও এফআইআর দায়ের করেনি পুলিশ। কারণ তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতি বা অন্য কিছুর পোক্ত কোনও প্রমাণ নেই। সুপ্রিম কোর্টের তদন্ত কমিটিও তাই তাঁকে ইমপিচ করার প্রস্তাব দিয়েছে। প্রসঙ্গত, এই কমিটিতে রয়েছেন পাঞ্জাব ও হরিয়ানা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি শীল নাগু, হিমাচল প্রদেশ হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি জি এস সন্দাওয়ালিয়া এবং কর্নাটক হাইকোর্টের বিচারপতি অনু শিবরামন।