দ্য ওয়াল ব্যুরো: যমের মঙ্গলকামনায় কপালে ফোঁটা দিয়েছিলেন বোন যমুনা (yamuna)। আবার যমুনাকে চিরকাল রক্ষা করার সংকল্প করেছিলেন দাদা যম। সেই রীতি মেনেই চলে আসছে ভাইফোঁটার অনুষ্ঠান। কিন্তু প্রতিবার এই ভাইফোঁটার পরে সবচেয়ে বিপজ্জনক অবস্থা হয় এই যমুনারই। সৌজন্য ভাইফোঁটার ঠিক আগে আগে পার হওয়া দীপাবলি। দীপাবলির দূষণে শ্বাসরোধ হয়ে যায় দিল্লির যমুনা নদীর। জলের বদলে সেখানে শুধুই বিষাক্ত ফ্যানা। প্রতিবারই নদীর এই চেহারা দেখে তোলপাড় হয় পরিবেশপ্রেমী মহল, কিন্তু সেটুকুই সার। এর কোনও সমাধান কখনওই বেরোয় না।
এবারেও দীপাবলির পরেই দিল্লির কালিন্দি কুঞ্জের কাছে যমুনা নদীতে বিষাক্ত ফেনা ভাসতে দেখা গেল রবিবার থেকে। অতি দূষণের কারণে যমুনায় অ্যামোনিয়ার মাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ায় শনিবার সন্ধ্যা থেকেই রাজধানীর জল সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। জল সরবরাহ দূরের কথা, বিষাক্ত ফ্যানায় ঢেকেছে গোটা নদী। দুলকি চালে নদীর স্রোতে ভেসে চলেছে সাদা, ঘন সেই ফ্যানা। নৌকা চলেছে সেই ফ্যানার বুক ভেদ করেই।

এ ছবি দেখে বোঝাই যাচ্ছে, মুখে যাই বলা হোক, নেতারা যমুনাকে দূষণমুক্ত করার জন্য তেমন কিছুই করেননি। যমুনায় তাই এই দৃশ্য প্রতি বছর ফিরে আসে। প্রতিবারই একই আশ্বাস দেওয়া হয় দূষণ মুক্ত যমুনার। আর প্রতি বছরই দেখা যায় যমুনা সাদা ফ্যানায় ঢেকেছে।
এই বছরে অতি-দূষণের আশঙ্কা আগে থেকে ছিলই। সত্যি হল সেটাই। আইনের, নিয়মের তোয়াক্কা না করে দিল্লিতে চলেছে তুমুল দীপাবলি উদযাপন। ধোঁয়ায় ভরেছে রাজধানীর আকাশ-বাতাস। ফলস্বরূপ চরম দূষণের ফল ভোগ করছেন সাধারণ মানুষ। চোখ জ্বালা, চোখ থেকে জল পড়া, নিশ্বাসের কষ্ট, কাশি-- নানা রকম সমস্যায় ধুঁকছে দিল্লি।
শুভেন্দুর লালবাতি নিভল বলে, ভিড়তে পারেন তৃণমূলেও, দাবি মমতার মন্ত্রীর
তথ্য বলছে, বৃহস্পতিবার অর্থাৎ দীপাবলির রাতেই দিল্লির বায়ু দূষণের পরিমাণ বিপদসীমা পেরিয়ে যায়। শুক্রবার এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স অর্থাৎ বাতাসের গুণগত মান পেরিয়ে যায় ১০০০! ফলে সবমিলিয়ে বলা যায়, কোভিড এবং পরিবেশের কথা ভেবে যে আইনি ফাঁস আদালত বেঁধে দিয়েছিল, তা মোটেই রক্ষা করতে পারেননি সাধারণ নাগরিকরা। সচেতনতার অগ্নিপরীক্ষায় ডাঁহা ফেল করেছেন তাঁরা।

দূষণ পর্ষদ অবশ্য আগেই জানিয়েছিল, দীপাবলির আগে শুধুমাত্র খড় পোড়ানোর কারণেই রাজধানীর দূষণের মাত্রা ২৫ শতাংশ বেড়ে যায়। দিল্লি ছাড়াও নয়ডা, গাজিয়াবাদ এবং গুরুগ্রামের পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে বেড়ে ওঠে দূষণ। এর মধ্যে এ বছর ঠান্ডা পড়তে শুরু করেছে ভালই। বইতে শুরু করেছে উত্তর-পশ্চিম বাতাস। এই হাওয়া পঞ্জাব এবং হরিয়ানার শস্য পোড়ানোর ধোঁয়াকে রাজধানীর দিকে টেনে আনে।

করোনা পরিস্থিতি এবং একই সঙ্গে দিল্লির বাতাসে দূষণের মাত্রার কথা মাথায় রেখে রাজধানীতে যে কোনও ধরনের বাজি পোড়ানোয় সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল দিল্লির কেজরীবাল সরকার। সুপ্রিম কোর্টের নিষেধাজ্ঞা তো ছিলই। কিন্তু নিয়ম-নিষেধকে সিন্দুকে তুলে রেখে কার্যত বাঁধভাঙা অনিয়মে সামিল হয়েছে দিল্লি। একই সঙ্গে বিষে ভরেছে যমুনা নদী।
পড়ুন দ্য ওয়ালের সাহিত্য পত্রিকা 'সুখপাঠ'