Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
কিউআর কোড ছড়িয়ে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ! কীভাবে রাতারাতি নয়ডার বিক্ষোভের প্ল্যানিং হল, কারা দিল উস্কানি?নয়ডা বিক্ষোভ সামাল দিতে 'মাস্টারস্ট্রোক' যোগী সরকারের! শ্রমিকদের বেতন বাড়ল ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত Jeet: ভুয়ো প্রচার! ভোট আবহে গায়ে রাজনীতির রঙ লাগতেই সরব জিৎ৪ হাজার থেকে নিমেষে ১ লক্ষ ৮৫ হাজার ফলোয়ার! এক স্পেলেই সোশ্যাল মিডিয়ার নতুন তারকা প্রফুল্লসামনে কাজল শেখ, মমতা কথা শুরু করতেই হাত নেড়ে বিরক্তি প্রকাশ অনুব্রতর! সিউড়িতে কী ঘটলEPL: নায়ক ওকাফর! ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে ৪৫ বছরের অভিশাপ মুছল লিডস, রক্ষণের ভুলে ডুবল ম্যান ইউAsha Bhosle: 'এত ভালবাসার সবটাই তোমার...,' ঠাকুমার স্মৃতি আঁকড়ে আবেগঘন পোস্ট নাতনি জানাইয়েরSupreme Court DA: ডিএ নিয়ে সময়সীমা বৃদ্ধির আর্জি, বুধবার রাজ্যের মামলা শুনবে সুপ্রিম কোর্টনির্বাচকদের শর্টলিস্টে বৈভব! আয়ারল্যান্ড সফরে যাওয়ার জোর সম্ভাবনা, ভাঙতে পারেন সচিনের রেকর্ডIPL 2026: ‘কাছের অনেককে বলেছিলাম, বৈভবকে প্রথম বলে আউট করব!’ কথা দিয়ে কথা রাখলেন প্রফুল্ল

মহিলা সংরক্ষণের প্রথম বীজ পুঁতেছিলেন রাজীব, সার জল দিয়েছিলেন নরসিংহ রাও

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ছ’মাস বাদে লোকসভা ভোট। তার আগে কেন্দ্রে নরেন্দ্র মোদী সরকার যখন মহিলা সংরক্ষণ বিল (women reservation bill) পাশের উদ্যোগ নিতে শুরু করেছে, ওমনি ইতিহাসের পাতা খুলে বসল কংগ্রেস। সংসদের বিশেষ অধিবেশন শুরু হয়েছে। এর মধ্যে সোম

মহিলা সংরক্ষণের প্রথম বীজ পুঁতেছিলেন রাজীব, সার জল দিয়েছিলেন নরসিংহ রাও

শেষ আপডেট: 19 September 2023 02:15

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ছ’মাস বাদে লোকসভা ভোট। তার আগে কেন্দ্রে নরেন্দ্র মোদী সরকার যখন মহিলা সংরক্ষণ বিল (women reservation bill) পাশের উদ্যোগ নিতে শুরু করেছে, ওমনি ইতিহাসের পাতা খুলে বসল কংগ্রেস।

সংসদের বিশেষ অধিবেশন শুরু হয়েছে। এর মধ্যে সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠক ডেকে মহিলা সংরক্ষণ বিলে অনুমোদন দিয়েছে মোদী মন্ত্রিসভা। সংসদের নতুন ভবনে কাল সেই বিল লোকসভা ও রাজ্যসভায় পেশ করা হতে পারে। ভোটের আগে সরকারের এমন উদ্যোগ দেখেই মাঠে নেমে পড়েছে কংগ্রেস ও তৃণমূল। তাদের উদ্দেশ্য একটাই মহিলা বিল পাশ করে মোদীকে একা মসিহা হতে না দেওয়া। কারণ, তারা আন্দাজ করছে, মহিলা বিল পাশ করিয়ে পুরো রাজনৈতিক ফায়দা নিতে চাইবেন নরেন্দ্র মোদী তথা বিজেপি।

https://twitter.com/RahulGandhi/status/1018763478419599360


ভারতের আইনসভায় ও স্থানীয় প্রশাসনে মহিলা সংরক্ষণ (women reservation bill) নিয়ে বিতর্ক ও আলোচনা বহুদিনের। ১৯৭১ সালে রাষ্ট্রসঙ্ঘের অনুরোধে তৎকালীন কংগ্রেস সরকার মহিলাদের সামাজিক মর্যাদা খতিয়ে দেখতে একটা কমিটি গঠন করেছিল। সেই রিপোর্টেই উঠে আসে যে, ভারতে লিঙ্গ বৈষম্য রয়েছে। এ ব্যাপারে সাংবিধানিক দায়িত্বপালনে ব্যর্থ হয়েছে ভারত। ওই রিপোর্ট প্রকাশ হওয়ার পর বিক্ষিপ্ত ভাবে বিভিন্ন রাজ্য স্থানীয় প্রশাসনে মহিলাদের প্রতিনিধিত্ব বাড়াতে সংরক্ষণ ব্যবস্থা চালু করতে শুরু করে।

