বন দফতর ইতিমধ্যেই সতর্কতা জারি করেছে। স্থানীয় মানুষজনকে বন্যার জলে নামতে বারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি কুমির ও বিষধর সাপের সম্ভাব্য উপস্থিতি নিয়ে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। গ্রামবাসীদের সচেতন করতে শুরু হয়েছে প্রচার।

ওড়িশায় বন্যার জলে ঘুরছে সাপ-কুমির!
শেষ আপডেট: 19 July 2025 16:05
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রবল বর্ষণের জেরে বিপর্যস্ত ওড়িশা। নদীর জল বেড়ে যাওয়ায় ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে কেন্দ্রপাড়া জেলায় (Odisha's Kendrapara district)। ব্রাহ্মণী এবং কাণী নদীর জল ঢুকে পড়েছে একাধিক গ্রামে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত পাটটামুণ্ডাই ব্লক এবং চৌদাকুলতা এলাকা। কিন্তু শুধু জলই নয়, সঙ্গে এসেছে আরেক বিপদ! গ্রামে ঢুকে পড়েছে একদল কুমির (Crocodiles Roam In Flooded Fields In Odisha)। ঘুরে বেড়াচ্ছে সাপেরাও।
গ্রামবাসীদের মোবাইলে তোলা একাধিক ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, জলে ডুবে যাওয়া গ্রামের রাস্তাঘাট এবং মাঠঘাটের মধ্য দিয়ে সাঁতার কাটছে কুমির। নদীর পাড় ভেঙে জল ঢুকেছে বনাঞ্চল ঘেঁষা জনবসতিতে আর সেই জলের সঙ্গে স্রোতের টানে বা নিজেরাই দিক পরিবর্তন করে লোকালয়ে চলে এসেছে কুমিরের দল (Crocodiles swimming in flooded village roads)।
পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে বহু গ্রামবাসী এখন সন্ধ্যার পর বাড়ির বাইরে পা রাখতেই ভয় পাচ্ছেন। যদিও এখনও পর্যন্ত কুমিরের হামলায় হতাহতের কোনও খবর নেই, তবে আতঙ্ক ক্রমেই বাড়ছে।
Croc Shock! Odisha Residents Fear Attack After Floods - Crocodiles Spotted Floating Through Villages
Several sightings of the huge and deadly reptiles swimming through flood waters have triggered panic among locals in India.
The overflowing Brahmani River has left multiple… pic.twitter.com/JoPttyzqPE— RT_India (@RT_India_news) July 19, 2025
অন্যদিকে, বন দফতর ইতিমধ্যেই সতর্কতা জারি করেছে। স্থানীয় মানুষজনকে বন্যার জলে নামতে বারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি কুমির ও বিষধর সাপের সম্ভাব্য উপস্থিতি নিয়ে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। গ্রামবাসীদের সচেতন করতে শুরু হয়েছে প্রচার।
জেলা প্রশাসন বন্যা কবলিত ৩০টিরও বেশি গ্রামে ত্রাণ সামগ্রী, শুকনো খাবার ও পানীয় জল পৌঁছে দেওয়ার কাজ করছে। তবে সমস্যা এখানেই শেষ নয়। আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, ২৪ জুলাই বঙ্গোপসাগরে ফের একটি নিম্নচাপ তৈরি হতে পারে। এর প্রভাবে ২৩ জুলাই থেকে ওড়িশার (Odisha Rain Forecast) উপকূল ও উত্তরের জেলার অনেক অংশে ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ফলে পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটতে পারে।
জানা গিয়েছে, বন্যার জেরে কেন্দ্রপাড়া জেলার একাধিক স্কুলে পড়ুয়াদের উপস্থিতি কমে গিয়েছে। শিক্ষকেরাও জলপথে স্কুলে পৌঁছাতে পারছেন না, ফলে বন্ধ হয়ে গিয়েছে বহু স্কুলের পঠনপাঠন। অন্যদিকে জেলার একটি ব্লকের অন্তত ৩০টি গ্রামের স্বাভাবিক জনজীবন বিঘ্নিত হয়েছে। অনেক নীচু এলাকা যেখানে মানুষ, গবাদি পশু, স্কুল এবং স্বাস্থ্যকেন্দ্র ছিল, সেখানে ঢুকে পড়েছে জল। বহু মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে উঁচু জায়গায় চলে গিয়েছেন। কেউ কেউ আবার গৃহপালিত পশু নিয়েই ঘরের ভিতরে আটকে রয়েছেন।