চোখের পলকে শুরু হয় ঠেলাঠেলি, ধস্তাধস্তি, এমনকি ফর্ম ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনাও। ভিড় এমন মাত্রায় পৌঁছয় যে, অনেকের শ্বাসকষ্টের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়। বিশৃঙ্খলার মধ্যে অসুস্থ হয়ে পড়েন বহু মানুষ। উপস্থিত পুলিশকর্মীরা প্রথম দিকে পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খান।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 23 February 2026 15:35
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ‘যুবসাথী’র (Yuva Sathi) জন্য ফর্ম বিতরণকে ঘিরে উত্তেজনায় থমকে গেল আরামবাগ। হুগলির আরামবাগে (Hooghly Arambag) বিডিও কার্যালয় চত্বরে এ দিন সকাল থেকেই উপচে পড়ে ভিড়। হাজার হাজার মানুষ ফর্ম সংগ্রহের (Yuva Sathi Forms) আশায় ভোর থেকে লাইনে দাঁড়ান। কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
চোখের পলকে শুরু হয় ঠেলাঠেলি, ধস্তাধস্তি, এমনকি ফর্ম ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনাও। ভিড় এমন মাত্রায় পৌঁছয় যে, অনেকের শ্বাসকষ্টের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়। বিশৃঙ্খলার মধ্যে অসুস্থ হয়ে পড়েন বহু মানুষ। উপস্থিত পুলিশকর্মীরা প্রথম দিকে পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খান।
পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হয়ে উঠতেই আরামবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক বিশাল পুলিশবাহিনী ও দ্রুত মোকাবিলা বাহিনী নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছন। গণ্ডগোল থামাতে একাধিকবার হস্তক্ষেপ করতে হয়। তবু হুড়োহুড়ি পুরোপুরি বন্ধ করা যায়নি। অনেকে ফর্ম (Yuva Sathi Forms) না পেয়েই হতাশ হয়ে বাড়ি ফিরে যান।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, সকাল থেকে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় ভিড় নিয়ন্ত্রণ করা যায়নি। ফর্ম বিতরণের সুনির্দিষ্ট পদ্ধতি স্পষ্ট না হওয়ায় বিভ্রান্তি বাড়ে। শেষ পর্যন্ত পুলিশ ও সিভিক ভলান্টিয়াররা সরাসরি ফর্ম বিলি করতে নামেন।
পরে বিডিও কার্যালয়ের তরফে মাইকে ঘোষণা করা হয়, সংশ্লিষ্ট পঞ্চায়েত কার্যালয় থেকেও পরবর্তী সময়ে ফর্ম দেওয়া হবে। তবু ঘোষণার পরেও ভিড় পুরোপুরি কমেনি।
এই ঘটনার জেরে প্রশ্ন উঠেছে প্রশাসনিক প্রস্তুতি নিয়ে। এত বড় সংখ্যায় মানুষের সমাগমের সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও পর্যাপ্ত ব্যবস্থাপনা কেন ছিল না, তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে এলাকায়।
প্রশাসনের তরফে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার আশ্বাস দেওয়া হলেও দিনভর উত্তেজনা ও বিশৃঙ্খলায় আতঙ্ক ছড়ায় আরামবাগে।
প্রসঙ্গত, শেষ পাওয়া তথ্য বলছে, যুবসাথী প্রকল্পে রাজ্যে আবেদনের সংখ্যা ৪২ লক্ষ ছাড়িয়েছে। জেলা ভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি আবেদন এসেছে দক্ষিণ ২৪ পরগনা থেকে। তার পরেই রয়েছে মুর্শিদাবাদ এবং উত্তর ২৪ পরগনা। সরকারি দাবি, তরুণ প্রজন্মকে ডিজিটাল পরিষেবা এবং আর্থিক সহায়তার আওতায় আনতেই এই প্রকল্প চালু হয়েছে। ‘দুয়ারে সরকার’ শিবিরের মাধ্যমে সরাসরি আবেদন নেওয়ায় অংশগ্রহণও বেড়েছে চোখে পড়ার মতো।