আগামী ৩১ জানুয়ারি তাঁর অবসর। অর্থাৎ হাতে আর মাত্র ২৪ দিন। এই সময়ের মধ্যেই ঠিক করতে হবে—পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের পরবর্তী ডিজি তথা বাংলার প্রধান কোটাল কে হবেন।

রাজীব কুমার
শেষ আপডেট: 7 January 2026 20:00
পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্থায়ী ডিজি (West Bengal DGP) নিয়োগ ঘিরে জট এখনও কাটেনি। এই জটের কেন্দ্রে এখন ঘুরপাক খাচ্ছে একটাই শব্দ— ‘ডেট অব ভেকেন্সি’। প্রশাসনিক মহলের একাংশের মতে, এই প্রশ্নের সন্তোষজনক ব্যাখ্যা না মিললে স্থায়ী ডিজি নিয়োগ ফের বড় বাধার মুখে পড়তে পারে। রাজ্যের হাতে অবশ্য এখনও পুরোপুরি সময় ফুরিয়ে যায়নি।
বর্তমানে রাজ্যের ভারপ্রাপ্ত ডিজি হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন রাজীব কুমার (Rajeev Kumar)। আগামী ৩১ জানুয়ারি তাঁর অবসর। অর্থাৎ হাতে আর মাত্র ২৪ দিন। এই সময়ের মধ্যেই ঠিক করতে হবে—পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের পরবর্তী ডিজি তথা বাংলার প্রধান কোটাল কে হবেন।
কেন আটকে গেল স্থায়ী ডিজি নিয়োগ?
ডিজি পদে নিয়োগের জন্য রাজ্যের পাঠানো প্যানেল ফেরত পাঠিয়েছে ইউপিএসসি (UPSC)। তারা জানিয়েছে, নিয়ম অনুযায়ী আগের স্থায়ী ডিজি অবসর নেওয়ার অন্তত তিন মাস আগে ওই প্যানেল পাঠানো প্রয়োজন ছিল। প্রাক্তন স্থায়ী ডিজি মনোজ মালব্য অবসর নেন ২০২৩ সালের ডিসেম্বর মাসে। সেই হিসেবে ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরেই প্যানেল পাঠানো উচিত ছিল বলে জানানো হয়েছে। এই সময়সীমা মিস করাতেই মূল জট তৈরি হয়েছে। এই অবস্থায় প্রশ্ন উঠছে, বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টে নিয়ে গেলে আদৌ দ্রুত নিষ্পত্তি সম্ভব হবে কি না। প্রশাসনিক মহলের মতে, আদালতে গেলে সময় আরও গড়াতে পারে। আর কেন্দ্রীয় বিধি মানা না হলে স্থায়ী ডিজি নয়, ফের কেবল ভারপ্রাপ্ত ডিজি নিয়োগের পথই খোলা থাকবে।
সুপ্রিম কোর্টে না গিয়েও কি রাস্তা আছে?
নবান্নের অন্দরে আলোচনা, এখনও একটি সম্ভাব্য পথ পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। কারণ রাজ্যের হাতে এমন চার জন সিনিয়র আইপিএস অফিসার রয়েছেন, যাঁদের অবসরের আগে এখনও অনেকটা সময় বাকি। তাঁরা হলেন, অনুজ শর্মা, এন রমেশ বাবু, সঞ্জয় সিং এবং পীযূষ পাণ্ডে।
নিয়ম অনুযায়ী, ডিজি পদে নিয়োগের দিন থেকে অন্তত ছ’মাস চাকরি থাকতে হবে সংশ্লিষ্ট আইপিএস অফিসারের। ১ ফেব্রুয়ারি ধরে হিসেব করলে বর্তমান ভারপ্রাপ্ত ডিজি রাজীব কুমার ছাড়াও রনবীর কুমার, রাজেশ কুমার, দেবাশিস রায়, জগমোহন ও সিদ্ধিনাথ গুপ্তার ক্ষেত্রে সেই শর্ত পূরণ হবে না। ফলে তাঁরা প্যানেলের বাইরে চলে যাবেন।
ইউপিএসসিকে নতুন প্যানেল পাঠালে কী হতে পারে?
প্রশাসনিক সূত্রের দাবি, রাজ্য যদি এখন এই চার জনের নাম দিয়ে নতুন করে প্যানেল ইউপিএসসিকে পাঠায়, তবে নিয়ম মেনেই ডিজি নিয়োগ সংক্রান্ত কমিটি বিষয়টি বিবেচনা করতে পারে। সেই ক্ষেত্রে ইউপিএসসি তিন জনের একটি প্যানেল রাজ্যকে পাঠাবে, আর রাজ্য ওই তিন জনের মধ্য থেকে একজনকে বেছে নিতে পারবে স্থায়ী ডিজি হিসেবে।
স্থায়ী ডিজি নিয়োগের আগে সাধারণত কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিবের নেতৃত্বে একটি বৈঠক হয়। সেখানে থাকেন কেন্দ্রীয় আধাসেনার ডিজি, ইউপিএসসি প্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট রাজ্যের মুখ্যসচিব ও স্থায়ী ডিজি। সেই বৈঠকেই চূড়ান্ত প্যানেল তৈরি হয়।
শেষ পর্যন্ত কোন পথে হাঁটবে রাজ্য?
রাজ্য যদি নতুন করে প্যানেল না পাঠায়, তবে সামনে দু’টি পথ খোলা থাকবে। এক, ইউপিএসসির পরামর্শ মেনে সুপ্রিম কোর্টে যাওয়া। দুই, ফের কোনও অ্যাক্টিং বা অস্থায়ী ডিজি নিয়োগ করা। নবান্ন সূত্রের খবর, দ্বিতীয় পথ বেছে নেওয়া হলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অস্থায়ী ডিজির দায়িত্ব দিতে পারেন পীযূষ পাণ্ডে বা অনুজ শর্মাকে।
সব মিলিয়ে প্রশ্ন একটাই—রাজীব কুমারের অবসরের পর রাজ্যের পরবর্তী ডিজি বা প্রধান কোটাল কে হবেন? আর সেই সিদ্ধান্ত কি সুপ্রিম কোর্টে না গিয়েই নিতে পারবে রাজ্য? উত্তর মিলবে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই।