শুক্রবার সন্ধেয় নবান্ন-সহ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের অন্দরমহলে তা নিয়েই এখন রুদ্ধশ্বাস কৌতূহল রয়েছে।

নগরপাল মনোজ ভার্মা
শেষ আপডেট: 30 January 2026 20:00
আগামী মঙ্গলবার ৩ ফ্রেব্রুয়ারি সুপ্রিম কোর্টে ফের আই প্যাক ( I PAC Supreme Court) মামলার শুনানি রয়েছে। তার আগে স্বাভাবিক নিয়মে রাজ্য পুলিশের ডিরেক্টর জেনারেল পদ থেকে অবসর নিচ্ছেন রাজীব কুমার (Rajeev Kumar)। কিন্তু তার চেয়েও বড় কৌতূহলের বিষয় হল, সুপ্রিম কোর্টে শুনানির আগে কি কলকাতা পুলিশের নগরপাল পদ থেকে সিনিয়র আইপিএস অফিসার মনোজ ভার্মাকেও সরিয়ে দেওয়া হবে? শুক্রবার সন্ধেয় নবান্ন-সহ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) সরকারের অন্দরমহলে তা নিয়েই এখন রুদ্ধশ্বাস কৌতূহল রয়েছে।
জানিয়ে রাখা দরকার, আই প্যাক মামলায় রাজ্য পুলিশের ডিজি পদ থেকে রাজীব কুমার ও কলকাতার পুলিশ কমিশনার পদ থেকে মনোজ ভার্মাকে সাসপেন্ড করার ব্যাপারে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জানিয়ে রেখেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট তথা ইডি। এ বিষয়ে কলকাতা হাইকোর্টে অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল এসভি রাজু এবং সুপ্রিম কোর্টে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেটা জোরদার সওয়াল করেছিলেন।
মামলার পরবর্তী শুনানি হবে মঙ্গলবার। তার আগে এমনিই রাজীব কুমার ডিজি পদ থেকে অবসর নিয়ে নেবেন। সেই সঙ্গে মনোজ ভার্মা কমিশনার পদ থেকে সরিয়ে দিলে তা হবে নবান্নের কৌশলগত পদক্ষেপ। কারণ, এর পর যদি সুপ্রিম কোর্ট কোনও কঠোর রায় দেয়, তা রাজ্য পুলিশের ডিজি বা কলকাতা পুলিশের কমিশনারের বিরুদ্ধে হবে না। তা হবে দুই সিনিয়র আইপিএস অফিসারের বিরুদ্ধে।
এর আগে আরজি কর কাণ্ডের সময়ে আন্দোলনরত চিকিৎসকদের দাবি মেনে কলকাতার পুলিশ কমিশনার পদ থেকে বিনীত গোয়েলকে সরাতে বাধ্য হয়েছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার মানে এই নয় বিনীতের গুরুত্ব কমে গেছিল বা গেছে। তাঁকে গুরুত্বপূর্ণ পদের দায়িত্ব দিয়ে এবং আগামী দিনে আরও বড় ‘রিওয়ার্ডের’ আশ্বাস দিয়েই সরানো হয়। এবারও মনোজ ভার্মাকে শেষমেশ কলকাতার পুলিশ কমিশনার পদ থেকে সরানো হলে তা তাঁর পদস্খলন ভাবলে ভুল হবে। কারণ, মনোজ ভার্মা নিষ্ঠাবান পুলিশ কর্তা। সেই সম্মান দিয়ে তাঁকে যথাযোগ্য পদে বদলি করা হতে পারে।
গত ৮ জানুয়ারি আই প্যাকের ডিরেক্টর প্রতীক জৈনের বাড়িতে ইডি যখন তল্লাশি চালায় তখন মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সেখানে গিয়েছিলেন রাজ্য পুলিশের ডিজি ও কলকাতার পুলিশ কমিশনার। তদন্তে বাধা দেওয়ার ব্যাপারে তাঁদের বিরুদ্ধেও অভিযোগ তুলেছে ইডি। তবে সরকারের আইনজীবীদের বক্তব্য, মুখ্যমন্ত্রী জেড প্লাস সিকিউরিটি পান, তাই তাঁর সঙ্গে দুই সিনিয়র পুলিশ কর্তা যেতেই পারেন।
এখন দেখার ৩ ফেব্রুয়ারি সুপ্রিম কোর্টে মামলা কোন পথে এগোয়।