আয়োজকদের দাবি, যুবসাথীর মাধ্যমে যে বার্তা ছড়ানো হচ্ছে, তার বিপরীতে তারা সরাসরি কর্মসংস্থানের দাবিকে সামনে আনতে চায় যুব আড্ডার মাধ্যমে।

যাদবপুরের ৮বি বাসস্ট্যান্ড চত্বরে বুধবার আয়োজিত হল বিজেপির যুব আড্ডা কর্মসূচি
শেষ আপডেট: 18 February 2026 18:44
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্যজুড়ে ইতিমধ্যেই ঝড় তুলেছে রাজ্য সরকারের ‘যুবসাথী’ প্রকল্প (Yuba Sathi Scheme)। সেই ঝড়ের পাল্টা দিতেই এবার বিজেপির যুব আড্ডা। যাদবপুরের ৮বি (Jadavpur 8b) বাসস্ট্যান্ড চত্বরে বুধবার আয়োজিত হল বিজেপির যুব আড্ডা কর্মসূচি। আয়োজকদের দাবি, যুবসাথীর মাধ্যমে যে বার্তা ছড়ানো হচ্ছে, তার বিপরীতে তারা সরাসরি কর্মসংস্থানের দাবিকে সামনে আনতে চায় যুব আড্ডার মাধ্যমে।
এই কর্মসূচির আয়োজন করে ভারতীয় জনতা যুব মোর্চার যাদবপুর শাখা। উপস্থিত ছিলেন যাদবপুর বিজেপি যুব মোর্চার সভাপতি ডঃ ইন্দ্রনীল খাঁ। সঙ্গে ছিলেন দীপ বিশ্বাস, সায়ন লাহিড়ী সহ অন্যান্য সদস্যরা। মঞ্চ থেকে তাঁদের বক্তব্য, ভাতা দিয়ে নয়, স্থায়ী চাকরির সুযোগ তৈরি করেই যুব সমাজকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব। যুবসাথী প্রকল্পকে কটাক্ষ করে তাঁরা দাবি করেন, এতে সাময়িক আর্থিক সহায়তা মিললেও দীর্ঘমেয়াদে তা আত্মনির্ভরতার পথ দেখাবে না।
ইন্দ্রনীল জানান, বাংলার বহু শিক্ষিত যুবক আজও কর্মসংস্থানের অপেক্ষায়। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার অভাব ও একাধিক দুর্নীতির অভিযোগে যুবসমাজের আস্থা নষ্ট হয়েছে। সেই পরিস্থিতিতে ‘যুব আড্ডা’র মাধ্যমে সরাসরি যুবকদের মতামত শোনা এবং তাদের দাবিকে সংগঠিত করার চেষ্টা চলছে বলে জানান তিনি।
কর্মসূচির অন্যতম আকর্ষণ ছিল ‘চাকরি চায় বাংলা’ নামে একটি বাক্স। সেখানে উপস্থিত বেকার যুবক-যুবতীরা নিজেদের নাম ও স্বাক্ষরসহ আবেদনপত্র জমা দেন। আয়োজকদের বক্তব্য, এই স্বাক্ষর সংগ্রহ ভবিষ্যতে বৃহত্তর আন্দোলনের ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে এবং রাজ্যের বেকারত্বের বাস্তব ছবি তুলে ধরবে।

বিজেপির যুব আড্ডা কর্মসূচি
এদিনের সভা থেকে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগও তোলা হয়। বক্তারা দাবি করেন, বিভিন্ন নিয়োগ সংক্রান্ত দুর্নীতি রাজ্যের যুবসমাজকে হতাশ করেছে। সেই কারণেই ‘যুব সাথী’র পাল্টা বার্তা হিসেবে বিজেপির যুব আড্ডা কর্মসূচির মাধ্যমে ‘চাকরি চাই বাংলা’ স্লোগানকে জোরালো করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে ৮বি বাসস্ট্যান্ডে এই কর্মসূচি স্পষ্ট করে দিল, যুব সাথীকে ঘিরে রাজনৈতিক তরজা আরও তীব্র হচ্ছে। এখন দেখার, যুব আড্ডার এই বার্তা রাজ্যের বৃহত্তর যুবসমাজের মধ্যে কতটা প্রভাব ফেলতে পারে।