দ্য ওয়াল ব্যুরো: মধ্যযুগীয় বর্বরতা চলছেই। এবার ওড়িশার কয়ড়া অঞ্চলে। ডাইনি সন্দেহে সেই গ্রামের পাঁচ নিরীহকে পিটিয়ে মারল গ্রামবাসীরা। মা ও তাঁর চার সন্তানকে পিটিয়ে মারার অভিযোগ। শনিবার রাতে গ্রামের একটি কুয়োর ধারে পাঁচ জনের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার হয়। ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ছয় জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
ছয় অভিযুক্তই জেরার মুখে খুনের কথা স্বীকার করেছে। তাদের দাবি, মৃত মহিলা তন্ত্র সাধনা করতেন।নিজের চার সন্তানকে তাঁর সঙ্গে যজ্ঞে সামিল করতেন।বেশ কয়েকজন গ্রামবাসীকে বলি দেওয়ারও চেষ্টা করেন তিনি। ধরা পড়ে যাওয়ার ভয়ে চার সন্তানকে নিয়ে গ্রাম ছেড়ে পালানোরও চেষ্টা করেন ওই মহিলা। সেই সময়ই মহিলা সহ তাঁর চার সন্তানকে ধরে ফেলে গ্রামবাসী। পিটিয়ে মারা হয় তাদের।
মৃত চার সন্তানের প্রত্যেকের বয়স ৪-৯ বছরের মধ্যে। পুলিশ সূত্রে খবর, পরিবারের কাউকে না দেখতে পেয়ে পুলিশের কাছে যান মহিলার স্বামী। নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগ দায়ের করে পুলিশ। তারপর তল্লাশি চালিয়ে পাঁচ জনের ক্ষত-বিক্ষত দেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানাচ্ছে, পাঁচ জনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে বারবার মারা হয়েছে।পাঁচ জনেরই মাথায়, চোখে গভীর ক্ষত চিহ্ন রয়েছে। অকথ্য অত্যাচারের পর তাদের খুন করা হয় বলে অভিযোগ।
ডাইনি সন্দেহে মারধরের বা খুনের ঘটনা ওড়িশায় এর আগেও হয়েছে। কয়েকমাস আগেই ওড়িশার ইন্দুপুর গ্রামে ডাইনি সন্দেহেই মহিলার উপর অকথ্য অত্যাচার চলে। গ্রাম থেকে তাড়িয়েও দেওয়া হয় মহিলাকে। সেই ঘটনার পর আবার একই বর্বরতা। গোটা ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। কারণ, মহিলার স্বামী জানাচ্ছেন, এর আগেও অনেকবার গ্রামবাসীরা তাদের হুমকি দেয়। প্রাণে মারার ভয়ও দেখানো হয়। সেই সময় অভিযোগ জানালেও পুলিশ তা গ্রাহ্য করেনি। তবে ঘটনায় ছয় অভিযুক্ত ছাড়াও আরও অনেকেই জড়িত। তদন্তে পুলিশ।
পড়ুন-
https://www.four.suk.1wp.in/news-sports-joby-justin-brings-back-alvitos-memory-in-derby-after-15-years/