বিজেপি নেতা বলেন, রাজ্যে ভোরবেলা মাইক বাজলে কোনও অসুবিধা হয় না। অন্য সব জায়গায়, সব প্যান্ডেলে বক্স বাজুক, মেলা বসুক, সমস্যা নেই। কিন্তু সন্তোষ মিত্র স্কোয়ারেই হলেই আপত্তি।

সজল ঘোষ
শেষ আপডেট: 27 September 2025 19:13
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গতবারের মতো এবারও সন্তোষ মিত্র স্কোয়ারের (Santosh Mitra Square) পুজো ঘিরে বিরাট বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। মূল উদ্যোক্তা তথা বিজেপি নেতা সজল ঘোষ (Sajal Ghosh) অভিযোগ করেছেন, পুলিশ-প্রশাসন মিলে তাঁদের পুজো বন্ধ করতে চাইছে। বারংবার নোটিস পাঠিয়ে হয়রান করা হচ্ছে। শনিবার, পঞ্চমীর বিকেলে সাংবাদিক বৈঠক করে সজল ঘোষ এও বলেন, এমন চলতে থাকলে পুজো (DurgaPuja2025) বন্ধই করে দিতে হবে!
পুলিশের (Kolkata Police) বিরুদ্ধে মূলত ক্ষোভ উগরে দিয়ে বিজেপি নেতার দাবি, দুর্ঘটনা ঘটিয়ে তার দায় পুজো উদ্যোক্তাদের ওপর চাপানোর পরিকল্পনা চলছে। আর এই কাজ করছে খোদ পুলিশ। সজল জানিয়েছেন, পুজো মণ্ডপ এলাকার ৪০ ফুটের রাস্তায় অকারণে গার্ডরেল বসিয়ে ১৫ ফুট করে দেওয়া হয়েছে। মাঠের পথ রেলিং দিয়ে ঘিরে দেওয়া হয়েছে। এতে সাধারণ দর্শনার্থীদের ওপর চাপ পড়বে, ফলে দুর্ঘটনার আশঙ্কা থেকেই যায়।
এবারের সন্তোষ মিত্র স্কোয়ারের পুজোর থিম - সিঁদুর অভিযান (Operation Sindoor)। তাতে এআই দিয়ে লাইট অ্যান্ড সাউন্ড শো রাখা হয়েছে। কিন্তু সজলের অভিযোগ, পুলিশ এই অডিও-ভিস্যুয়ালই বন্ধ করতে দিতে বলেছে। তাঁর কথায়, ''পুলিশ বলেছে, চালাতে দেবে না নয়, এটা চালানো যাবে না! এমনকী, শোয়ের কর্মীদের জিএসটি কত, সেটাও জানতে চেয়েছে।'' কিছুটা আক্ষেপের সুরে সজল বলেন, পুলিশের সঙ্গে ঝগড়া করে পুজো সম্ভব নয়।
বিজেপি নেতার এও অভিযোগ, পুজো বন্ধ করতে রাজনৈতিক নেতাদের একাংশও জড়িত। তাই বারবার চিঠি দেওয়া হচ্ছে। সজল জানান, ফের পুলিশ চিঠি দিলে পুজো বন্ধ করে দেওয়া ছাড়া আর কিছু করার নেই। তিনি বলছেন, তাঁদের পুজোর জন্য অডিও-ভিডিও শোটাই আসল। সেটা না চালাতে দিলে পুজো বন্ধ করে দেবেন তাঁরা। তবে সেটির অনুমতি দিলে পুজো মণ্ডপ খোলা রাখা হবে, বাকি কিছুতে অসহযোগিতা থাকলেও।
সজলের কটাক্ষ, এভাবে পুলিশের সঙ্গে লড়াই করে পুজো চালানো সম্ভব নয়। আমজনতার কথা তুলে ধরে তিনি এও মনে করান, যেখানে ৭০০ মিটার হাঁটলে মণ্ডপে যাওয়া যায়, সেখানে প্রায় সাড়ে ৩ কিলোমিটার হাঁটাচ্ছে পুলিশ।
সত্যিই যদি পুলিশের অনুমতি না মেলে, তাহলে কী করবেন সজল ঘোষরা? সাংবাদিক বৈঠকে বিজেপি নেতা স্পষ্ট জানান, ''প্রয়োজনে প্রতিমার মুখ কালো কাপড়ে ঢেকে দেব। আর হয়তো নিরঞ্জনের নির্ধারিত দিন দশমীর আগেই ঠাকুর বিসর্জন দিয়ে দিতে হবে।'' শুধু পুজো নয়, সন্তোষ মিত্র স্কোয়ারের মেলা, বক্স বাজানো নিয়েও পুলিশ আপত্তি জানিয়েছে বলে অভিযোগ করেন সজল। নিশানায় নেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে।
বিজেপি নেতা বলেন, রাজ্যে ভোরবেলা মাইক বাজলে কোনও অসুবিধা হয় না। অন্য সব জায়গায়, সব প্যান্ডেলে বক্স বাজুক, মেলা বসুক, সমস্যা নেই। কিন্তু সন্তোষ মিত্র স্কোয়ারেই হলেই আপত্তি।