লক্ষ্মীবারের এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্য ও কলকাতা পুলিশের (Kolkata police) একাধিক উচ্চপদস্থ আধিকারিক। ছিলেন অ্যাডিশনাল ডিরেক্টর জেনারেল, পুলিশ কমিশনার, অ্যাডিশনাল পুলিশ কমিশনার, ডেপুটি কমিশনার-সহ বিভিন্ন দফতরের শীর্ষ আধিকারিকেরা।

ভারপ্রাপ্ত ডিজি রাজীব কুমার
শেষ আপডেট: 29 January 2026 14:55
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ৩১ জানুয়ারি অবসর নিচ্ছেন তিনি (Rajeev Kumar)। পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক প্রশাসনিক ইতিহাসে রাজীব কুমার (DG Rajeev Kumar Farewell) এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নাম। বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত ডিরেক্টর জেনারেল অফ পুলিশ (ডিজিপি)-র দায়িত্বে থাকা রাজীব কুমারের বিদায় সংবর্ধনা হয়ে গেল বৃহস্পতিবার।
লক্ষ্মীবারের এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্য ও কলকাতা পুলিশের (Kolkata police) একাধিক উচ্চপদস্থ আধিকারিক। ছিলেন অ্যাডিশনাল ডিরেক্টর জেনারেল, পুলিশ কমিশনার, অ্যাডিশনাল পুলিশ কমিশনার, ডেপুটি কমিশনার-সহ বিভিন্ন দফতরের শীর্ষ আধিকারিকেরা।
সহধর্মিণী সঞ্জিতা কুমারকে সঙ্গে নিয়ে অনুষ্ঠানে হাজির হন রাজীব। সংবর্ধনার আগে অনুষ্ঠিত হয় প্যারেড। ব্যাকগ্রাউন্ডে বেজে ওঠে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘আনন্দলোকে মঙ্গলালোকে’। গাড়িতে করে প্যারেড প্রদর্শনের সময় ঘোষণা করা হয় রাজীব কুমারের দীর্ঘ কর্মজীবনের নানা অধ্যায়।
নিজের বক্তব্যে রাজীব কুমার জানান, কর্মজীবনে তাঁকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দফতরের দায়িত্ব সামলাতে হয়েছে। পুলিশের কাজের জন্য কোন গুণ সবচেয়ে জরুরি, সে প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমার মনে হয়, পুলিশের জন্য সবচেয়ে বেশি দরকার সাহস। তবে সাহস মানেই গুলি চালানো নয়। সব সময় নিজের মনের কথা শুনতে হবে। মনই বলে দেয়, আমরা ঠিক করছি না ভুল করছি।”
মাওবাদী সমস্যা মোকাবিলার প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, “এই সমস্যা আমরা সবচেয়ে ভাল ভাবে সামলেছি। একবার নয়, দু’বার এই লড়াইয়ে প্রায় আড়াইশো সহকর্মীকে হারিয়েছি।” পাশাপাশি দুর্গাপুজো কিংবা গঙ্গাসাগর মেলার মতো বিশাল কর্মসূচি কোনও প্রাণহানি ছাড়াই সফল ভাবে সম্পন্ন করার কথাও তুলে ধরেন তিনি। তাঁর কথায়, "এই সাফল্য সম্ভব হয়েছে সকলের যৌথ প্রচেষ্টায়। সিনিয়র অফিসারদের যেমন অবদান রয়েছে, তেমনই অবদান রয়েছে একজন সিভিক ভলান্টিয়ারেরও। কেউ আলাদা নই, আমরা সবাই এক।"
রাজ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে রাজীব কুমার আরও জানান, দেশের অন্য অনেক রাজ্যের তুলনায় পশ্চিমবঙ্গকে বেশি চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়। তাঁর কথায়, “আমাদের রাজ্যের তিনটি আন্তর্জাতিক সীমান্ত রয়েছে— নেপাল, ভুটান ও বাংলাদেশ। ওই দেশগুলিতে কোনও ঘটনা ঘটলে তার প্রভাব আমাদের রাজ্যেও পড়ে।”
২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে তোলপাড় পড়ে গিয়েছিল কলকাতার প্রশাসনিক মহলে। তৎকালীন পুলিশ কমিশনার রাজীব কুমারের বাড়িতে হানা দেয় সিবিআই। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রতিবাদে কলকাতার মেট্রো চ্যানেলে ধর্নায় বসেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেদিন প্রকাশ্যেই তিনি বার্তা দিয়েছিলেন, পুলিশ কর্মীরা তাঁর পাশে রয়েছেন, এবং অন্যায় ভাবে তাঁদের হেনস্থা করতে তিনি কোনওভাবেই দেবেন না।
সময়ের ব্যবধানে সেই ঘটনার রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক তাৎপর্য আরও গভীর হয়েছে। বর্তমানে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে যখন নানা মহলে প্রশ্ন উঠছে, তখন উর্দিধারীদের অবদানকে নতুন করে তুলে ধরলেন রাজীব কুমার। বিদায়লগ্নে তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট বার্তা, রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের ভূমিকা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনই তাঁদের পাশে দাঁড়ানোও জরুরি।