বড় হয়ে ভারতীয় সেনাতেই (India Army) যোগ দিতে চায় শ্রবণ। দুই দেশের মধ্যে যখন সংঘর্ষ চলছে, বয়স অল্প হলেও ভয় পায়নি সে। কোনওকিছুই তাকে থামাতে পারেনি।

পুরস্কৃত ১০ বছরের খুদে
শেষ আপডেট: 28 May 2025 12:22
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অস্ত্র নেই, সেনাবাহিনীর পোশাক নয়, তাও 'অপারেশন সিঁদুর'-এ (Operation Sindoor) সামিল হয়েছিল পাঞ্জাবের শ্রবণ সিং। সীমান্তে যখন সেনারা নিজেদের কর্তব্য পালনে ব্যস্ত সেইসময় তাঁদের 'শক্তি' জোগাতে দুধ, লস্যি পরিবেশন করে দিচ্ছিল এই খুদে বালক। তাঁর এই উদ্যোগকেই সম্মানিত করল ভারতীয় সেনা।
পহেলগাম হামলার (Pahalgam Terror Attack) পর পাকিস্তানে ভারতের প্রত্যাঘাত অভিযান 'অপারেশন সিঁদুর'-কে সাম্প্রতিককালের সবথেকে বড় সামরিক অভিযান বললেও ভুল হবে না। ভারত-পাকিস্তান সীমান্তের পাঞ্জাবের তারাওয়ালি গ্রামের বাসিন্দারা এই অভিযান প্রত্যক্ষ করেছেন। এসবের মধ্যেই নজর কেড়েছে দশ বছরের শ্রবণ সিং।
বড় হয়ে ভারতীয় সেনাতেই (India Army) যোগ দিতে চায় শ্রবণ। দুই দেশের মধ্যে যখন সংঘর্ষ চলছে, বয়স অল্প হলেও ভয় পায়নি সে। কোনওকিছুই তাকে থামাতে পারেনি।
পাঞ্জাবের ফিরোজপুর জেলার বাসিন্দা পেশায় চাষি সোনা সিংয়ের ছেলে শ্রবণ। 'অপারেশন সিঁদুর' কেবল দেখেইনি সেই অভিযানে সামিলও হয়েছে সে। নিজের ইচ্ছেতেই এগিয়ে আসে। অভিযানের সময় তার পরিবারের চাষের জমিতে তৈরি হওয়া ক্যাম্পে থাকছিলেন জওয়ানরা। সেখানে গিয়ে তাঁদের দুধ, লস্যি, বরফ দিয়ে আসত শ্রবণ।
সেইসময় যখন অনেকেই ভয়ে নিজেদের প্রায় 'ঘরবন্দি' করে ফেলেছিলেন, শ্রবণ প্রতিদিনই সেনাদের কাছে ছুটে যেত। তাঁরা যে একা নেই সেকথা মনে করিয়ে দিত।
শ্রবণ বলে, 'আমি ভয় পাইনি। আমি বড় হয়ে একজন জওয়ান হতে চাই। আমি সেনাদের জন্য জল, লস্যি, দুধ নিয়ে যেতাম। তাঁরা আমাকে খুব ভালবাসে।' কিশোরের এই উদ্যোগ বিফলে যায়নি, সম্প্রতি তাকে ভারতীয় সেনার তরফে সম্মানিত করা হয়েছে।
সপ্তম ইনফ্যান্ট্রি ডিভিশনের জিওসি (General Officer Commanding) মেজর জেনারেল রঞ্জিত মনরল শ্রবণ সিংকে সম্মানিত করেছেন। তাকে একটি মেমেন্টো দেওয়া হয়। পাশাপাশি নিজের পছন্দের আইসক্রিম ও পছন্দের খাবারও খেয়েছে কিশোর। শ্রবণ জানায়, 'তাঁরা আমাকে আইসক্রিম ও খাবার খাইয়েছে। আমি খুব খুশি। আমি জওয়ান হয়ে দেশের জন্য কাজ করতে চাই।'
অন্যদিকে, সেনাদের সঙ্গে ছেলেকে দেখে গর্ব বোধ করছেন সোনা সিং। তিনি বলেন, 'সেনারা আমাদের জমিতে ক্যাম্প বানিয়ে থাকছিলেন। প্রথম দিন থেকেই আমার ছেলে তাঁদের কাছে যেত, প্রয়োজনীয় খাবার দিয়ে আসত। আমরা শুধু ওর পাশে থেকেছি।'
উল্লেখ্য, সেনাবাহিনী, নৌসেনা ও বায়ুসেনার যৌথ পরিকল্পনায় পাকিস্তান ও পাক-অধিকৃত কাশ্মীরে 'অপারেশন সিঁদুর’ (Operation Sindoor) অভিযান হয়েছিল। ভারতীয় সেনার তরফে আগেই জানান হয়েছে, ৯টি জঙ্গিঘাঁটির পাশাপাশি ১০০-র বেশি জঙ্গি নিকেশ হয়েছে এই অভিযানে। প্রতিটি জায়গারই অতীতে একাধিক বড়সড় সন্ত্রাসবাদী হামলার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ ছিল। প্রথম থেকেই ভারত পহেলগাম হামলাকে পাকিস্তান-পোষিত সন্ত্রাস হিসেবেই দেখেছে এবং তারই জবাব হিসেবে লস্কর সংগঠন ও তার সহযোগী গোষ্ঠীগুলোর লজিস্টিক, প্রশিক্ষণ ও কমান্ড অবকাঠামোকে ধ্বংস করে দেওয়াই ছিল অপারেশন সিঁদুরের (Operation Sindoor) প্রধান উদ্দেশ্য।