সেই উদ্যোগ ছিল একেবারেই বিক্ষিপ্ত। গোটা দেশে অভিন্ন কোনও নীতি ছিল না। ১৯৮৭ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধী (Rajiv Gandhi) কেন্দ্রীয় মন্ত্রী মার্গারেট আলভার নেতৃত্বে ১৪ জন জনের একটি কমিটি তৈরি করেন। ওই কমিটি মহিলাদের ক্ষমতায়নের জন্য ৩৫৩টি সুপারিশ করেছিল। যার অন্যতম ছিল নির্বাচন ব্যবস্থায় মহিলাদের জন্য আসন সংরক্ষণ (women reservation bill) । বিশেষ করে পঞ্চায়েত ও পুরসভায়।

রাজীব জমানার ওই সুপারিশগুলিকে সামনে রেখে সংবিধানের ৭৩ ও ৭৪ তম সংশোধনের প্রস্তাব করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরসিংহ রাও (Narasimha Rao)। সংবিধানের সেই সংশোধনের মাধ্যমে পঞ্চায়েত ও পুরসভায় মহিলাদের জন্য বাধ্যতামূলক ভাবে ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষিত করা হয়েছিল। মহিলাদের ক্ষমতায়ন ও লিঙ্গ বৈষম্য দূর করার উদ্দেশে যা ছিল ঐতিহাসিক ও কালজয়ী পদক্ষেপ।

প্রথম মহিলা সংরক্ষণ বিল (women reservation bill) পেশ করেছিল দেবগৌড়া সরকার

নরসিংহ রাও কেবল পঞ্চায়েত ও পুরসভায় মহিলা সংরক্ষণকে সাংবিধানিক ভাবে স্বীকৃতি দিয়েছিলেন। কিন্তু আইনসভায় মহিলাদের ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষণের জন্য সংসদে প্রথম বিল (women reservation bill) পেশ করেছিল দেবগৌড়া সরকার। প্রধানমন্ত্রী এইচ ডি দেবগৌড়া সংবিধানের ৮১তম সংশোধন প্রস্তাবের মাধ্যমে তা সংবিধান স্বীকৃত করতে চেয়েছিলেন।

জাতীয় দলগুলির অধিকাংশ সাংসদ বিলে সমর্থন জানিয়েছিলেন ঠিকই। কিন্তু সমাজবাদী পার্টি, রাষ্ট্রীয় জনতা দলের মতো পার্টিগুলি তার বিরোধিতা করে। বিশেষ করে রাজনৈতিক দলের মধ্যে ওবিসি নেতারা এর বিরোধিতা শুরু করেন। বিজেপি সাংসদ উমা ভারতী দাবি করেন, “পঞ্চায়েতে যেমন অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণির সংরক্ষণের মধ্যেও মহিলাদের সংরক্ষণের কথা বলা রয়েছে, প্রস্তাবিত সংবিধান সংশোধন বিলেও তা রাখতে হবে। নইলে অনগ্রসর শ্রেণির মহিলারা বঞ্চিত হবেন।” অর্থাৎ কোটার মধ্যেই কোটার কথা বলেন উমা।

