কলকাতার পুলিশ কমিশনার মনোজ ভার্মা স্পষ্ট করে দিলেন যে, সাধারণ মানুষের সুরক্ষার সঙ্গে কোনও সমঝোতা নয়।

গ্রাফিক্স- দ্য ওয়াল
শেষ আপডেট: 27 September 2025 21:20
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সন্তোষ মিত্র স্কোয়ারের পুজো (DURGAPUJA 2025) নিয়ে ফের বিতর্ক। মূল উদ্যোক্তা তথা বিজেপি নেতা সজল ঘোষ (Sajal Ghosh) অভিযোগ করেছেন, পুলিশ-প্রশাসন মিলে তাঁদের পুজো বন্ধ করতে চাইছে। বারংবার নোটিস পাঠিয়ে হয়রান করা হচ্ছে। এরইমধ্যে কলকাতার পুলিশ কমিশনার মনোজ ভার্মা (CP Manoj Verma) স্পষ্ট করে দিলেন যে, সাধারণ মানুষের সুরক্ষার সঙ্গে কোনও সমঝোতা নয়।
এদিন এক সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে সিপি বলেন, 'ভিড় ২-৩ মিনিট দাঁড়িয়ে গেলে বিপদ হতে পারে। পুজোর আয়োজকদের বুঝতে হবে কীভাবে ভিড় এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। প্ল্যানিং প্রয়োজন। ট্র্যাফিক পুলিশের পাশাপাশি ভিড় নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব আয়োজকদেরও।' একইসঙ্গে তিনি জানিয়ে দেন, মানুষের সুরক্ষা বিঘ্নিত হবে এমন কোনও কাজ করা যাবে না।
সিপি আরও বলেন, 'কারও পুজো নিয়ে কোনও আপত্তি নেই। কিন্তু আয়োজকদের খেয়াল রাখতে হবে সার্কুলেশন যেন ঠিকঠাক থাকে।' নাম না নিয়েই সন্তোষ মিত্র স্কোয়ারের পুজো প্রসঙ্গে মনোজ ভার্মা বলেন, 'কোথাও যদি কোনও বিশৃঙ্খলা দেখি, দর্শনার্থীদের সমস্যার খবর পাই, তবে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'
শনিবার, পঞ্চমীর বিকেলে সাংবাদিক বৈঠক করে সজল ঘোষ বলেন, 'এমন চলতে থাকলে পুজো (DurgaPuja2025) বন্ধই করে দিতে হবে! পুলিশের (Kolkata Police) বিরুদ্ধে মূলত ক্ষোভ উগরে দিয়ে বিজেপি নেতার দাবি, দুর্ঘটনা ঘটিয়ে তার দায় পুজো উদ্যোক্তাদের ওপর চাপানোর পরিকল্পনা চলছে। আর এই কাজ করছে খোদ পুলিশ। সজল জানিয়েছেন, পুজো মণ্ডপ এলাকার ৪০ ফুটের রাস্তায় অকারণে গার্ডরেল বসিয়ে ১৫ ফুট করে দেওয়া হয়েছে। মাঠের পথ রেলিং দিয়ে ঘিরে দেওয়া হয়েছে। এতে সাধারণ দর্শনার্থীদের ওপর চাপ পড়বে, ফলে দুর্ঘটনার আশঙ্কা থেকেই যায়।
এবারের সন্তোষ মিত্র স্কোয়ারের পুজোর থিম - সিঁদুর অভিযান (Operation Sindoor)। তাতে এআই দিয়ে লাইট অ্যান্ড সাউন্ড শো রাখা হয়েছে। কিন্তু সজলের অভিযোগ, পুলিশ এই অডিও-ভিস্যুয়ালই বন্ধ করতে দিতে বলেছে। তাঁর কথায়, ''পুলিশ বলেছে, চালাতে দেবে না নয়, এটা চালানো যাবে না! এমনকী, শোয়ের কর্মীদের জিএসটি কত, সেটাও জানতে চেয়েছে।'' কিছুটা আক্ষেপের সুরে সজল বলেন, পুলিশের সঙ্গে ঝগড়া করে পুজো সম্ভব নয়।
সত্যিই যদি পুলিশের অনুমতি না মেলে, তাহলে কী করবেন সজল ঘোষরা? সাংবাদিক বৈঠকে বিজেপি নেতা স্পষ্ট জানান, ''প্রয়োজনে প্রতিমার মুখ কালো কাপড়ে ঢেকে দেব। আর হয়তো নিরঞ্জনের নির্ধারিত দিন দশমীর আগেই ঠাকুর বিসর্জন দিয়ে দিতে হবে।'' শুধু পুজো নয়, সন্তোষ মিত্র স্কোয়ারের মেলা, বক্স বাজানো নিয়েও পুলিশ আপত্তি জানিয়েছে বলে অভিযোগ করেন সজল।