নিউ ইয়ার পার্টির পর হায়দরাবাদের জগদগিরিগুটায় প্রৌঢ়ের মৃত্যু। ভেজাল মদ না খাদ্যে বিষক্রিয়া—দু’দিক থেকেই তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

ফাইল চিত্র
শেষ আপডেট: 2 January 2026 13:22
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নিউ ইয়ারের আনন্দের পার্টির শেষটা যে এমন মর্মান্তিক হবে, তা কেউই ভাবেননি। দেদার খাওয়াদাওয়া আর মদ্যপানের পর অসুস্থ হয়ে মৃত্যু হলো এক প্রৌঢ়ের। গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ১১ জন। ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার রাতে হায়দরাবাদের জগদগিরিগুটা এলাকায়। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, ভেজাল মদ অথবা খাদ্যে বিষক্রিয়ার জেরেই এই বিপত্তি। ইতিমধ্যেই অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, নববর্ষ উদযাপনের জন্য জগদগিরিগুটার একটি কমিউনিটি হলে জড়ো হয়েছিলেন এলাকার বাসিন্দারা। নিজেরাই রান্নার আয়োজন করেন, রুটি, চিকেন বিরিয়ানি ও মাছের ঝোল ছিল মেনুতে। সঙ্গে চলতে থাকে মদ্যপান। সারা রাত আনন্দ-হুল্লোড়ের পর বৃহস্পতিবার সকালে সবাই যার যার বাড়ি ফিরে যান।
কিন্তু দুপুর গড়াতেই বিপত্তি। কয়েক জনের তীব্র পেটব্যথা ও বমি শুরু হয়। ক্রমে ৯ জন অজ্ঞান হয়ে পড়েন। তাঁদের স্থানীয় মল্লা রেড্ডি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আরও দু’জনকে নিয়ে যাওয়া হয় রাম দেব হাসাপাতালে। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় রমেন পান্ডু (৫৩) নামে এক প্রৌঢ়ের। পুলিশ জানিয়েছে, বাকি আক্রান্তদের অবস্থা আপাতত স্থিতিশীল।
ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছয় পুলিশ। পাশাপাশি তদন্তকারীদের একটি দল যায় সংশ্লিষ্ট কমিউনিটি সেন্টারেও। সন্দেহভাজন মদ এবং অবশিষ্ট খাবারের নমুনা সংগ্রহ করে ফরেনসিক সায়েন্স ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হয়েছে। মৃতের দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে সরকারি হাসপাতালে।
প্রাথমিকভাবে খাদ্যে বিষক্রিয়ার সম্ভাবনাই বেশি বলে মনে করছে পুলিশ। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, রান্নার সময় লঙ্কাগুঁড়ো, হলুদগুঁড়ো-সহ কয়েকটি উপকরণ ফুরিয়ে যাওয়ায় সেগুলি কাছের একটি দোকান থেকে কিনে আনা হয়েছিল। সেই উপকরণগুলির গুণগত মান নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তবে তদন্তকারীদের মতে, ফরেনসিক রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়।
রাতেই হাসপাতালে গিয়ে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন বালানগরের সহকারী পুলিশ কমিশনার নরেশ রেড্ডি এবং সার্কল ইন্সপেক্টর গড্ডাম মল্লেশ। এসিপি নরেশ রেড্ডি জানান, “খাদ্যে বিষক্রিয়া থেকেও এমন ঘটনা ঘটতে পারে, আবার ভেজাল মদের কারণেও অসুস্থ হয়ে পড়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। দু’টি দিকই খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ল্যাবের রিপোর্ট হাতে এলেই মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।”