এহেন পরিস্থিতে বিলটি নিয়ে সর্বদল বৈঠক ডেকেছিলেন দেবগৌড়া। কিন্তু মুশকিল হল, দেবগৌড়া যে ইউনাইটেড ফ্রন্টের নেতা ছিলেন, সেই ফ্রন্টের শরিক দল সমাজবাদী পার্টি এবং তাঁর পার্টি জনতা দলের ওবিসি সাংসদরা ঝামেলা শুরু করেন। ফলে বিলটি (women reservation bill) সংসদের সিলেক্ট কমিটিতে পাঠিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। সেই সিলেক্ট কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন সিপিআই সাংসদ গীতা মুখোপাধ্যায়। অন্য সদস্যদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, শরদ পাওয়ার, নীতীশ কুমার, উমা ভারতী এবং সুষমা স্বরাজ।
সিলেক্ট কমিটি তাদের রিপোর্টে জানায় যে, নির্বাচনে যেহেতু ওবিসিদের জন্য আসন সংরক্ষণের ব্যবস্থা নেই। তাই আগে ওবিসিদের জন্য আসন সংরক্ষণের ব্যবস্থা হোক। তার পর ওবিসি মহিলাদের সেই সংরক্ষণের (women reservation bill) মধ্যেই সুযোগ দেওয়া হোক। কিন্তু শেষমেশ বিলটি পেশ ও পাশ করানোর ব্যাপারে দেবগৌড়া সরকার আর উৎসাহ দেখায়নি।

ইন্দ্রকুমার গুজরাল সরকার সর্বসম্মতি গড়ে তুলতে ব্যর্থ হয়

দেবগৌড়ার পর ইন্দ্রকুমার গুজরাল দেশের প্রধানমন্ত্রী হন। মহিলা সংরক্ষণ বিল নিয়ে তিনি দুবার সর্বদল বৈঠক ডাকেন। কিন্তু তাতে সর্বসম্মতি গড়ে তোলা যায়নি। ১৯৯৭ সালের ১৬ মে বিলটি ফের সংসদে পেশ করা হয়। কিন্তু ওবিসি সাংসদরা তাতে বাধা দেন।

নীতীশ কুমার সে সময়ে বলেছিলেন, “এখন মহিলা সাংসদের সংখ্যা ৩৯। তাঁদের মধ্যে মাত্র চার জন ওবিসি। অথচ দেশের ৫০ শতাংশ জনসংখ্যা মহিলা। তাঁদের মধ্যে ৬০ শতাংশ হলেন অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণির। তাঁদের কথা কে বলবে?”

আরও পড়ুন: মমতা কলার চেপে ধরেছিলেন দারোগা প্রসাদের, মহিলা বিল ছিঁড়তে দেবেন না

পরে ১৯৯৭ সালের ১৩ অগস্ট সংসদে দাঁড়িয়ে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দ্রকুমার গুজরাল বলেন, একমাত্র বামদলগুলি ছাড়া এ ব্যাপারে সব রাজনৈতিক দলের মধ্যে দুটি মত রয়েছে। এক পক্ষ এসে বিলের সমর্থনে কথা বলছে। অন্য পক্ষ বিরোধিতা করছে।

বাজপেয়ী জমানার নাটক

কেন্দ্রে অটল বিহারী বাজপেয়ী সরকার তৈরি হওয়ার পর মহিলা সংরক্ষণ বিল (women reservation bill) নিয়ে সবচেয়ে সরব হয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁকে সঙ্গত করেছিলেন বিজেপি সাংসদ সুমিত্রা মহাজন। তাঁদের দাবি ছিল, অবিলম্বে মহিলা সংরক্ষণ বিল পাশ করাতে হবে। ১৯৯৮ সালের ১২ জুলাই এই দুই সাংসদ মহিলা বিল পাশের দাবিতে প্রায় অচল করে দিয়েছিলেন লোকসভা।

এর পর ২০ জুলাই তৎকালীন আইন মন্ত্রী এম থাম্বি দুরাই সংসদে মহিলা সংরক্ষণ বিল পাশ করার চেষ্টা করেন। কিন্তু তিনি বিলটি পেশ করার আগে লালু প্রসাদের দলের সাংসদ সুরেন্দ্র প্রকাশ যাদব বিলটি (women reservation bill) তাঁর হাত থেকে কেড়ে নিয়ে ছিঁড়ে দেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন আরজেডি সাংসদ অজিত মেটা। লালু-মুলায়ম দুজনেই বিলের বিরোধিতা করেন। বিলের বিরোধিতা করেন বিজেপির ওবিসি নেতারাও।

আবার মুসলিম লিগের নেতা জিএম বানাতওয়ালা ও বিএসপি নেতা ইলিয়াস আজমি দাবি করেন, মুসলিম মহিলাদেরও সংরক্ষণ দিতে হবে।

১৯৯৮ সালের ডিসেম্বর মাসে ফের মহিলা বিল পেশ করার চেষ্টা হয়। সেদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লোকসভার মধ্যেই সমাজবাদী পার্টির সাংসদ দারোগা প্রসাদ সরোজের কলার চেপে ধরেন। যাতে বিল (women reservation bill) পেশের সময়ে দারোগা প্রসাদ স্পিকারের চেয়ারের কাছে গিয়ে হাঙ্গামা না করতে পারেন।

