দ্য ওয়াল ব্যুরো: তাঁর এন্ট্রির মুখে প্রথমে জ্বলে উঠত ফ্লুরোসেন্ট নীল আলো। তারপর আস্তে আস্তে তাঁর শরীর দেখতে পেত দর্শক। কখনও তিনি মোটর সাইকেলে কখনও হেঁটে! তারপর দপ করে সারা স্টেডিয়ামে জ্বলে উঠত আগুন। গ্যালারি খেলে যেত হিল্লোল। জলদগম্ভীর গলায় আওয়াজ আসত 'দ্য ডেড ম্যান'!
ওয়ার্ল্ড রেসলিং এন্টারটেনমেন্ট তথা ডব্লিউডব্লিউই-র অন্যতম সেনসেশন আন্ডারটেকার অবসর নিলেন। শেষ ম্যাচ খেলে জানিয়ে দিলেন, আর আসবেন না রিংয়ে। এবার অন্য জীবন উপভোগ করবেন। ৩৩ বছর ধরে রিংয়ে দাপিয়েছেন এই রেসলার।

অনেকে বলেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই রেসলিং পুরোটাই সাজানো। পুরোটাই অভিনয়। আক্ষরিক এন্টারটেইনমেন্ট। কিন্তু অনেকে আবার এসব বিশ্বাস করেন না। তাঁদের কাছে ডব্লিউডব্লিউই মানে রক্ত গরম করা লড়াই। উত্তেজনার পারদ চড়ে গেলে যেখানে ফেলে পেটানো হয় রেফারিকেও।
অবসর নিয়ে আন্ডারটেকার বলেছেন, "অনেক পথ হাঁটার পরও প্রশংসা পাওয়া যায় না, যতক্ষণ না কেউ কিছু শেষ করছে।" একটা সময় এই শতাব্দীর গোড়ার দিকে যারা স্কুল-কলেজের ছাত্র ছিল, তাদের কাছে ডব্লিউডব্লিউই মানে ছিল নেশার মতো। বুঁদ হয়ে থাকার মতো রোমহর্ষক লড়াই। আন্ডারটেকার, রক, ত্রিপল এইচ, কেন-- কত নাম।

আন্ডারটেকারের আসল নাম মার্ক কালাওয়ে। রেসলম্যানিয়ার অন্যতম যোদ্ধা এজে স্টাইলসের সঙ্গে শেষ ম্যাচ খেলেছেন আন্ডারটেকার। ট্রিপল এইচ বলেছেন, শেষ ম্যাচেও দ্য ডেড ম্যান নিজের ছাপ রেখে গিয়েছেন। যা সারা জীবন মনে রাখার মতো।

রিংয়ে উঠলে ভয়ানক হয়ে উঠতেন আন্ডারটেকার। তাঁর দুটি স্টাইল ফলোয়ারদের মুখে মুখে ঘোরে। প্রথমটি চোকড স্লাম এবং দ্বিতীয়টি টুম্বস্টোন। প্রতিপক্ষকে নাস্তানাবুদ করার পর টুটি ধরে শূন্যে তুলে আছাড় মারতেন আন্ডারটেকার। সেটাকে বলা হয় চোকড স্লাম। টুম্বস্টোন আরও সাংঘাতিক । বলা ভাল বীভৎস। দু'হাঁটুর মাঝে প্রতিপক্ষের মাথা গুঁজে দিয়ে নিজের সঙ্গে জড়িয়ে শূন্যে লাফ দিয়ে রিংয়ের উপরে পড়তেন। পড়ার সময় পা দুটোকে সামনে ছড়িয়ে দিতেন। তাতে প্রতিপক্ষের আঘাত লাগত মুখে।

গা ভর্তি উল্কি, কালো পোশাক, তীক্ষ্ণ দৃষ্টি, লম্বা চেহারা রেসলিংপ্রিয় জনতার মধ্যে মাদকতা তৈরি করা রেসলার বেরিয়ে গেলেন রিং ছেড়ে।