২০২৫–২৬ সালের কেন্দ্রীয় বাজেটে পশ্চিমবঙ্গের জন্য ১০০ দিনের খাতে কোনও বরাদ্দই নেই। অর্থাৎ, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ (Supreme Court Order) মানতে গেলে কেন্দ্রকে এখন লোকসভায় সাপ্লিমেন্টারি বাজেট (Lok Sabha Supplementary Budget) এনে নতুন বরাদ্দ অনুমোদন করাতে হবে।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং নরেন্দ্র মোদী
শেষ আপডেট: 19 November 2025 18:27
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সুপ্রিম কোর্ট পরিষ্কার নির্দেশ (Supreme Court Order) দিয়ে জানিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গে ‘১০০ দিনের কাজ’ (MGNREGA) অবিলম্বে চালু করুক কেন্দ্র, আটকে রাখা টাকা ছাড়ুক। কিন্তু রায় ঘোষণার পর দুই সপ্তাহের বেশি কেটে গেলেও কেন্দ্রীয় গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রক কার্যত চুপ। সূত্রের খবর, তবে একটা চিঠি পাঠিয়ে পুরনো কিছু তথ্য যাচাই করতে চেয়েছে মাত্র। যা থেকে নবান্ন মনে করছে, এসব করে যাতে টাকা দিতে আরও সময় অপচয় করা যায় তারই চেষ্টা চালাচ্ছে কেন্দ্র।
কিন্তু কেন এই নীরবতা? কয়েকটি ইঙ্গিত স্পষ্ট হয়ে উঠছে -
আসলে শেষ বাজেটে বাংলার জন্য একশো দিনের কাজ প্রকল্পে (MGNREGA) বরাদ্দ শূন্য। ২০২৫–২৬ সালের কেন্দ্রীয় বাজেটে পশ্চিমবঙ্গের জন্য ১০০ দিনের খাতে কোনও বরাদ্দই নেই। অর্থাৎ, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ (Supreme Court Order) মানতে গেলে কেন্দ্রকে এখন লোকসভায় সাপ্লিমেন্টারি বাজেট (Lok Sabha Supplementary Budget) এনে নতুন বরাদ্দ অনুমোদন করাতে হবে। বড় কথা হল, এই প্রক্রিয়া রাজনৈতিক সদিচ্ছা ছাড়া সম্ভব নয়। কিন্তু পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, কেন্দ্র স্পষ্টতই সেই পথে হাঁটছে না।
গ্রামীণ কর্মসংস্থান নিশ্চয়তা আইনে (NREGA Act, 2005) বলা আছে, রাজ্য যতই শাস্তিমূলক পদক্ষেপের মুখে থাকুক না কেন—পরিশ্রমিক আটকে রাখা যাবে না। কিন্তু কেন্দ্র ২০২১ সাল থেকে অভিযোগ তুলে বাংলার টাকা আটকে রেখেছে। সুপ্রিম কোর্ট রায় দিয়েছে, “কাজ বন্ধ রেখে টাকা আটকে রাখা বেআইনি।” তবুও কেন্দ্রের নিষ্ক্রিয়তা প্রশ্ন তুলছে, আইন না কি রাজনীতি—কোন যুক্তিতে চলছে MGNREGA?
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে—সুপ্রিম কোর্টের রায় কার্যকর না করলে এটি স্পষ্ট আদালত অবমাননা। ইতিমধ্যেই কৃষক ও ক্ষেত-মজুর সংগঠনের একাংশ হুঁশিয়ারি দিয়েছে—কেন্দ্রীয় দফতরের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার মামলা দায়ের করা হবে। এদিকে পঞ্চায়েত দফতরের সূত্র জানাচ্ছে—রায়ের পরে রাজ্য বারবার কেন্দ্রকে বৈঠকের প্রস্তাব পাঠালেও কোনও ‘পজিটিভ কমিউনিকেশন’ নেই। দিল্লি এ ব্যাপারে চুপ করে বসে আছে।
বুধবার শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) অভিযোগ তুলেছেন যে— “১০০ দিনের দুর্নীতি করেছে রাজ্য।” কিন্তু পাল্টা প্রশ্ন উঠেছে—যখন দেশের সর্বোচ্চ আদালত স্পষ্টতই কাজ শুরু করার নির্দেশ দিয়েছে, তখন কেন্দ্র কেন থেমে আছে? রাজনৈতিক লড়াই কি আদালতের নির্দেশের ওপরে চলে যাচ্ছে?
এক নজরে কিছু তথ্য -
* বাংলায় প্রায় ২.৭ কোটি নিবন্ধিত MGNREGA কর্মী রয়েছে।
* পুরনো প্রায় ৭,৫০০ কোটি টাকার বেশি বিল আটকে আছে যা রাজ্যের প্রাপ্য।
* ২০২১ থেকে এখন পর্যন্ত ‘আইনবহির্ভূত বিলম্বে’ বাংলার গ্রামাঞ্চলে ওয়ার্কডেজ কমে হয়েছে ৭০%
এমজিএনআরইজিএ শুধু কাজ নয়—এটি গ্রামীণ পরিবারের লাস্ট সেফটি নেট। ফসল নষ্টের সময়, বন্যা-খরা, বাজারদর পড়ে গেলে এই প্রকল্পই পরিবারকে বাঁচায়। কাজ বন্ধের ফলে গ্রামে গ্রামে বাড়ছে ঋণের বোঝা, দারিদ্র ও পলায়ন তথা মাইগ্রেশন।
সবমিলিয়ে বড় প্রশ্ন—সুপ্রিম কোর্ট যখন চূড়ান্ত নির্দেশ দিয়েছে, তখন কেন্দ্র কেন প্রকল্প চালু করছে না? অর্থের অভাব, নাকি রাজনৈতিক বিবাদ—কোনটি আসল বাধা?