৯৯ সালের এপ্রিল মাসে প্রথম বাজপেয়ী সরকারের পতন হয়। যেহেতু মহিলা সংরক্ষণ বিলটি শুধু লোকসভায় পেশ করা হয়েছিল, তাই তা বাতিল হয়ে যায়।
ফের ভোটে জিতে বাজপেয়ী সরকার গঠনের পর ১৯৯৯ সালের ২৩ ডিসেম্বর তৎকালীন আইন মন্ত্রী রাম জেঠমালানি মহিলা সংরক্ষণ বিল তথা সংবিধানের ৮৫ তম সংশোধন বিল পেশ করেন। কিন্তু বিল পেশের তীব্র বিরোধিতা করেন মুলায়ম সিং ও আরজেডি নেতা রঘুবংশ প্রসাদ সিং।
২০০০ সালের এপ্রিল মাসের নির্বাচন কমিশন মহিলা সংরক্ষণের ব্যাপারে সমস্ত রাজনৈতিক দলের মতামত জানতে চায়। ২০০৩ সালের ৭ মার্চ অটল বিহারী বাজপেয়ী মহিলা বিল নিয়ে সর্বদল বৈঠকও ডাকেন। কিন্তু সেই চেষ্টা বৃথা যায়।

মহিলা বিল ও সনিয়ার উদ্যোগ

কেন্দ্রে ইউপিএ সরকার তৈরি হওয়ার পর থেকেই মহিলা সংরক্ষণ বিল পাশের চেষ্টায় নেমে পড়েছিলেন সনিয়া গান্ধী। তিনি ছিলেন জোটের চেয়ারম্যান ও কংগ্রেস সভানেত্রী। ২০০৫ সালের ২২ অগস্ট এজন্য সর্বদল বৈঠক ডাকেন সনিয়া। তার দুদিন পর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং এ ব্যাপারে বিরোধী জোট এনডিএ-র শরিক দলের নেতাদের সঙ্গেও বৈঠকে বসেন।
বিলটি নিয়ে তিন প্রস্তাব উঠে আসে। এক, মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষণ করতে সংসদে বিলটি ফের পেশ করা হোক। দুই, মহিলাদের জন্য এক তৃতীয়াংশ আসন সংরক্ষিত করার পর আইনসভার মোট আসন সংখ্যা বাড়ানো হোক। যাতে অসংরক্ষিত আসনের সংখ্যা আগের থেকে কমে না যায়। এবং তিন, নির্বাচন কমিশনের সুপারিশ মেনে স্বীকৃত রাজনৈতিক দলগুলি বাধ্যতামূলক ভাবে নির্দিষ্ট শতাংশ মহিলা প্রার্থী করার ব্যাপারে সম্মত হোক।

২০০৮ সালের ৬ মে রাজ্যসভায় বিলটি পেশ করে মনমোহন সরকার। সেটি ছিল সংবিধানের ১০৮ তম সংশোধন বিল। কিন্তু ৮ মে বিলটি সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বিবেচনার জন্য পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

স্থায়ী কমিটি ২০০৯ সালের ১৭ ডিসেম্বর তাদের রিপোর্ট পেশ করে। তার ভিত্তিতে ২০১০ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি মন্ত্রিসভায় বিলটিতে অনুমোদন দেয় মনমোহন মন্ত্রিসভা। ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক মহিলা দিবসে তা রাজ্যসভায় পেশ করা হয়। তার পর ৯ মার্চ সেটি রাজ্যসভায় পাশ হয়ে যায়।

তবে বিলটি নিয়ে এর পরেও ইউপিএ শরিক দলগুলির মধ্যে মতান্তর ছিল। তাই রাজ্যসভায় বিলটি পাশ করালেও লোকসভায় তা পাশ করানো যায়নি।

ঘটনা হল, রাজ্যসভায় একবার কোনও বিল পাশ হয়ে গেলে তা আর বাতিল হয়ে যায় না। অর্থাৎ রাজ্যসভায় বিলটি জীবিত রয়েছে। মোদী সরকার চাইলে ওই বিলটিই লোকসভায় পাশ করাতে পারে। বা পুরনো বিলে সংশোধন প্রস্তাব এনে পাশ করাতে পারে।


```